খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনার দু’টি ট্রাইব্যুনালে বিচারক নেই বাড়ছে মামলা জট, হয়রানীতে বিচার প্রার্থীরা

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

খুলনার জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারক নেই। গুরুত্বপূর্ণ এ দু’টি আদালতের বিচারকার্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে করে মামলা জট বাড়ার সাথে সাথে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন বিচার প্রার্থীরা। সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় আদালতের মামলা জট কমাতে নানা উদ্যোগ নিলেও খুলনায় তার কোন প্রভাব পড়েনি! বরং নিষ্পত্তির থেকে প্রতিনিয়ত মামলা দায়েরের পরিমাণ বেশি হওয়ায় দিন দিন মামলার পাহাড় গড়ে উঠছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মামলা থাকা অবস্থায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাঃ রবিউল ইসলাম ২০১৬ সালের ৩১ নভেম্বর খুলনা থেকে বদলী হয়ে চলে যান। ট্রাইব্যুনালটি বিচারক শুন্যতে ১ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এতো লম্বা সময় ধরে বিচারক শূন্যতায় ট্রাইব্যুনালে দিন দিন মামলার জট বেড়ে মহামারী আকার ধারণ করতে চলেছে।  চলতি বছরের গত ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০৫টি।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে বিচারধীন মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে, নারী শিশু (জিআর) ৩ হাজার ৯০২টি, নারী শিশু (সিআর) ৬৩৪টি, মানবপাচার ১৩৪টি, মিস পিটিশন ৯২৩টি, ক্রিমিনাল আপীল ১০টি ও ক্রিমিনাল রিভিউশন ২টি।
২০১৬ সালের মার্চ মাসের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ট্রাইবুনালে বিচারাধীন মোট ৫৩০৪টি মামলার মধ্যে ১৪২টি মামলা নিষ্পত্তি হলেও ৫১৬২টি মামলা বিচারাধীন ছিল। ট্রাইব্যুনালে বিচারকের উপস্থিতির কারনে একই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত মামলার সংখ্যা সাড়ে চার হাজারে নেমে আসে। প্রায় এক বছর বিচারকের অনুপস্থিতির কারনে নতুন প্রায় দেড় হাজার মামলা সংযুক্ত হয়ে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৬০৫টি। এছাড়া খুলনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের আরও দু’টি আদালত বৃদ্ধিসহ সরকারি কৌশুলী বাড়ানোর দাবি বহু দিনের।
বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের এড. অলোকা নন্দা দাস স্পেশাল পিপি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া বিচারক শূন্যতার কারনে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১-এর বিচারক মোঃ রেজাউল করিম ট্রাইব্যুনালের মামলার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তবে মামলাগুলোর নির্ধারিত তারিখে পরবর্তী দিন র্নিধারণ ছাড়া নিষ্পত্তির জন্য কোন কার্যক্রম হয়না বলে বিচারপ্রার্থীরাসহ তাদের আইনজীবীরা নিশ্চিত করেন।
অপরদিকে খুলনার জন নিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এস এম সোলায়মান গত ৯ নভেম্বর বদলী হওয়ার পর থেকে বিচারক শুন্য রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ  ট্রাইব্যুনালটিতে বিচারক নিয়োগ না হলে একই সমস্যার সৃষ্টি হবে। মামলা জটের পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়বে বিচার প্রার্থী মানুষের। এই ট্রাইব্যুনালে ক্রিমিনাল আপীল, ক্রিমিনাল রিভিউশন, দেওয়ানী আপীলসহ অন্যান্য ক্যাটাগরীর আনুমানিক ২শ’ ৫০টির মতো মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মোঃ সায়েদুল হক শাহীন জানিয়েছেন।
বিচারকের অনুপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালে খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আনোয়ার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি আরিফ মাহমুদ লিটন ও এপিপি আক্তারুজ্জামান খান জীবন দায়িত্বে রয়েছেন।  

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬









ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬