খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

‘আইন হওয়ার পর থেকে একটি মামলাও হয়নি খুলনাতে’

ক্ষতিপূরণ চেয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে পারবেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

ক্ষতিপূরণ চেয়ে জেলা দায়রা জজ-এর আওতায় মোটর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে সিভিল মামলা দায়ের করতে পারবেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার। ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশ-এর ১২৮ ধারায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবার সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিক, চালক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবেন। তবে বিশেষ করে দেখা যায়, অধিকাংশ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার থানা অথবা আদালতে দণ্ডবিধির ৩০৪’র (খ) ধারায় মামলা দায়ের করেন। এই আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫-১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।  
তবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের পরিবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা দায়ের করতে পারবেন তা অনেকেইর জানা নেই। খুলনার পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অধিকাংশই জানেন না বিষয়টি। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের ঘটনায় মামলা বলতে দণ্ডবিধির ৩০৪’র (খ) ধারার সাথেই সকলে পরিচিত। তবে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা বিষয়টি আইনে বিদ্ধমান রয়েছে তা আদালত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনেকেরই অজানা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ১৯৮৩ সালে আইনটি সৃষ্টির পর থেকে খুলনার আদালতে মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারায় একটিও মামলার হদিস নেই।
এ বিষয়ে খুলনা জেলা দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কাজী আবু শাহীন বলেন, আইনের বিষয়টি আইনজীবীরা জানেন। তবে ভুক্তভোগিরা এ আইনে কোন মোকদ্দমা না করায় তা আড়ালেই থেকে গেছে। তবে সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে এই আইনের ব্যবহারের কারনে আগামীতে ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারায় ব্যবহার শুরু হবে বলে তিনি ধারনা করছেন।
এড. সুজিত অধিকারী বলেন, সাধারণ মানুষ এই আইনের বিষয়ে জানেননা। এ কারনেই কখনো খুলনায় এ সংক্রান্তে কোন মামলা দায়ের হয়নি।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি মোঃ এনামুল হক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় কোন মানুষ নিহতের পরপরই সংশ্লিষ্ট যানবাহনের মালিকের প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতারা ভিকটিমের পরিবারের সাথে নানা ভাবে আপোষের চেষ্টা করেন। নিহত ব্যক্তির ময়নাতদন্তসহ নানা ধরনের ঝামেলার চিত্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সামনে তুলে ধরেন তারা। এক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তাদের সাথে আপোষের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লিখিত দিয়ে লাশ নিয়ে চলে যায়। আইন বিদ্যমান থাকলেও সহায়তা নিতে আসেন না কেউ।   
এড. চৌধুরী তৌহিদুর রহমান তুষার বলেন, বিচার প্রার্থীদের চাহিদা মতোই একজন আইনজীবী মামলা দাখিল করেন। তাছাড়া ১৯৮৩ সালের মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে সিভিল মামলা দায়ের করতে হলে চাহিদার আড়াই শতাংশ টাকার কোর্ট ফি এবং ১৫ শতাংশ টাকা ভ্যাট জমা দিতে হয়। অপর দিকে ৩০৪’র (খ) ধারায় মামলা দায়ের করতে মাত্র ১০ টাকার কোর্ট ফি দিতে হয়। দণ্ডবিধির সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অনেক অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যরা আইনজীবীর কাছ থেকে পরামর্শ পেলেও অনেক ক্ষেত্রে মোটা অংকের এ টাকা খরচ করে মামলা করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
প্রসঙ্গত: ২০১১সালের ১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মনির। তাঁদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে চুয়াডাঙ্গাগামী একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে তারেক মাসুদ ও মিশুক মনিরসহ মাইক্রোবাসের পাঁচ আরোহী নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ২০১২ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতে  মোটরযান অধ্যাদেশের ১২৮ ধারায় বাস মালিক, চালক এবং ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে পৃথক দু’টি মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেন বাদী পক্ষ। তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথেরিন মাসুদ এবং মিশুক মনিরের স্ত্রী কানিজ এফ কাজী ও তাঁদের ছেলে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর হাইকোর্টে ওই দু’টি আবেদন করেন। যার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল দেন। রুলে সংবিধানের ১১০ অনুচ্ছেদ অনুসারে মামলা দু’টি কেন উচ্চ আদালতে বদলি করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। পাশাপাশি মামলা দু’টির নথি নিম্ন আদালত থেকে তলব করা হয়। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর মানিকগঞ্জ জেলা ও মোটর ক্লেইমস ট্রাইব্যুনালে করা মামলা দু’টি হাইকোর্টে বদলির আবেদন মঞ্জুর করে রায় দেন হাইকোর্ট। পরবর্তী সময়ে বিচারপতি জিনাত আরার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য পাঠান প্রধান বিচারপতি। এরপর গত ৩ ডিসেম্বর বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি কাজী মোঃ ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তারেক মাসুদের স্ত্রীর মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত তারেক মাসুদের পরিবারকে ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট বেঞ্চ। বাসের মালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানিকে এই ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে। এই টাকার মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৮০ হাজার, বাস চালক ৩০ লাখ এবং বাকি ৪ কোটি ৩০ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫২ টাকা তিন বাস মালিককে সমান ভাগ করে দিতে হবে। তিন মাসের মধ্যে ওই অর্থ দিতে রায়ে বলা হয়।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬











ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬