বিপিএলে সফল এবার খুলনার ক্রিকেটাররা


বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খুলনা বিভাগের ক্রিকেটারদের আধিক্য সব সময়ই বেশী। তবে জেলা দলে এতটা আধিক্য নেই। কখনও একজন, কখনও দুইজন কখনও হয়তো কেউই থাকেন না। তবে খুলনার জেলার ক্রিকেটাররাও একেবারে কম যান না। এবার বিপিএলে তার প্রমাণ দিলো জেলার ক্রিকেটাররা। নামের পাশে তারকা খচিত শব্দ না থাকলেও এবারের বিপিএলে সফল ছিলেন খুলনার ক্রিকেটাররা। এদের মধ্যে রংপুর রাইডার্সের হয়ে খেলা নাহিদুল, জিয়াউর রহমান জনি, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলা মেহেদী হাসান, সিলেট সিক্সার্সের হয়ে খেলা নুরুল হাসান সোহান, খুলনা টাইটান্সের হয়ে খেলা আফিফ হোসেন ধ্র“ব নজর কেড়েছেন। তবে তারকা চিহ্ন গায়ে লাগানো খুলনার লোকাল হিরো খ্যাত মেহেদী হাসান মিরাজ এবার অতটা সফল ছিলেন না। এমনিতেই খুলনার দর্শকদের আক্ষেপের বড় একটা কারণ খুলনা টাইটান্সে নেই খুলনার কোন ক্রিকেটার। তবে দর্শকদের সে আক্ষেপ কিছুটা হলেও দূর করবে এসব ক্রিকেটারদের পারফরমেন্স।
মেহেদী হাসান (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) : তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার খুলনার মেহেদী হাসান। মাত্র ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার ইতিমধ্যে নজর কেড়েছেন অনেকের। খেলে ফেলেছেন বাংলাদেশ এইচপি টিমে আর ‘এ’ দলেও। এবার জাতীয় দলেও কড়া নাড়ছেন তিনি। বিপিএলে একাদশে ৫ বিদেশী রাখার সুবিধা দলগুলো পাওয়া সত্ত্বেও নিয়মিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন মেহেদী হাসান। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হলেও কুমিল্লায় তাকে বোলারের চরিত্রেই বেশী সফল দেখা গেছে। কুমিল্লার ১৪ ম্যাচের ১০টিতেই একাদশে ছিলেন তিনি। গ্র“প পর্বে দ্বিতীয় দেখায় রংপুর রাইডার্সকে হারানোর বড় অবদান এই মেহেদীর। ২২ রানে প্রতিপক্ষের ৪ উইকেট নিয়ে ওই ম্যাচে ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষেও গ্র“প পর্বে কুমিল্লার জয়ে অবদান আছে এই ক্রিকেটারের। সব মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
নাহিদুল ইসলাম (রংপুর রাইডার্স) : রংপুর রাইডার্সে এবার খুলনার ক্রিকেটারদের আধিক্য। আর এর কারণটাও অধিনায়ক মাশরাফি। জিয়া, নাহিদ, রাজ্জাকরা খেলেছেন এই দলে। দলের সাথে যুক্ত ছিলেন খুলনার সাবেক ক্রিকেটার সেলিমও। এখনও নিজেকে প্রমানের খুব একটা সুযোগ মেলেনি তার। তবে সেটা প্রমানের জন্য বিপিএলকেই বড় মঞ্চ হিসেবে নিয়েছিলেন নাহিদুল। সেখানে তিনি সফলও হয়েছেন। ব্যাটে আহামরি বড় ইনিংস না পেলেও দলের বিপর্যয়ে সবথেকে বড় ভূমিকায় দেখা গেছে নাহিদকে। একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ৯ ম্যাচে। ৯ ম্যাচে তার ব্যাটে যোগ হয় ৯৭ রান। এর মধ্যে একটি ম্যাচ জেতানো ফিফটিও আছে। বোলিংয়েও বেশ ভালো করেছেন নাহিদ।
আফিফ হোসেন ধ্র“ব (খুলনা টাইটান্স) : গত বিপিএলেই নিজেকে চিনিয়েছিলেন খুলনার ছেলে আফিফ হোসেন ধ্র“ব। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার তিনি। সামনে মিশন বিশ্বকাপ। বিপিএল চলাকালে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপও খেলে এসেছেন। শেষ করে যুক্ত হয়েছেন দলে। খুলনা দলে একমাত্র খুলনার ক্রিকেটারও তিনি। পারফরমেন্সে জানিয়েছেন আগামী দিনের জন্য নিজেকে যোগ্য করে তুলছেন ধ্র“ব। গ্র“প পর্বে রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে ফিফটি করে দলকে জিতিয়েছেন তিনি। ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন ওই ম্যাচে। মোট ৭টি ম্যাচে ছিলেন একাদশে। উইকেট নিয়েছেন ৭টি। সব ম্যাচেই হাত ঘুরিয়ে কিংবা ব্যাট হাতে কিছু না কিছু করেছেন দলের জন্য।
জিয়াউর রহমান জনি (রংপুর রাইডার্স) : বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট তকমা সবার আগে জিয়াউর রহমান জনির গায়েই লেগেছিল। জাতীয় দলের হয়েও খেলেছেন বেশ কয়েকটি ম্যাচ। তবে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন জিয়া। এবার মাশরাফির সৌজন্যে ছিলেন রংপুর রাইডার্সে। এবার বিপিএলে দলের প্রয়োজনে বেশ কয়েকবার জ্বলে উঠে প্রমাণ দিয়েছেন আস্থার। মোট ৭ ম্যাচে ছিলেন একাদশে। ৭ ম্যাচে ব্যাট হাতে করেছেন ৭৭ রান। দেখতে খুব একটা বড় রান মনে না হলেও এর মধ্যে অন্তত দুইবার তার আস্থাতেই জয়ের দেখা পেয়েছিল রংপুর রাইডার্স।  
নুরুল হাসান সোহান (সিলেট সিক্সার্স) : জাতীয় দলে যাওয়া আসার মধ্যে আছেন খুলনার আরেক ক্রিকেটার নুরুল হাসান সোহান। এবার বিপিএলে খেলেছে সিলেট সিক্সার্সের হয়ে। ৯ ম্যাচে খেলেছেন সিলেটের একাদশে। ৯ ম্যাচের ৭ ইনিংসে করেছেন ৬৫ রান। এই রান খুব বড় স্কোর না হলেও একটি ম্যাচে রোমাঞ্চ ছড়িয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন সোহান। আর উইকেটের পিছনে গ্লাভস হাতে বেশ সফল ছিলেন তিনি।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।