খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ভৈরব তীরে টেন্ডারবিহীন দেড় কোটি টাকার প্রকল্প : মান নিয়ে নানা প্রশ্ন

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ২৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:১৫:০০

টেন্ডার ছাড়াই প্রায় দেড় কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নিয়েছে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল প্রকল্পের আওতায় নগরীর রুজভেল্ট জেটির সীমানা থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত পৌনে এক কিলোমিটার সড়ক টেকসই, দৃষ্টিনন্দন ও পূর্বে বাস্তবায়িত প্রকল্প সামাল দিতে ওই অর্থ খরচ করা হচ্ছে। অপর দিকে তড়িঘড়ি করে টেন্ডার ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অবশ্য সংশ্লি¬ষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, রিভাইজ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে টেন্ডার আহ্বানের প্রয়োজন নেই। তবে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকায় একটু তড়িঘড়ি করতে হচ্ছে।
সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক, লাইটিং, ওয়াকওয়ে ও কিছু সিটিং এ্যারেঞ্জমেন্ট নির্মাণ করা হয়। যার ফলে যানজট নিরসন ও নগরবাসীর বিনোদনের চাহিদা মেটাতে ভৈরব নদের তীরে আধুনিকমানের সড়কসহ ব্যতিক্রমধর্মী বিনোদন ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু নানা অনিয়ম ও অপরিকল্পিতভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কিছুদিন মধ্যেই সড়কের এক পাশের কিছু অংশ নদের মধ্যে ধসে পড়ে। ওয়াকওয়ের অনেকস্থানে ইউনি ব্লক দেবে যায়। প্রকল্পের দীর্ঘ স্থায়ীত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।  
জানা গেছে, পূর্বের প্রকল্প সামাল দিতে এবং ওই সড়কটি আরো বেশি টেকসই, দৃষ্টিনন্দন, আকর্ষণীয় করে তুলতে ও নগরবাসীর বিনোদনের ক্ষেত্র বাড়াতে নতুন একটি প্রকল্প নিয়েছে কেসিসি। নগর অঞ্চলের আওতায় নতুন প্রকল্পে রয়েছে প্রটেকটিং ওয়াল, ফুটপথ ব¬¬ক দিয়ে আটকানো, ছাতা, ৩টি সিটিং গ্যালারী, লাইটিং, পাবলিক টয়লেট ও গাছপালা লাগানোসহ বিভিন্ন সুযোগ ও সুবিধা রাখা হয়েছে। ভাঙঙ্গনরোধে নদের তীরে পূর্বে থাকা ফুটপথ রক্ষায় প্রটেকটিং ওয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। যা সড়ক ভাঙন রোধ, টেকসই ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ওই সড়ক জুড়ে নির্মিত হচ্ছে ছাতা ও তিনটি সিটিং গ্যালারী। যার ফলে সড়কে আসা দর্শনার্থী ওখানে বসে নদীর আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া গাছপালা লাগানোসহ পাবলিক টয়লেট ও বিউটিফিকেশনের কাজও করা হচ্ছে। যার মাধ্যমে বিনোদন ক্ষেত্র আরও বেশি সম্প্রসারিত হবে। জার্মান সরকারের অর্থায়নে কর্পোরেশনের সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই ওই কাজ শেষ করতে হবে। তাই দ্রুত প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগ উঠেছে পূর্বের প্রকল্প সামাল দিতেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এছাড়া টেন্ডার ছাড়াই এ কাজটি বাগিয়ে নিয়েছে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করা বাধ্যবাধকতা থাকায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করছে। ফলে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন এবং পূর্বের প্রকল্পের মতো নতুন প্রকল্পেরও ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে ওই প্রকল্পের কিছু কাজ অনুমতি ছাড়াই বাংলাদেশ রেলওয়ের জায়গায় নিমিত হচ্ছে এমন অভিযোগও রয়েছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, চুক্তি অনুযায়ী শুধুমাত্র সড়ক সংস্কার ও নদী শাসন করতে পারবে। অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণে অনুমতি নেই।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ সময়ের খবরকে বলেন, পর্যাপ্ত সময় ছিল। তাই আগে-ভাগে প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করতে পারতো। এতো দ্রুত ও টেন্ডার বিহীনভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কাজ অনেকটা নিম্নমানের হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়ী।
জনউদ্যোগ, খুলনার আহবায়ক কুদরত-ই খুদা সময়ের খবরকে বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপরিকল্পিতভাবে পর্বের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ায় নদে ধসে গেছে। নতুন প্রকল্পেও টেন্ডার বিহীন ও তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এতে কাজের মান ভালো হওয়া সম্ভব না। এছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন ও কেসিসি’র তদারকির অভাবে রয়েছে। ঠিকাদারদের মধ্যেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই। ফলে পূর্বের মতো বর্তমান প্রকল্পেরও সুফল নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
কর্পোরেশনের নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন (প্রষণে) সময়ের খবরকে বলেন, রিভাইজ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাই টেন্ডার আহ্বানের প্রয়োজন নেই। জার্মান টিম সরেজমিনে এসে জায়গাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের অনুমতি দিয়েছে। আর রেলওয়ে ও অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লি¬উটিএ) চুক্তির প্রেক্ষিতে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ হলে সড়কটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও বিনোদনের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত হবে। তিনি আরও বলেন, আগের প্রকল্পে কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়নি। প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় অনাকাঙ্খিতভাবেই কিছু অংশ ধসে গিয়েছিল। পরে তা মেরামত করা হয়।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স-এর মালিক জিয়াউল আলম টিটু সময়ের খবরকে বলেন, ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত কাজ শেষ করতে গিয়ে হয়তঃ সীমিত কিছু ত্র“টি-বিচ্যুতি হতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে কাজ অনেক ভালো হচ্ছে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬











ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬