খুলনা | শনিবার | ২১ এপ্রিল ২০১৮ | ৮ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনার মোকামে উত্তরের আলু চাষিদের কান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০১:০৪:০০

নীলফামারী জেলার নেদুপাড়া গ্রামের আলু চাষি ফজলু মিয়া। ৩৩ বস্তা আলু নিয়ে চারদিন বসে আছেন খুলনার মোকামে। ক্রেতা পাননি চার দিনেও। ফজলু মিয়ার চার বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। বিক্রি হবে ৫০ হাজার টাকার কাছাকাছি। ফজলু মিয়ার মতো ২ শতাধিক চাষি ট্রাক বোঝাই করে আলু নিয়ে এসেছেন খুলনার কদমতলা মোকামে। প্রতি কেজি গ্যানেলা জাতের আলু ৫ টাকা আর ডায়মন্ড জাতের দাম কেজি প্রতি ১২ টাকা। প্রতিদিন গড়ে খুলনার তিন মোকামে ৬০০ মেট্রিক টন আলু আসছে। চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি। নীলফামারীর দক্ষিণদেশিবাই গ্রামের ফয়জার রহমান, কাঠালি গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়, হাফিজুল ইসলাম, আবদুল হাকিম, আজহার উল ইসলামের মতো দুই শতাধিক চাষি চারদিন ধরে বসে আছেন স্থানীয় কদমতলা মোকামে। সবার মুখে হতাশার ছাপ। উৎপাদন ও পরিবহন খরচ, বাজার মূল্যের তুলনায় বেশি। তাও আবার বাকীতে বিক্রি। ২০১৩ সালে আলুর বাজারে ধস নামে। অনুরূপ অবস্থা এবারও। আলু চাষিদের সূত্র জানায়, আশ্বিন থেকে পৌষ পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, দিনাজপুরের আবহাওয়া ছিল আলু চাষের অনুকুলে। দু’দফা বৃষ্টি হয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ ছিল না। ফলে কাক্সিক্ষত আলুর উৎপাদন হয়েছে এসব জেলায়। এর পাশাপাশি রাজশাহী, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা ও যশোর থেকে ট্রাক বোঝাই হয়ে আলু আসছে। কৃষকদের সূত্র জানায়, এক সঙ্গে এত আলু আসায় ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। খুলনার দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্নিমানের কাঁচাবাজারে এবং কদমতলা মোকামের আড়ৎগুলোতে আলু স্তূপ। আড়ৎদার হাজী জবেদ আলী মোড়ল কোম্পানির ব্যবসায়ীক পার্টনার গোলাম মোস্তফা মিন্টু জানান, রংপুরের উৎপাদিত গ্যানেলা জাতের আলু প্রতিকেজি ৫ থেকে ৬ টাকা এবং ডায়মন্ড জাতের আলু প্রতিকেজি ১২ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে মূল্য কমছে। প্রতিদিন গড়ে ৩০টি ট্রাক ৬০০ মেট্রিক টন আলু নিয়ে খুলনার মোকামগুলোতে আসছে। পাইকারী ব্যবসায়ী আল্লাহর দান ভান্ডারের মালিক খালিদ হোসেন রাজ জানান, এবার উত্তরাঞ্চলে আশাতিত আলুর উৎপাদন হয়েছে। যশোর অঞ্চলেও উৎপাদনের পরিমাণ বেশি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্যানেলা জাতের আলু কেজি প্রতি ৪ টাকা ও ডায়মন্ড কেজিপ্রতি ১২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশ হয়েছে বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান। নীলফামারী জেলার নেদুরপাড়া গ্রামের চাষি আজাহারুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে ৫বিঘা জমিতে আলু চাষে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৩০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হবে না। তিনি দু’দিন ধরে খুলনার কদমতলা মোকামে বসে আছেন। একই গ্রামের চাষি ফজলু মিয়া জানান, আলুর লোকসান কাটাতে তিনি তামাক চাষ করবেন। চৈত্র মাস শেষে একই জমিতে ভুট্টো উৎপাদনের ইচ্ছা রয়েছে তার। তার দেওয়া তথ্যমতে উত্তরের আলু চাষিদের ২০১৩ সালের লোকসানের ঘানি এখনও টানতে হচ্ছে। অনেক চাষি মহাজনের কাছে ঋণি হয়ে আছেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

গলদার মূল্য হ্রাসে রেকর্ড

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:১০








ব্রেকিং নিউজ