খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নগরীতে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

অগ্নিদগ্ধ যুবক ও তার স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬:০০

অগ্নিদগ্ধ যুবক ও তার স্ত্রীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ : পুলিশ হেফাজতে স্ত্রী

নগরীতে স্ত্রীর উপর অভিমানে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টার ঘটনায় স্ত্রীর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে স্বামী জাহিদ হোসেন (৩৫)। শরীরের অধিকাংশ স্থান পুড়ে গেলেও সবার সামনেই তিনি অভিযোগ করেন নিজে আত্মহত্যা চেষ্টা করেননি কেউ তার গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে কোন মামলা না হওয়ায় পুলিশ জাহিদের স্ত্রী উম্মে রুম্মানকে খুমেক হাসপাতালের সেফ কাস্টডিতে রেখেছে। জাহিদ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নগরীর বাগমারা বাইলেনের বাসিন্দা হারুণ অর রশীদের মেয়ে উম্মে রুম্মান এর সাথে নিরালা কাশেম সড়কের বাসিন্দা মৃত তাহেরের পুত্র জাহিদ হোসেনের সাথে সাড়ে চার বছর আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরে জাহিদ কর্মস্থল বিদেশে গেলে ফোনে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে অশান্তির সৃষ্টি হয়। পরে জাহিদ গত দেড় মাস আগে দেশে ফিরে এলে স্ত্রী উম্মে রুম্মান তাকে ডিভোর্স দেয়। তবে জাহিদ ডিভোর্স গ্রহণ না করে সামাজিকভাবে পুনঃবিবাহের মাধ্যমে আবারও ঘর সংসার শুরু করে। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় গত ৬ ডিসেম্বর নতুন করে আবারও ডিভোর্স পাঠায় তার স্ত্রী। গত শনিবার রাতে শ্বশুর বাড়ি যায় জাহিদ। পরে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তার স্ত্রী জাহিদকে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেফার করা হয়।
জাহিদের স্ত্রী ও তার পরিবারের দাবি জাহিদ বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার হুমকি দিতো। ছোটখাট পারিবারিক ঝামেলাতেও সে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। সর্বশেষ কয়েকদিন আগে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এরপর না পেরে তাকে আবারও ডিভোর্স দেয়া হয়। তা গ্রহণ না করে গত শনিবার আসার আগে বাসার সবাইকে ফোন দেয়। ব্যাগে করে বাইরে থেকে পেট্রোল কিনে নিয়ে আসে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সে গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমিও আহত হয়েছি। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করি।
তবে রাতেই পুলিশের সামনে জাহিদ স্ত্রীর এই অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেন, তিনি আত্মহত্যা চেষ্টা করেননি। বাক বিতন্ডার সময় কেউ তার গায়ে পেট্রোল দিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। জাহিদের স্বীকারোক্তির পর পুলিশ তার স্ত্রী উম্মে রুম্মানকে খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেলে সেফ কাস্টডিতে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে। খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, যেহেতু এ বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি, তাই তাই তাকে সেফ কাস্টডিতে রেখে চিকিৎসা করানো হচ্ছে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ