খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

চীন ও ফ্রান্সের উদ্বেগ : তুরস্কের হুঁশিয়ারি ক্ষোভ পালনের ডাক ফিলিস্তিনিদের

জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের!

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১০:০০

গাজা উপত্যকায় প্রতিবাদকারীদের ঢল নেমেছে। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিক্ষুব্ধ তারা। এই সিদ্ধান্তের জবাবে ফিলিস্তিনি নেতারা তিন দিনের ক্ষোভ পালনের ডাক দিয়েছেন। শ’ শ’ ফিলিস্তিনি গাজার রাজপথে অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্প-বিরোধী ব্যানার হাতে নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানায়। এর মধ্যেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্বীকৃতির পাশাপাশি মার্কিন দূতাবাসকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করারও ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত বারোটায় এই ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বিশ্ব সম্প্রদায়ের তীব্র নিন্দার মধ্যেই এমনটা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অপর দিকে ট্রাম্পের স্বীকৃতির জেরে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।
জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দেয়ার আগের বুধবার সন্ধ্যায় জর্ডানের বাদশাহ আব্দুল্ল¬াহ, মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাতাহ আল-সিসি, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু দেনেহ বলেছেন, টেলিফোনে ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়ে ফিলিস্তিনি নেতা বলেছেন, এ ধরনের বিপজ্জনক সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্বের ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অপরদিকে আল জাজিরা টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়েহ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘গর্হিত আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটা অবিবেচনাপ্রসূত জুয়া খেলার সামিল। এর ফলে ফিলিস্তিনি, আরব বিশ্ব ও মুসলিমদের তরফে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসবে। আমরা এই পদক্ষেপ না নেয়ার আহ্বান জানাই। এর অর্থ হবে শান্তি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।’
আল জাজিরা খবরে বলা হয়, গাজাবাসী ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করেনি। ইতিমধ্যে তারা প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে নেমেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া আসছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সেখানের ফিলিস্তিনি শরণার্থী ক্যাম্পে জড়ো হয়েছে কয়েকশ’ মানুষ।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতারাও ট্রাম্পকে তার পরিকল্পনা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী তেরেসা মে পার্লামেন্টে জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। মে এও বলেন যে, শহরটির ভবিষ্যত নির্ধারণ হওয়া উচিত ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্ল¬াহ খোমেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তের কারণ হলো তাদের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা। আর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছে, এই পদক্ষেপ হলো ফিলিস্তিনকে জবরদখল করা এবং ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎখাত করার অপরাধের চূড়ান্ত অধ্যায়।
এদিকে, পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, জেরুজালেমের আল আকসা মসজিদে বিদ্যমান স্ট্যাটাস কো’র প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।
অন্যদিকে জেরুজালেম নিয়ে ‘সীমা অতিক্রম’ না করার জন্য ট্রাম্পের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তুরস্ক। এ হুঁশিয়ারির পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ইসরায়েলের উদ্দেশে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তবে তুরস্ক ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে। গত মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন।
এদিকে জেরুজালেমকে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে ঘোষণা দিতে পারেন, এমন সম্ভাবনায় ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। মাখোঁ বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাঁর এ উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শুয়াং বুধবার নিউজ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য উত্তেজনা বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন।’

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল

ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১০






ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬