খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

প্রতিমাসে ব্যয় ১৪ লাখ টাকা!

আশা আর প্রতিশ্রুতিতে কেটেছে ১৫ বছর চালু হয়নি খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ৩০ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের সর্বশেষ সাইরেন বাজে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর। এটিই ছিল শেষ সাইরেন। এ সময় হাজার হাজার শ্রমিকের চোখের পানি ঝরিয়ে বন্ধ হয় মিলটি। এরপর আশা আর প্রতিশ্র“তির মধ্যদিয়ে কেটে গেছে আরও ১৫টি বছর। আজ মিলটি বন্ধের ১৫টি বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু মিলটি চালু প্রতিশ্র“তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। মিলটি চালুর প্রত্যাশার মধ্যে নিয়েই দিন কাটছে এখানকার শ্রমিক-কর্মচারীদের। আর অযতœœ ও অবহেলায় মিলের মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া বন্ধ মিলে প্রতিমাসে ১৪ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।
এদিকে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের স্থানে ৪৫-৪৮ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার নতুন আরেকটি কাগজ কল তৈরি বিষয়টির কাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর উল্লে¬খযোগ্য কোন অগ্রগতি নেই।   
অন্যদিকে, মিলের জমিতে নতুন করে একটি কাগজকল স্থাপন এবং অব্যবহৃত ৫০ একর জমিতে (৭৫০-৮০০) মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (নওপাজেকো) বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। এ বিষয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি) মিল অভ্যন্তরের ৫০ একর জমি, স্থাপনা ও গাছের মূল্য ৮৬৪ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬২০ টাকা নির্ধারণ করে একটি চিঠিতে প্রস্তাবনা দিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে ৫০ একর জমি নওপাজেকো’র কাছে বিক্রির পরিবর্তে সমমূল্যের টাকার শেয়ার খুলনা নিউজপ্রিট মিলকে (কেএনএম) প্রদানের জন্য প্রস্তাব দেয় বিসিআইসি।
মিলের শ্রমিক মোঃ আব্দুর রফিক বলেন, মিল চালাকালে শ্রমিক-কর্মচারীদের ব্যাপক সমাগমে এলাকা জাঁকজমপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন খাঁ খাঁ করে। সেই জৌলুস আর নেই। সাইরেনও বাজে না। শুনেছি মিল চালু করা হবে। অনেক শ্রমিক আশায় বুক বেধে রয়েছে। আবার অনেকে ভিন্ন কর্মে গিয়েছে। আর অনেকে মৃত্যুবরণ করেছে। অনেকে কাজ করতে না পেরে বেকার পড়ে রয়েছে। তিনি অবিলম্বে মিলটি চালুর জন্য জোর দাবি জানান।  
মিলের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প প্রধান মোঃ নুরুল্ল¬াহ বাহার বলেন, খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলের স্থানে ৪৫ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার একটি কাগজ কল তৈরির প্রস্তাবনা রয়েছে। এখনও প্রস্তাবনা আকারে শিল্প মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। বন্ধ মিলে ৪ জন কর্মকর্তা ও ১২ জন কর্মচারী এবং নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী ও আনসারসহ প্রায় ৫০ জন মিলের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। তিনি বলেন, মিলটি বন্ধ থাকা অবস্থায় বিদ্যুৎবিলসহ বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।
মিল সূত্রে জানা গেছে, নগরীর খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের ভৈরব নদীর তীরে ৮৭ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর ১৯৫৯ সালে স্থাপিত হয় খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল। এর মধ্যে ৩৪ দশমিক ৪৩ একর জমিতে মূল মিল অবস্থিত। বাকী প্রায় ৫৩ একর জমিতে খুলনা নিউজপ্রিন্ট স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কর্মকর্তাদের আবাসিক এলাকা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের কোয়াটার, খেলার মাঠ, বিনোদন কেন্দ্রসহ অন্যান্য স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে ৫০ একর জমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিক্রি করে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিউজপ্রিন্ট মিলের অব্যবহৃত জায়গা বেছে নেয়া হয়। ২০১৫ সালের ২২ মার্চ বোর্ডের সভায় এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই অনুযায়ী গেল বছর বিসিআইসি’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সোবহান তালুকদারের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জমি পরিমাপ শেষে করে। পরিমাপকৃত জমির মধ্যে রয়েছে, আবাসিক এলাকা, খুলনা নিউজপ্রিন্ট স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, বিনোদন কেন্দ্র, খেলার মাঠ, ফরেস্ট অফিস, স্টোর ও জেটি, গাড়ির গ্যারেজ এবং খেলার মাঠ। এ ৫০ একর জমি এবং জমিতে বিদ্যমান গাছ ও স্থাপনা ৮৬৪ কোটি ২৪ লাখ ১৩ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই  জমিতে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (৭৫০-৮০০) মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করবে। এর জ্বালানী হিসেবে ভারত থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ভারত থেকে আমদানি করা এলএনজি গ্যাস দিয়ে খুলনায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ওই বছর জুন মাসে ভারতের গ্যাস কর্তৃপক্ষ লিমিটেডের (জিএআইএল) সাথে সরকারের সমঝোতা চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারতের গ্যাস পাইপলাইন কলকাতার আড়ংঘাটা পাইপলাইন স্টেশন থেকে ৮০ কিলোমিটার পেট্রাপোল হয়ে বেনাপোল দিয়ে যশোর পর্যন্ত ৪৬ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে গ্যাস আনা হবে খুলনায়। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে।  

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬











ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬