খুলনা | সোমবার | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুলনায় পাকিস্তানী জেনারেলদের আত্মসমর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫১:০০


একাত্তর সালের ১৭ ডিসেম্বর, শুক্রবার। কুয়াশার স্বপ্ন চাদর ভেদ করে পরাধীনতার শৃঙ্খলের মধ্যদিয়ে খুলনার পূর্বাকাশে সূর্য উঁকি দেয়। খুলনা পৌর এলাকার ১৪ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বারুদের গন্ধ। রাতভর যুদ্ধ চলছে গল্ল¬ামারী রেডিও সেন্টার ও শিরোমনি এলাকায়। হতভাগ্য বাঙালি নর-নারীর লাশ ফরেস্ট ঘাট, নিউজপ্রিন্ট মিলস্, গোয়ালখালী, ময়ুর নদীর পাশে কুকুর ছিঁড়ে খাচ্ছে। বিবিসি, আকাশ বাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ইথারে ইথারে বিশ্ববাসীর কাছে খবর পৌঁছে দিয়েছে ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে পূর্ব পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের মৃত্যু হয়েছে। দেশের ১৮ জেলায় উড়ছে লাল-সবুজের পতাকা, বাকি খুলনা জেলা। শুক্রবার সকাল ৮টায় রেডিও সেন্টারে অবস্থানরত পাকিস্তানী সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন মেজর জয়নাল আবেদীন (পরবর্তীতে ৯নং সেক্টর কমান্ডার)। জাতীয় পতাকা নিয়ে বিজয় উল¬াস করতে করতে শেরে বাংলা রোড দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা সার্কিট হাউজ অভিমুখে আসেন। সকাল আনুমানিক ৯টা নাগাদ মেজর জয়নাল আবেদীন ও প্রয়াত লেঃ গাজী রহমতুল্ল¬াহ দাদু বীর প্রতীক যৌথভাবে সার্কিট হাউজে পতাকা উত্তোলন করেন। শিরোমনি এলাকায় যুদ্ধ শুরু হয় ১২ ডিসেম্বর থেকে। যা ইতিহাসের পাতায় ট্যাঙ্ক ব্যাটল অব শিরোমনি নামে খ্যাত। ৮ ও ৯নং সেক্টরের মধ্যে শিরোমনি যুদ্ধ ছিল উলে¬খযোগ্য। এই যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর পক্ষে মেজর জেঃ দলবীর সিংহ, আট নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর আবুল মঞ্জুর ও নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এমএ জলিল এ যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। ১২-১৭ ডিসেম্বর দুইপক্ষের মরণপণ লড়াই। গোলাগুলিতে এলাকা প্রকম্পিত। শহরে জনমানব শূন্য। মিত্রবাহিনী কলকাতার দমদম বিমান বন্দরের সাথে যোগাযোগ করে শিরোমনিতে বিমান আক্রমনের পরামর্শ দেন। ভারতীয় বিমান বাহিনীর আক্রমনে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ে। ১৬ ডিসেম্বর রাতে গোলাগুলিতে পাকিস্তানী বাহিনী নিহত এবং টিকতে না পেরে ১৭ ডিসেম্বর সকালে আত্মসমর্পনে রাজি হয়। পরাজয়ের গ্ল¬ানি সহ্য করতে না পেরে এবং বাঙালির স্বাভাবিক জীবনে বিঘœ ঘটাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী স্টেট ব্যাংকের ভোল্টে আগুন ধরিয়ে জিন্নাহ মার্কা লক্ষ কোটি টাকার নোট পুড়িয়ে এবং এক্সক্লুসিভ দিয়ে টেলিফোনের ভিএইচএফ এর উচ্চ টাওয়ার ধ্বংস করে দেয়। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের ন্যায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে ১৭ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে (সিএম তারেক রেজার ফটো এ্যালব্যাম একাত্তর বিজয়ের সেইক্ষণ)। রাস্তার আশেপাশে শত শত নর-নারী এ দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করেন। ক্যামেরা নিয়ে ছুটে আসে বিদেশী গণমাধ্যম কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যেই আকাশ বানী ও বিবিসি থেকে খবর প্রচার হয়-খুলনায় পাকিস্তানী চার হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণ। খুলনাস্থ পাকিস্তান বাহিনীর অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ হায়াত খান ৮ জন সামরিক কর্মকর্তা অস্ত্রসহ বেল্ট খুলে নত হয়ে আত্মসমর্পণ করে। এ অনুষ্ঠানে মিত্রবাহিনীর পক্ষে মেজর জেনারেল দলবীর সিংহ, আট নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর আবুল মঞ্জুর ও নয় নম্বর সেক্টর মেজর এমএ জলিল উপস্থিত ছিলেন।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

বঙ্গবন্ধুই আমার প্রেরণা 

১৫ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:৫০







সমাজ ও গ্রন্থাগার

সমাজ ও গ্রন্থাগার

০৫ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:০০


জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

জেরুজালেম ও ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ

১০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:২৩

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

এই ছবিটি যেন ‘বিরল’ হয়ে না থাকে

২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ


সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২০