খুলনা | শুক্রবার | ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়গাঁথা দু’টি সংবাদ

বি. হোসেন | প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৭:০০

মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয়গাঁথা দু’টি সংবাদ

খুলনার যে কোন স্থানে মুক্তিফৌজ আঘাত হানিতে সক্ষম
মুক্তিযুদ্ধ, ২২ আগস্ট, ১৯৭১ খুলনার মুক্তিফৌজের তৎপরতা সম্প্রতি বিপুলভাবে বৃদ্ধি পাইয়াছে। কোন জায়গাই যে মুক্তিফৌজের দুঃসাহসী গেরিলাদের অগম্য নয় উহার প্রকৃষ্ট প্রমান খুলনা শহরে সদর ডাকবাংলোতে তথাকথিত শান্তি কমিটির বৈঠকে বোমা বিস্ফরণ। মুক্তিযোদ্ধারা ইয়াহিয়ার দালালদের উপর অতর্কিত আক্রমণ চালাইয়া স্বাধীন জনসাধারণের সহায়তায় নিরাপদে পালাইয়া যায়। পরে পাক দস্যু সেনারা আসিয়া ডাকবাংলোর আশেপাশে ব্যাপক তল্লাশি ও নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করিলেও গেরিলাদের টিকিটিরও নাগাল পায় নাই।
চালনা বন্দর মৃত
আমাদের খুলনা প্রতিনিধি জানাইতেছেন যে পাকসেনারা শহরে এখনও স্বাভাবিক অবস্থা প্রতিষ্ঠা করিতে পারে নাই। রোজ সকালে ৯টা হইতে ১২টা পর্যন্ত শহরে লোকজন আসে, জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয় হয়। পরে শহরের রাস্তা ঘাট জনশূন্য হইয়া পরে। অফিসে কিছু কিছু কর্মচারী আসে কিন্তু কাজ কর্ম হয় না।
বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দর খুব বেশি। কাপড় চোপড়, কেরসিন তেল ও ঔষুধ দু¯প্রাপ্য। কিন্তু ধান চাল খুব সস্তা। লুটপাট-হয়রানি প্রভৃতির ভয়ে স্বাভাবিক ব্যবসা বাণিজ্যের অচলাবস্থা চলিতেছে। চালনা বন্দর এখনও মৃত। শ্রমিকের অভাবে বন্দরের কাজকর্ম বন্ধ। পাক সেনারা প্রধানতঃ খুলনা, বয়রা ও মংলা ঘাটিতে থাকে। বাইরে বড় বেশি ঘোরাঘুরি করে না। কোথাও যাইতে হইলে বড় বড় দলে খুলনা হইতে ট্রাক যোগে কিংবা মংলা হইতে গান বোটে যাতায়াত করে।
সাতক্ষীরাঃ সাতক্ষীরায় মুক্তিবাহিনী কয়েকদিন আগে সীমান্ত এলাকার দুটি পাকঘাঁটি দখল করিয়া বাংলাদেশের পতাকা উড়াইয়া দিয়াছে। ঘাঁটি দু’টি হইল কাকডাঙ্গা ও বৈকারী। ইতোপূর্বে মুক্তিবাহিনী তলুইগাছা, চান্দুরিয়া ক্যাম্প ও হিজলদি ক্যাম্প দখল করিয়া নেয়। চান্দুরিয়া হইতে বৈকারী এই সমগ্র এলাকা এখন মুক্তিবাহিনীর করতলগত।
কাকডাঙ্গা ক্যাম্প হইতে পলায়নের সময় পাক সেনারা বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র ও রশদ ফেলিয়া যায়। মুক্তিবাহিনী উহাও দখল করিয়াছে। কাকডাঙ্গা হইতে পলায়নের পর পাকবাহিনী হঠাৎগঞ্জে আস্তানা গাড়ে। মুক্তিবাহিনী তলুইগাছা হইতে পিছন দিক দিয়া গিয়া পাক বাহিনীকে আক্রমণ করে এবং ১৬ জন সৈন্য ও ৫ জন রাজাকারকে হত্যা করে।
মুক্তিবাহিনীর সাফল্য
বাংলার মুখ, ২৭ আগস্ট ১৯৭১
পাক হানাদার বাহিনী আজ বিপর্যস্ত, চারিদিকে। সর্বত্র নদীতে- বন্দরে। শহরে গঞ্জে। হাটে ঘাটে। বাংলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত। পাকদস্যুদের জাহাজ ডুবেছে। জাহাজের পশুগুলো তলিয়ে যাচ্ছে বাংলার নদীতে। অতলে। সড়কে জীপ উড়ে যাচ্ছে কত সার্দুল মুক্তিযোদ্ধাদের মাইনে। মস্তক চলে যাচ্ছে মেশিনগানে, মর্টারে,। ছাউনি উড়ে যাচ্ছে আঘাতে ছাই কুটার মত। চারিদিকে একই অবস্থা। পাক হানাদার বাহিনীর পরাজয় আসন্ন। মীরজাফরের গোষ্ঠিকে শেষ করতে হচ্ছে শয়তানের সাথে। নির্মুল হচ্ছে অবাঞ্ছিতের দল। এদিকে মুক্ত অঞ্চল গড়ে উঠেছে একের পর এক। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের বিজয়ের পতাকা উড়ছে সেখানে। বেসামরিক প্রশাসন নেবে এসব এলাকা। অনন্য স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মত বাংলাদেশ সরকারকে দিচ্ছে ট্যাক্স খাজনা। এসব এলাকায় গড়ে উঠেছে এক বলিষ্ঠ শক্তিশালী জনগোষ্ঠি। সামরিক -বেসামরিক।
খুলনার সাতক্ষীরা মহাকুমা আজ সম্পূর্ণ মুক্ত। গত ১৯শে আগস্ট মুক্তিযোদ্ধারা অর্ধডজন দেশী-বিদেশী জাহাজ তলিয়ে দিয়েছে মংলা বন্দরের পথে জলে। হত্যা করেছে শতাধিক হানাদার বাহিনী ধরে নিয়ে এসেছে বনবালা ও বতামুরি নামে দু’টি অস্ত্র বোঝাই লঞ্চ গ্রেফতার করেছে। চারজন দালাল ফরেস্ট অফিসারকে। তাদের সাথে আগ্নেয় অস্ত্রগুলো বাদ যায়নি। এ ছিলো রণাঙ্গণের সর্ববৃহৎ সাফল্য। খুলনার শ্যামনগরে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ছে। এ অঞ্চল এখন সম্পূর্ণ মুক্ত। এ ছাড়া এ জেলার সাতক্ষীরা, পাইকগাছা, আশাশুনি, বাগেরহাটও মুক্ত। গত ১৮ ও শ্যামনগরে হানাদার বাহিনী ৩৩ জন দস্যু নিহত হয়। ১৭ আগস্ট কালীগঞ্জ দিয়ে যাওয়ার সময় মুক্তিবাহিনীর সাথে হানাদার বাহিনীর ৬ ঘন্টাব্যাপী এক সংঘর্ষ বাধে। এখানে তাদের ভীষণ ক্ষতি হয়। কালীগঞ্জের সংঘর্ষের পর কিছু সংখ্যক পাক দস্যু পালিয়ে যাওয়ার সময় কালীগঞ্জ- শ্যামনগর রোডে মাইনের চার্জে জীপসহ উড়ে যায়, শ্যামনগরে তাদের ওপর মেশিনগান দিয়ে আক্রমণ চালানো হয়। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কিছু ক্ষতি হয়। ১৪ আগস্ট সাতক্ষীরায় মুক্তিবাহিনী পাক হানাদার ও ৩৬ জন রাজাকারকে খতম করে। একটি বড় ঘরে একশ জনের মত রাজাকার ছিলো। বাকিগুলো পালিয়ে যায়। এখানে ৮টি রাইফেল দখল করা হয়।
কপিলমুনি, ১৫ আগস্ট। লঞ্চে যাচ্ছিল হানাদার বাহিনীর একটি দল। মুক্তিযোদ্ধারা চ্যালেঞ্জ করে জলদস্যুদের। সিভিল ড্রেসে ছিল ২৫ জনের মত। লঞ্চের ওপরে। এগুলো সব পানিতে ডুবে মারা যায়। বাকি গুলোর সাথে মুক্তি বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তিন চার ঘন্টাব্যাপী সংঘর্ষ চলে। তাদের অনেক ক্ষতি হয়। অবশ্য দস্যু বাহিনী মৃত্যুর সংখ্যা জানা যায়নি।
গত ২ আগস্ট থেকে পাইকগাছার মুক্তিবাহিনী বিশেষ তৎপরতার সাথে কাজ করে শান্তি কমিটির ত্রাস সৃষ্টিকারী সদস্যকে হত্যা করে। ৬ই আগস্ট হামলা চালিয়ে মুক্তিবাহিনীর ১৩টি রাইফেল ও ২২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। তিনজন কুখ্যাত ডাকাতকেও হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে ইউনিয়ন শান্তি বাহিনীর চেয়ারম্যান মকবুল আহমেদও রয়েছে। পাইকগাছা থানায় হামলা চালিয়ে ৯টি রাইফেল ও ১৭৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তাছাড়া কপিলমুনিতে ডাকাতের সরদারকে নিহত করা হয়। একটি রাইফেল ও এখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
(তথ্য সূত্র : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র)

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বাঙলার বৈশাখ : বাঙালির বৈশাখ

বাঙলার বৈশাখ : বাঙালির বৈশাখ

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৯

বর্ষবরণ-১৪২৫

বর্ষবরণ-১৪২৫

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫২

বাংলা পঞ্জিকা ও বাংলার আবহাওয়া

বাংলা পঞ্জিকা ও বাংলার আবহাওয়া

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৫০






বৈশাখে দেশী মজাদার খাবার

বৈশাখে দেশী মজাদার খাবার

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

নতুনের আহ্বান

নতুনের আহ্বান

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

বোশেখ 

বোশেখ 

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৫

বৈশাখের আমেজ

বৈশাখের আমেজ

১৪ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:৪৪


ব্রেকিং নিউজ











অভিযোগ খারিজ 

অভিযোগ খারিজ 

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৪০