খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

নাসির আহমেদ | প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৪:০০

জাতি হিসেবে বাঙালির সবচেয়ে বড় অহংকার একাত্তর। নি:সন্দেহে একাত্তরে আপামর বাঙালি একটি স্বতন্ত্র ভূ-খন্ডের জন্য যে জীবনপণ যুদ্ধে নেমেছিল, তাতে রাজনৈতিক চেতনাই প্রধান্য ছিল। বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্খা একদিনে গড়ে ওঠেনি। ১৯৩৫ সালে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের জন্য নির্বাচন। চল্লিশের দশকে পাকিস্তান আন্দোলনের এক পর্যায়ে গণভোট, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর নির্বাচন, ষাটের দশকে পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন এবং সর্বশেষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি ভালোভাবে খেয়ে পরে জীবনের উৎকর্ষ সাধনের অভিপ্রায় প্রকাশ করতে মোটেও দ্বিধা করেনি। যুদ্ধ শেষে স্বাধীন দেশ হয়েছে কিন্তু যে সব আকাঙ্খা  নিয়ে মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলো, তার কতটুকু পূরণ হয়েছে। স্থায়িত্বশীল বা টেকসই মানবিক উন্নয়নের মাধ্যমেই কেবল মুক্তিযুদ্ধের আর্ত-সামাজিক আকাঙ্খা গুলোকে বাস্তবে রূপায়ন করা সম্ভব। স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনায় সম্মিলিত ইচ্ছে ছিল আত্মনির্ভরতার, আত্মমর্যাদার। স্বাধীন বাংলাদেশের অর্জিত বিজয় তথা আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কিত কথায় ড. অমর্ত্য সেন বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, ‘আয় বৃদ্ধি চরম লক্ষ্য নয়’ লক্ষে পৌঁছানোর একটি উপায় মাত্র। সঙ্ঘবদ্ধ মানুষের সৃজনশীল উদ্যোগই এই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। ওটা ব্যর্থ হলে সব বরবাদ।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর প্রত্যাশা ছিল (১১ এপ্রিল ১৯৭১ সালে প্রচারিত বেতার ভাষণে) যারা রক্ত দিয়ে উর্বর করেছে বাংলাদেশের মাটি- যেখানে উৎকর্ষিত হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের নতুন মানুষ, তাদের রক্ত  আর ঘামে ভেজা মাটি থেকে গড়ে উঠুক গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। প্রশ্ন হচ্ছে কেবল গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলেই কি, আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে ? বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গ কিলোমিটার ভূমির পরিমান সহস্র ভাগেরও কম। প্রতি মিনিটে আটটি মানব সন্তান জন্ম নিচ্ছে। তাদের খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, বাসস্থানের ব্যবস্থার কি হবে ? বেকারত্ব, পরিবেশ দূষণ, মাদকাসক্তি, জঙ্গিবাদের উত্থান ইত্যাদি ইত্যাদি। অনেকে হয়তো মত পোষণ করবেন, বর্ধিত জনসংখ্যাকে সম্পদে নিয়োজিত করতে পারলেই আমাদের উন্নতি কেন বাধাগ্রস্ত হবে ? হিসেবটা এরকম প্রতিবছর ৩৩ লাখ লোক বাড়ে। অথচ ৫৫ হাজার বর্গমাইলের দেশে ২৫-৩০ বছর পর কোনো জমি থাকবে কি চাষ করার জন্য। এখন পর্যন্ত কৃষি জমি সমূহ যে অবস্থায় আছে, কতটুকু হচ্ছে যথাযথ ব্যবহার। জানি, সন্তোষ জনক জবাব মিলবে না। এরপর আসি, রপ্তানি খাতের অন্যতম পোশাক শিল্পের দিকে, ১২ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্র থাকলেও আমরা সেটি পারছি না। বরং, ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। রপ্তানি আয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খাত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য। সেখানেও কারখানা স্থানান্তর বিলম্বিত এবং পরিবেশ দূষণের নানাবিধি বিষয়, সক্রিয় চোরাচালান চক্র সবমিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থার ভিতর আছি।
দেশের ৪ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। অপুষ্টির কারণে এখনো ৩টি শিশুর মধ্যে একটি শিশুবদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি এক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। অর্থ সামাজিক পরিস্থিতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অবশ্য সরকার ২০১৪ সাল নাগাদ ক্ষুধা নিবৃত্ত এবং ২০৩০ মাল নাগাদ পুষ্টি নিশ্চিত করতে চায়।
প্রকৃতির ওপর মানুষের হাত নেই। সেচ নির্ভর  বন্যা ও খরার কারণে কৃষি উৎপাদন খুব অস্থিতিশীল। সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে। শিল্পায়নের দৃঢ় ভিত্তি এখানো যথেষ্ট নয়। শিক্ষার মান নিয়ে হচ্ছে তর্কাতর্কি। প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার বেড়েছে। বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়েছে। তবে, সড়ক পথের অগ্রগতি উলেখযোগ্য। জলপথের বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও এদিকে নজর দেয়া হয়নি ঠিকমতন। স্বাস্থ্যখাত এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থানও সক্ষমতা বাড়াতে তৎপরতা একই সঙ্গে দুর্নীতির তথ্যেও খবরাদি কাগজে আসে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে প্রতিক্রিয়া পরিবেশ ভারসাম্য চাপ বেড়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পখাতে নতুন দিগন্ত উৎভাসিত হবার সংবাদ মিলছে না।
এতো কিছুর পরও দেখতে হবে একুশ শতকের তথ্য প্রযুক্তির বিপব মানব সভ্যতায় গতি ও প্রকৃতি খুব দ্রুত বদলে দিচ্ছে। উন্নত মানব জীবন ও টেকসই বিশ্ব গড়তে তথ্য প্রযুক্তির সেবা বাড়ানো আবশ্যক। অমাদের দেশের মানুষই তাক লাগিয়ে নাসা, গুগল, মাইক্রোসফট, ফেসবুকসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। কিন্তু এমনো অনেকে আছেন যারা বড় বড় অফার ত্যাগ করে দেশে থেকেই দেশের উন্নয়নের কথা ভাবছে, আজ তাদের স্বাগতঃ জানানোর দিন। প্রয়োজনে পাশে প্রিয়জনের মতো থাকতে হবে। স্বপ্ন নয় বাস্তব সম্ভবতার সময় এখন। স্বাধীন দেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত সমূহ হোক মঙ্গলের। ইতিহাসকে ধামাচাপা দিয়ে মহান ও সত্যিকার দেশের মঙ্গল কামনায় ত্যাগীদের আমরা যেন অবজ্ঞা করি। বিজয় অর্জন করতে গিয়ে এই জাতি হারিয়েছে শ্রেষ্ট সন্তানদের। মনে রাখতে হবে, তাদের প্রাণের বিনিময়ে এসেছে বিজয়। সত্য এবং মিথ্যার দ্বন্দ্বে ফেলে শিশুদের যারা নেতৃত্ব দেবে আগামী বাংলাদেশের, তাদের বিপদগামী না করি। দুর্নীতি রোধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশেগড়ার শপথ নিতে হবে। বছর পরিক্রমায় বিজয় এসে চলে যাবে কিন্তু এর মহত্বে ও গৌরব সমুন্নত রাখাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ