খুলনা | সোমবার | ২২ জানুয়ারী ২০১৮ | ৯ মাঘ ১৪২৪ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

শহীদ সাংবাদিক সাতক্ষীরার খোন্দকার আবু তালেব

কাজী মোতাহার রহমার | প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৯:০০

স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের খ্যাতিমান এক সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেব। ১৯৭১ সালে ২৯ মার্চ ঢাকার মিরপুরে নিজের বাড়ির কাছেই শহীদ হন তিনি। একজন উর্দুভাষী অবাঙালি সহকর্মী আবদুল হালিমের বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছিলেন খোন্দকার আবু তালেব। মিরপুরে পাকিস্তানি দোসররা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। সাতক্ষীরা’র সদর থানার সাতানি গ্রাম। ১৯২১ সালের ২৩ মার্চ এই গ্রামেই জন্ম খোন্দকার আবু তালেবের। তাঁর বাবার নাম খোন্দকার আবদুর রউফ। মা রোকেয়া খাতুন। এগারো সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছিলেন খোন্দকার আবু তালেব। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় তাঁর দায়িত্বও ছিল বেশি। বাবা’র আয়-রোজগার ভালো ছিল না। সংসার চালাতে তিনি হিমশিম খাচ্ছিলেন। তিনি চাইতেন বড় সন্তান সংসারের দায়িত্ব কিছুটা গ্রহণ করুক; আয়-রোজগার করুক। ছেলে খুব বেশি লেখাপড়া করুক তা তিনি চাইতেন না। তবে মা চাইতেন, তালেব লেখাপড়া করুক। মায়ের উৎসাহেই তিনি লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী হন। তবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে তাঁকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। লেখাপড়ার জন্য গ্রামে অন্যের বাড়িতে জায়গির থাকতে হয়েছে। জায়গিরবাড়ির নানা কাজে সাহায্য করতে হয়েছে। ১৯৪৪ সালে তিনি সাতক্ষীরা পিএন হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ম্যাট্রিক পাস করেন। এরপর খোন্দকার আবু তালেব পাড়ি জমান কলকাতায়; ভর্তি হন রিপন কলেজে। একই সঙ্গে চাকুরি নেন ক্যাম্বেল হাসপাতালে; কেরানির চাকুরি। দিনের বেলা চাকুরি; রাতের বেলা কলেজে ক্লাস। ১৯৪৬ সালে আই. এ পাস করেন তিনি। দেশভাগের পর তিনি চলে আসেন ঢাকা’য়। এখানেও লেখাপড়ার পাশাপাশি চলে চাকুরি। ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বি.কম ডিগ্রি অর্জন করেন আর পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। পরে ১৯৫৬ সালে তিনি এল. এল. বি ডিগ্রিও নিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এড. হিসেবে সনদও নিয়েছিলেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি ঢাকা’র বিভিন্ন দৈনিকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোনো না কোনো সময়। অবশ্য সাফল্য তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়নি; সেজন্য তাঁকে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। প্রথমে কাজ শুরু করেন দৈনিক আজাদে সহ-সম্পাদক হিসেবে। দীর্ঘ সময় কাজ করেন দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। পরে যোগ দেন দৈনিক সংবাদে। প্রায় পাঁচবছর কাজ করেন সংবাদে সহ-সম্পাদক হিসেবে। এরপর যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে চিফ রিপোর্টার হিসেবে। এই সময় রিপোর্টিংয়ের পাশাপাশি দৈনিক ইত্তেফাকে ‘লুব্ধক’ ছদ্মনামে নিয়মিত কলাম লিখতেন। ‘খোশনবিশ’ ছদ্মনামে ‘দে গরুর গা ধুইয়ে’ শিরোনামেও কলাম লিখতেন তিনি। ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তানে ফাতেমা জিনড়বাহ বনাম আইয়ুব খানের ভোটযুদ্ধের সময় ‘বাউন্ডুলে’ ছদ্মনামে ‘ভোটরঙ্গ’ শিরোনামে কলাম লিখে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সরকার দৈনিক ইত্তেফাক বন্ধ করে দিলে সান্ধ্য দৈনিক আওয়াজ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন। দৈনিক আওয়াজ প্রকাশ করেছিলেন আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী এবং এর সম্পাদকও ছিলেন। দৈনিক আওয়াজে নিয়মিত কলাম লিখতেন খোন্দকার আবু তালেব। ‘কাগজের মানুষ’ শিরোনামে প্রকাশিত এই কলামটি ছিল সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের নিয়ে। দৈনিক আওয়াজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১৯৬৯ সালে আবার দৈনিক ইত্তেফাকে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ তাঁকে আর পুনর্বহাল করেনি। এই সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইন উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। একই সঙ্গে দৈনিক পয়গাম পত্রিকায় ফিচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আর ‘কাগজের মানুষ’ শীর্ষক কলামটি তিনি আবার লেখা শুরু করেন দৈনিক পয়গামে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংবাদপত্রের কোর্ট রিপোর্টার হিসেবেও কাজ করেন। সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেব দৈনিক আজাদ থেকে সংবাদ এবং সংবাদ থেকে দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ শুরু করার মাঝে অল্প সময়ের জন্য দৈনিক ইনসাফ, পাকিস্তান অবজারভার, মর্নিং নিউজ এবং দৈনিক ইত্তেহাদেও কাজ করেন।
খোন্দকার আবু তালেব সাংবাদিক হিসেবে প্রধানত কাজ করেছেন মুদ্রণ মাধ্যমে। তবে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রে অনুষ্ঠান করেও সুখ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি ‘ইসরাফিল’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করতেন। পরে ‘সাময়িকী’ ও ‘প্রত্যয়’ শিরোনামে দু’টি অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা করতেন। ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান দু’টি একটানা প্রচারিত হয়। সব ক’টি অনুষ্ঠানই ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়।
স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনা লগ্নে খোন্দকার আবু তালেব এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রান্তিকে সিরাজুদ্দীন হোসেন শহীদ হন। এক সময় এই তিনজনই ছিলেন সংবাদপত্র জগতের অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। সিরাজুদ্দীন হোসেনের মেধাবী নিউজ এডিটরশিপ, খোন্দকার আবু তালেবের দক্ষ রিপোর্টিং আর জনপ্রিয় কলাম এবং তোহা খানের অসাধারণ অনুবাদ ও সাবিং সংবাদপত্র জগতের ঈর্ষণীয় বিষয় ছিল। আপসহীন সাংবাদিক নেতা ছিলেন খোন্দকার আবু তালেব। বাংলাদেশের সাংবাদিক ইউনিয়নের জন্ম ও বিকাশের জন্য যাঁদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে আছে, তাঁদের মধ্যে একজন তিনি। ১৯৬১-৬২’ সালেই তিনি পূর্ব পাকিস্তান সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনে সমর্পিত এই নিষ্ঠাবান ও সাহসী মানুষটি বারবার সংগ্রাম করে গেছেন সাংবাদিকদের স্বার্থসংরক্ষণের জন্য। সাংবাদিক-সহকর্মীদের প্রতি ছিল তাঁর অগাধ ভালোবাসা।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরকার কিংবা মালিকপক্ষের অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতেন তিনি। শুধু সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা হিসেবে নয়, আইনজীবী হিসেবেও। সাংবাদিকদের পক্ষে অনেকবার কোর্টে দাঁড়িয়েছেন তিনি। খোন্দকার আবু তালেবের বাড়ি ছিল মিরপুরে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৩ নম্বর বাড়িটি তাঁর। আর বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী একটি বিশাল চক্রের বসতি ছিল মিরপুরে। সেখানে বেশির ভাগ বাসিন্দাই ছিল বিহারি। ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার আগে থেকেই মিরপুর এলাকার বিহারিরা স্থানীয় বাঙালিদের নানা হুমকি দিয়ে আসছিল। ১০ নম্বর সেকশনের এ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়িতে ছিল বিহারিদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদারে মিল্লাত উর্দু মিডিয়াম স্কুল। পাকিস্তান সরকার ২৩শে মার্চকে পাকিস্তান দিবস ঘোষণা করে। বিপরীতে ঐদিনকে বাঙালিরা শোক দিবস ঘোষণা করে। এরই অংশ হিসেবে বাঙালিদের পক্ষ থেকে গোপনে মাদারে মিল্লাত উর্দু মিডিয়াম স্কুলে বাংলাদেশের পতাকা অর্ধনমিত করে তোলা হয় এবং একই সঙ্গে কালো পতাকাও তোলা হয়। এতে আরও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে মিরপুরের বিহারিরা।
আতঙ্কে বাঙালিরা দলে দলে মিরপুর ছাড়তে থাকে। ২৪শে মার্চ খোন্দকার আবু তালেবের পরিবারের সকলকে পাঠিয়ে দেন চামেলীবাগে তাঁর বোনের বাসায়। নিজে রয়ে যান মিরপুরে। উদ্দেশ্য পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখা। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বয়ং তাঁকে মিরপুরে থেকে সেখানের খবরাখবর জানাতে বলেছেন। কিন্তু রাতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বিভিন্ন স্থানে বোমা ফাটাতে থাকে বিহারিরা। ভাঙচুরও করে। ২৫শে মার্চ সকালে খোন্দকার আবু তালেব চামেলীবাগ যান বোনের বাসায়। মিরপুরের অবস্থা সকলকে জানান তিনি। সেখানের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তখন ছিলেন খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আরও খোঁজখবর নিতে তিনি আবার ফিরে যেতে চান মিরপুরে। কিন্তু পরিবারের সকলের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত আপাতত মিরপুরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে মিরপুর থেকে চলে আসার পর থেকেই খোন্দকার আবু তালেবের স্ত্রী কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন।
বিহারিদের নিষ্ঠুরতা এবং ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। বিকেলে খোন্দকার আবু তালেব যান বন্ধু ও সহকর্মী দৈনিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক সিরাজুদ্দীন হোসেনের বাসায়। ফেরেন রাত ১০টার পর। বাসায় ফেরার এক-দেড় ঘন্টার মধ্যেই পাকিস্তান বাহিনী আক্রমণ করে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। কানে আসতে থাকে স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন অস্ত্রের বিকট শব্দ। খোন্দকার আবু তালেবের বোনের বাসাটি ছিল পুলিশ লাইনের একেবারে পাশেই। মাঝখানে শুধু কাঁটাতারের বেড়া। তাই সবই ঘটছিল চোখের সামনে। সারারাত চলে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। সকালের দিকে গোলাগুলির শব্দ কিছুটা কমে আসে। বাসার লোকজন উঁকি দিয়ে দেখে বাড়ির চারিদিকে পুলিশের ফেলে যাওয়া রাইফেল, পিস্তল, রিভলবার, গুলি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে আছে। ভীত হয়ে পড়েন বাড়ির লোকজন।
পাকিস্তানি বাহিনীর লোকরা এসব দেখলে বাড়িতে আক্রমণ করে বসতে পারে। তাই বাড়ির সকলে মিলে সব অস্ত্র কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে ফেলে আসে। অস্ত্র- গোলাবারুদ ফেলে এসেও স্বস্তি পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই দেয়াল টপকে সকলে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ২৬শে মার্চ সারাদিন-সারারাত পাশের বাড়ির একটি ঘরে গাদাগাদি করে কাটিয়ে দিতে হয় সকলকে। আতঙ্কে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে সাহস করেননি। কারফিউ শিথিল হলে ২৭ মার্চ খোন্দকার আবু তালেব সকলকে নিয়ে ফিরে আসেন বোনের বাসায়। কারফিউ শুরু হলে আবার
গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। ২৮ মার্চ ভোর ছ’টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়। সেদিন সকাল বেলা সুযোগ পেয়ে খোন্দকার আবু তালেব ছুটে যান ইত্তেফাক অফিসের পরিস্থিতি দেখার জন্য। ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী ইত্তেফাক ভবন বোমা মেরে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তিনি সেখানে কয়েকটি পোড়া লাশ দেখতে পান। কিন্তু কাউকে চেনার উপায় ছিল না। মৃত এই সহকর্মীদের জন্য বুক ভারি হয়ে আসে তাঁর। বেদনাহত মন নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।
মিরপুরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে ওঠেন খোন্দকার আবু তালেব।  কোনো এক দুনির্বার আকর্ষণে কিংবা নিয়তির অমোঘ টানে তিনি ২৯শে মার্চ ছুটে যান মিরপুরে। আপনজনদের বাধা তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। বন্ধুদের নিষেধ তিনি শোনেননি। বন্ধুদের তো সবসময়ই বলতেন : ‘আমার কিচ্ছু হবে না। ওরা আমাকে চেনেই। আমি তো ওদের কোনো ক্ষতি করিনি।’ ঐদিনের ঘটনা সম্পর্কে খোন্দকার আবু তালেবের মেয়ে সখিনা খোন্দকার বলেন :
সেদিন ২৯শে মার্চ, আব্বা যাচ্ছিলেন অফিসের দিকে। পথে ইত্তেফাকের অবাঙালি চিফ এ্যাকাউন্ট্যান্ট আবদুল হালিমের সঙ্গে দেখা হয় আব্বার। হালিম তাঁকে গাড়িতে করে নিয়ে যান মিরপুরে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মিরপুর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন জহির খান। আব্বা তাঁকে সমর্থন করেছিলেন। এ কারণে অবাঙালিদের আক্রোশ ছিল আব্বার ওপর। আবদুল হালিম আব্বাকে মিরপুরে এনে কাদের মোল্লার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। তারপরের ইতিহাস আর বলতে চাই না। আমার আব্বার ক্ষত-বিক্ষত লাশ আমি আর দেখিনি। দেখতে চাইওনি। শুধু বুঝেছি, আমাদের এতিম করে দেওয়া হলো। চিরচেনা মিরপুর থেকে চিরদিনের মতো হারিয়ে যান সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেব। ভয়াবহ এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে যান অপ্রকৃতিস্থ স্ত্রী রাবেয়া খাতুন এবং তিনটি শিশুসন্তানকে।
একাত্তরে পুড়িয়ে দেওয়ার পর শহীদ সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেবের বাড়িটি অবাঙালিদের দখলে চলে যায়। স্বাধীনতা-উত্তরকালে তাঁর পরিবার অনেক কষ্টে উদ্ধার করে মিরপুরের বাড়িটি। বাড়ি ফিরে পাওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁর পরিবারকে।
খোন্দকার আবু তালেবের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখার জন্য মিরপুরে গড়ে তোলা হয় শহীদ আবু তালেব উচ্চবিদ্যালয়। ঢাকার মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই বিদ্যালয়টি। জাতীয় জাদুঘরে ‘মুক্তিযুদ্ধ, ৪৭, ৪৮ ঐতিহাসিক দলিলাদি ও কৃতীসন্তান’ শীর্ষক গ্যালারিতে শহীদ সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেবের স্মৃতিবিজড়িত নিদর্শনসমূহ সংরক্ষিত আছে। প্রতিদিন অগণিত দর্শক তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাচ্ছে। ঘটনার ৪১ বছর পর ২০১২ সালের ২৮শে মে শহীদ সাংবাদিক খোন্দকার আবু তালেব হত্যাকান্ডের বিচার শুরু হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত হন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা।


    

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

যেখানে ৭১ কথা বলে

যেখানে ৭১ কথা বলে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২৬

একাত্তরের খুলনা বিজয়

একাত্তরের খুলনা বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২২


পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২১



যুদ্ধকালীন স্মৃতি

যুদ্ধকালীন স্মৃতি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৭

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৪

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫




ব্রেকিং নিউজ