খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূতের সন্ধান মেলেনি

‘সুঠামদেহী তিন জন বাসায় এসে কম্পিউটার-ল্যাপটপ নিয়ে যায়’

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০৫:০০

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাসায় গিয়ে তিন জন সুঠামদেহী ব্যক্তি তার কম্পিউটার ও ল্যাপটপ নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এ সময় তারা বাসার ভেতরে তল্লাশিও চালায়। মারুফ জামান নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ওই তিন ব্যক্তি তার বাসায় যান। এমনটাই বলা হয়েছে নিখোঁজ সাবেক রাষ্ট্রদূতের পরিবারের পক্ষ থেকে।
নিখোঁজ মারুফ জামানের বাসায় মুখ ঢেকে কারা এসেছিল? কূটনীতিক এম মারুফ জামান ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কারা এসে তার ল্যাপটপ নিয়ে গিয়েছিল, অন্তর্ধানের রহস্য ভেদ করতে সেই যুবকদের এখন খুঁজছে পুলিশ।
গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দর থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন মারুফ জামানের ব্যক্তিগত গাড়িটি খিলক্ষেত থানাধীন ৩০০ ফিট সড়ক থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার পরিবারের পক্ষ থেকে দেয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাতার ও ভিয়েতনামের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মারুফ জামান গত ৪ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিগন্যাল কোরের (ষষ্ঠ শর্ট কোর্স) একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ৪ ডিসেম্বর তার ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে বিমানবন্দর থেকে নিয়ে আসতে তিনি সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বাসা থেকে গাড়ি চালিয়ে বের হন। তার কিছুক্ষণ পর ৭টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বাসার ল্যান্ড ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে গৃহপরিচারিকাকে বলেন, তার বাসায় কম্পিউটার নিতে কেউ একজন আসবেন। এর কিছুক্ষণ পর ৮টা ৫ মিনিটের দিকে তিনজন সুঠামদেহী ভদ্রলোক বাসায় এসে তার ল্যাপটপ, বাসার কম্পিউটারের সিপিইউ, ক্যামেরা, একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায় ও তার ঘরে তল্লাশি চালায়। সে সময় তার ফোন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ ডিসেম্বর দুপুরে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় (জিডি নং-২১৩)। সন্ধ্যায় তার গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-১৩৯৯) পুলিশ খিলক্ষেত থেকে উদ্ধার করে। তবে মারুফ জামানের সঙ্গে কোনও ধরনের যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সদস্যরা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।’ এ সময় মারুফ জামানকে যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়।
ধানমন্ডি থানার ওসি মোঃ আবদুল লতিফ বলেন, ফুটেজে দেখা গেছে, তিনজন যুবক মাঙ্কি ক্যাপ পরে ওই বাসায় ঢুকেই কিছু সময়ের মধ্যেই বাসা থেকে বেরিয়ে যায় তারা। ওই যুবকদের মুখ ঢাকা ছিল বলে তাদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান ধানমন্ডি ৯/এ সড়কে পৈতৃক জমিতে করা ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় মারুফ জামান থাকেন। ওই বাড়ির চতুর্থ তলায় থাকেন তার বড় বোন শাহরিনা কামাল, পঞ্চম তলায় থাকেন তার ছোট ভাই রিফাত জামান। ওসি আরও বলেন, গত সোমবার রাতেই কুড়িল বিশ্বরোড থেকে পূর্বাচলমুখী তিনশ’ ফুট সড়কে মারুফ জামানের গাড়িটি পাওয়া যায়। তবে তাকে পাওয়া যায়নি।
মারুফের এভাবে নিখোঁজ হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না পরিবার। ভাই রিফাত জামান বলেন, ২০১২ সালের এপ্রিলে তাদের মা মারা যান। এরপর ওই বছর ডিসেম্বরে মারুফ জামানের স্ত্রীর মৃত্যু হয়। পরের বছর বাবা মারা যান। এসব কারণে মারুফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকলেও তার সঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই মনে করেন তার ভাই। রাজনৈতিক কোনো সংগঠনের সঙ্গেও মারুফ যুক্ত ছিলেন না বলে ভাই জানান।
মারুফ জামান সর্বশেষ ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তার আগে কাতারে রাষ্ট্রদূত ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি নিয়ে অবসরে যান তিনি। রিফাত জানান, মারুফ জামান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে সিগন্যাল কোরের ‘ষষ্ঠ শর্ট কোর্সে’ ক্যাপ্টেন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ওই চাকুরি থেকে চলে আসেন। ১৯৮২ সালে আর্মি থেকেই ফরেন সার্ভিসে যোগ দেন ভাই। প্রথম দিকে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারী ছিলেন। ভাইয়ের দেওয়া তথ্য মতে, মারুফ জামান সর্বশেষ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্ট্যাডিজে (বিআইএসএস) অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন।
নিজের ফ্ল্যাটে ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে নিয়ে থাকতেন বিপতœীক মারুফ, আর থাকতেন দু’জন গৃহকর্মী। সামিহা কয়েক সপ্তাহ আগে বড় বোনের কাছে বেড়াতে বেলজিয়াম গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর তাকে আনতেই সোমবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি নিয়ে বিমানবন্দর রওনা হয়েছিলেন মারুফ। তারপর থেকে তার সন্ধান মিলছে না। শাহজালাল বিমানবন্দরে বাবাকে না পেয়ে তার ফোনও বন্ধ পাওয়ার পর চাচাকে ফোন করে বাড়ি ফিরেছিলেন সামিহা। পরদিনও বাবা ফিরে না আসায় থানায় জিডি করেন তিনি। এরপর পুলিশ তদন্তে নামলেও দুই দিনেও এই কূটনীতিকের কোনো সন্ধান পায়নি পুলিশ।
গত আগস্ট থেকে চার মাসে ঢাকায় রাজনীতিক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ী মিলে ডজনখানেক মানুষ নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী অনিরুদ্ধ রায়সহ চারজন পরিবারের কাছে ফিরে এলেও অধিকাংশের এখনও সন্ধান জানা যায়নি।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











প্রধানমন্ত্রী প্যারিস যাচ্ছেন আজ

প্রধানমন্ত্রী প্যারিস যাচ্ছেন আজ

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬