খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

জেলা বিএনপি’র বর্তমান কমিটির সাথে রাজনীতি করা সম্ভব নয় : এড. বারী

‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্রিক কোন কর্মসূচিতে রাজপথে ছিলেন না বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক’

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৩৮:০০

“৫ জানুয়ারির নির্বাচন কেন্দ্রিক কোন কর্মসূচিতে বর্তমান সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান রাজপথে ছিলেন না। পেপার-পত্রিকায় খুঁজলে ওই সময়ে তাদের দলীয় কর্ম-তৎপরতার প্রমাণ পাওয়া যাবে না। সভাপতি তো কোন উপজেলার ভোটার নন, তিনি শহরের ভোটার। আবার জেলা বিএনপি’র সভাপতি হয়ে তিনি সিটি মেয়র হতে চাইছেন; তাহলে সংঘর্ষিক হয়ে গেল না? জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আমীর এজাজ খান গত ৫/৭ বছরে তার এলাকায় যাননি। উপজেলা, পৌরসভার তৃণমূলে ত্যাগী, পরীক্ষিত ও প্রবীন নেতাদের বর্তমান কমিটিতে রাখা হয়নি। যে কমিটি হয়েছে, এ কমিটির সাথে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয়। এ কমিটির সাথে কাজ করা যায় না।” টানা সোয়া তিন যুগ বিএনপি’র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রবীণ নেতা এড. গাজী আব্দুল বারী ক্ষোভ প্রকাশ করে উপরোক্ত মন্তব্য করলেন। ১৯৭৮ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গঠিত জাগদল থেকেই জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী এ মানুষটি অঙ্গাঙ্গীভাবে দলটির জন্য নিবেদিত ছিলেন।
তিনি সময়ের খবরকে বলেন, “উপজেলা পর্যায়ে দলের দুঃসময়ে ত্যাগীরা ও প্রবীণ নেতারা প্রায় কেউ এই সদ্য ঘোষিত কমিটিতে নেই। এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাইয়ের পরে আমার চেয়ে সিনিয়র খুলনা (জেলা ও নগর) বিএনপিতে কেউ নেই। সর্বশেষ খুলনা জেলা বিএনপি’র আংশিক কমিটিতেও আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি রাখা হয়েছিল; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে আমি নেই! জেলা বিএনপি’র সভাপতি অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম খুলনার বাইরে আর কিছুদিন পূর্বেও এড. শফিকুল আলম মনা দেশের বাইরে ছিলেন, তখনতো আমি-ই জেলা বিএনপি’র হাল ধরে ছিলাম। ও হ্যাঁ তাদের নামে মামলা হয়েছে তো দলীয় পদের কারণে, কিন্তু তারা কার্যতঃ খুলনাতে ছিলেন না। নগর ও জেলা বিএনপি’র যৌথ কর্মসূচিতে অসংখ্য দিন সভাপতিত্ব করেছি। কিন্তু কষ্ট লাগে, আজ আমি বিএনপি’র কেউ নই!”
বিএনপি’র সূচনার সময়কার বর্ণনায় তিনি বললেন, “১৯৭৮ সালে প্রথম জাগদল গঠিত হলে আমি ছিলাম খুলনা সদর মহকুমা রাজনৈতিক জেলা জাগদলের আহ্বায়ক। পরে বৃহত্তর খুলনার জাগদলের আহ্বায়ক হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোঃ আমীর আলী জোয়ার্দ্দার, আর আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম যুগ্ম-আহ্বায়ক। ১৯৭৯ সালে বিএনপি হলে সেখানেও হাল ধরতে হয় আমাকে। বিএল কলেজে ছাত্র অবস্থায় ন্যাপ (ভাসানী) করতাম তো; সে সুবাদে আমার জনবল ও বিশাল কর্মী বাহিনী ছিল। বিএল কলেজে সর্বদলীয় ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক ছিলাম আমি। ফলে সেই সময়ে বিএনপি গড়ার পেছনে আমি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পেরেছিলাম। ১৯৭৯ সালের অক্টোবরে সাবেক স্পিকার রাজ্জাক আলীকে সভাপতি ও আমাকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হলো। ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে খুলনা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে দল গঠনে নিরলস কাজ করেছি। তারপর রাজ্জাক আলী সভাপতি থাকলেন আর সৈয়দ ঈসা হলেন সাধারণ সম্পাদক। তখন আমি সহ-সভাপতি ছিলাম। সৈয়দ ঈসা তারপর ভাসানী ন্যাপে চলে গেলেন। তারও বেশ পরে আমাকে সভাপতি ও শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজাকে সাধারণ সম্পাদক ও আমীর এজাজ খানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে সর্বসম্মতিক্রমে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সম্মেলনে তারিখ নির্ধারিত হয়। উপজেলার ইউনিয়নের ইউনিয়নে গিয়ে আমরা বিএনপি’র কমিটি গঠন করছিলাম। এমন সময়ে কেন্দ্র থেকে সৈয়দ ঈসাকে আহ্বায়ক করে এক সদস্যের কমিটি করে দেয়া হল। দীর্ঘদিন তিনি চেষ্টা করে কিছুই করতে পারলেন না। খুলনার গ্র“পিংয়ের কারণে সাবেক হুইপ মোঃ আশরাফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে দেয় কেন্দ্র। তিনিও ব্যর্থ হয়েছিলেন জেলা বিএনপি বিনির্মাণে। ২০০৬ সালে অধ্যাপক মাজিদুল ইসলামকে সভাপতি, আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও শফিকুল আলম মনাকে সাধারণ সম্পাদক করে দেয়া হল। সভাপতি তো খুলনাতে স্থায়ী থাকতেন না; ফলে পুরো সময়টাই অঘোষিতভাবে আমিই সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। জেলা ও নগরের যৌথ কর্মসূচিতে অসংখ্যবার আমিই সভাপতিত্ব করেছি। ২০০৯ সালের সর্বশেষ সম্মেলনেও আমাকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছিল। সেই থেকে শত প্রতিকুলতা, অলসতা ও রুটি-রুজির পিছুটান আমাকে বিএনপি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। আন্দোলন-সংগ্রামে থেকেছি খুলনার রাজপথে।”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি আরও বলেন, “এড. মনাকে সভাপতি করে কমিটি ঘোষণার পর থেকে আর দলীয় কোন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করিনি। এটা আমার একটা নিরব প্রতিবাদ। সারাজীবন বিএনপি’র রাজনীতি করেছি; জীবন সায়ান্নে এখন আর অন্য দল তো করতে পারবো না! বাকী জীবনটা না হয় এভাবে কাটিয়ে দেবো!! কিন্তু আফসোস-সুসংগঠিত দলটাকে একদম শেষ করে দিচ্ছে ওরা!”
 

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০









খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০



ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬