খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

নিবন্ধনরাই পাবে ২০১৮ সেশনের প্রাথমিকের বই : ডিপিইও

নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে কিন্ডার গার্টেন : নীতিমালার প্রয়োগ নেই

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

নীতিমালা উপেক্ষা করে নগরীতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠছে কিন্ডার গার্টেন। প্রতি বছর এর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৮ সেশনে কার্যক্রম শুরুতে নতুন ১০টির অধিক কিন্ডার গার্টেন প্রচারণা চালাচ্ছে শুধুমাত্র নগরীতে। তবে নগরীসহ খুলনাতে কিন্ডার গার্টেনের সঠিক সংখ্যা জানেন না কেউ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ছাড়াও কিন্ডার গার্টেন মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশন বলছে এর কোন সঠিক সংখ্যা নেই তাদের কাছে। নাম পরিচয়হীন এবং রেজিস্ট্রেশন বিহীন এসব কিন্ডার গার্টেনে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উপকারের চেয়ে ক্ষতি করছে বেশি বলে মত শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় শুধুমাত্র শহরেই আছে শতাধিক কিন্ডার গার্টেন। আর খুলনায় জেলায় এ সংখ্যা দেড় শতাধিক। তবে জেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের ব্যানারে খুলনায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে ৯৪টি প্রতিষ্ঠান। দেখা গেছে শুধুমাত্র খুলনায় ২০১৮ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে কার্যক্রম শুরুর লক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে ১০টি কিন্ডার গার্টেন। তবে মাত্র ৩০টি কিন্ডার গার্টেন নীতিমালা মেনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে। যাদের বেশির ভাগই আবার নীতিমালার বিভিন্ন ধারা বাতিল চেয়ে আন্দোলনে নেমেছে।
২০১১ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশের কিন্ডার গার্টেনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে। নীতিমালায় বর্ণিত বিভিন্ন ক্যাটাগরি পূর্ণ করে নিবন্ধন নিতে বলা হয় এসব কিন্ডারগার্টেনকে।
নীতিমালায় কিন্ডার গার্টেনগুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাস, স্থায়ী অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ জাতীয় দিবস পালনসহ বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়।
জানা গেছে নগরীতে কার্যক্রম চলমান কিন্ডার গার্টেনের ৯৫ শতাংশেরই নিজস্ব ক্যাম্পাস নেই। কোথাও একটি ফ্লোর, আবার কোথায় ২ থেকে ৩টি রুম ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চলছে। এদের বেশির ভাগেই নেই অভিজ্ঞ কোন শিক্ষক। মাত্র ১ হাজার ৫শ’ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন কলেজ পড়–য়া মেয়েদের শিক্ষক হিসেবে নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এসব কিন্ডার গার্টেন। কোনটি প্লে গ্র“প থেকে ২য় শ্রেণী আবার কোনটি চলছে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত। এসব কিন্ডার গাটের্নের বেশির ভাগই বিকেলে কোচিং সেন্টারে রূপ নেয়। সোনাডাঙ্গা আবাসিক, নিরালা আবাসিক, খালিশপুরসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকা টার্গেট করে গড়ে উঠছে এসব কিন্ডার গার্টেন।
শিক্ষাবিদরা বলছেন কিন্ডার গার্টেনের নামে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার চাইতে নিজেদের ব্যবসায়ের গুরুত্ব দেয় বেশি। সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক শিক্ষাবিদ প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী সময়ের খবরকে বলেন শিক্ষার নামে ব্যবসা করা এসব কিন্ডারগার্টেনের শিশুদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়ছে। এতে কচি শিক্ষার্থীরা দেশের মূল্যবোধ ও জাতীয় দিবস সম্পর্কেও তেমন কিছু শিখছে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে নীতিমালায় আনতে বাধ্য করতে হবে। স্ব-ইচ্ছায় না আসলে অভিযোগের ভিত্তিতে নাম সর্বস্ব ভূঁইফোর প্রতিষ্ঠানগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যেতে পারে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রামেন্দ্রনাথ পোদ্দার বলেন সরকার কিন্ডারগার্টেনগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সেই নীতিমালার আওতায় নিবন্ধন না নিয়ে নিজেদের খেয়াল খুশিমত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। তিনি আরও বলেন, খুলনায় কিন্ডারগার্টেনের কোন মা বাবা নেই। যে সকল কিন্ডারগার্টেন আবেদন করেছে নিবন্ধনের জন্য, শুধুমাত্র তাদেরকেই ২০১৮ সেশনে প্রাথমিকের বই দেয়া হবে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১৫







পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫৯





ব্রেকিং নিউজ