খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

‘জিয়াউর রহমানের সাথে তিন দিনের সমুদ্র ভ্রমণ এখনও আনন্দ দেয়’

বাসর রাতে পুলিশের তাড়া খেয়ে নববধূকে রেখে পালিয়ে যান শফিকুল আলম মনা

এম এ কবির মুন্সী | প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:৫২:০০

“দেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম চলছে। ১৯৮৪ সালের ১৫ জুলাই আমার বিয়ের যাবতীয় কাজ শেষ। তখন রাত আনুমানিক ১২টা হবে। সকলে আমাকে আর নববধুকে বাসর ঘরে পাঠিয়ে ঘুমাতে গিয়েছিল। রাত ১২টা ৩০ মিনিট থেকে একটার মধ্যে হঠাৎ বাইরে চিৎকার শুনতে পাই, সকলে বলছে মনা পুলিশ পুলিশ পালা। নববধূকে ঘরে রেখে পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যাই। দুইদিন পর বাড়ি ফিরি। আর সেই দুইদিন নববধূ কিছুই মুখে তুলছিল না। শুধু কেঁদেছিল আর বলেছিল কোন চোর-গুন্ডার সাথে বিয়ে দিয়েছে আমায়। পরিবারের কেউ বুঝাতে সক্ষম না হলেও পরে আমি বুঝিয়ে তিন দিন পর আমাদের বাসর হয়।” সেই দিনের এ কষ্টের দিনগুলোর কথা এভাবেই বর্ণনা করেন জেলা  বিএনপি’র সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা।
পৈতৃক নিবাস ভারতে হলেও ১৯৫৭ সালের ২ জুন ৩৬ মুন্সীপাড়া ২য় গলিতে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এস এম শফিকুল আলম মনা। পিতা মরহুম শেখ মাজেদ বক্স ব্যবসায়ী ছিলেন, আর মাতা মরহুম শেখ রহিমা খাতুন ছিলেন গৃহিনী। পাঁচভাই চার বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম আর ভাইদের মধ্যে তৃতীয়। বর্তমানে চারবোন ও তিন ভাই বেঁচে আছেন। বাবা-মায়ের এ ছোট্ট দুষ্টু সন্তান এস এম শফিকুল আলম মনা লেখাপড়ায় ভাল হওয়ায় ভালবেসে সকলে মনা বলে ডাকতো।
বিএনপি’র এ নেতা শিক্ষা জীবনের স্মৃতিচারণে বলেন, “প্রথম লেখা-পড়া শুরু করি ভিক্টোরিয়া প্রাইমারি স্কুলে। এরপর জিলা স্কুল এবং সর্বশেষ সেন্ট জোসেফ স্কুল থেকে ১৯৭২ সালে এসএসসি পাস করি। স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে বর্তমান সরকারি বিএল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি। এরপর মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন, সর্বশেষ ল’ কলেজ থেকে পাস করার পর শিক্ষা জীবন শেষ করি।” তিনি বলেন, সরকারি বিএল কলেজে অধ্যায়নরত অবস্থায় বন্ধুদের সাথে মিছিল মিটিং করতে করতে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি।
রাজনীতির স্মৃতিচারণে বিএনপি নেতা মনা বলেন, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। কিন্তু পরে মাওলানা ভাসানী ১৯৭৫ সালে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলটি বিলুপ্তির পর সকলে জিয়াউর রহমানের নবগঠিত জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেই। শুরু থেকে আমি জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতৃত্ব¡ দেই। এর আগে জাগো দলে যুবদলের নেতৃত্ব দিয়েছি।
তিনি বলেন, দুষ্টু হলেও তখন আমাকে নিয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্নের অন্ত ছিল না। তাদের দু’জনের ইচ্ছা ছিল ছেলে একদিন বড় ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই লক্ষে আমাকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করিয়েছিলেন। তবে বাবা-মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আমি কলেজে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। বিএল কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করি। এরপর পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলে মনোযোগী হই রাজনীতিতে। এভাবেই বাবা-মায়ের স্বপ্নটা স্বপ্নই থেকে গেল। তবে আনন্দের বিষয় এটাই যে এরপর বাবা-মা ও স্ত্রীসহ আমার পুরো পরিবার কখনও আমাকে রাজনীতি করতে বাধা দেননি। বরং পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
শহিদ জিয়ার স্মৃতিচারণে তিনি বলেন, “জীবনে সব থেকে বড় আনন্দ হল শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে তিন দিন সমুদ্র ভ্রমণ।” এ নেতা  বলেন, “১৯৮০ সালে সারাদেশের মেধাবী ছাত্রদের বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা, মৎস্য সম্পদ ও সমুদ্রের খনিজ সম্পদ সম্পর্কে জানাতে এ সকল মন্ত্রণালয়ের প্রধানদের সাথে নিয়ে সফল রাষ্ট্র নায়ক জিয়াউর রহমান সমুদ্র ভ্রমনে যান। যে ভ্রমনে খুলনা থেকে আমারও যাবার সুযোগ হয়েছিল। সেই তিন দিন জিয়াউর রহমানের কাছে থাকা এবং এমন এক মহান নেতার কাছে থেকে গল্প করার সেই স্মৃতি আজও আমাকে আনন্দ দেয়।”
তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “জিয়াউর রহমানের রেখে যাওয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আজ হারিয়ে গেছে আমাদের কাছ থেকে। আজ শহিদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হয়েও দেশের কল্যানে, তার আদর্শ রক্ষায় কিছুই করতে পারছি না আমরা। এই মহান নেতা আজ বেঁচে থাকলে আমরা মুখও দেখাতে পারতাম না।” তিনি বলেন, “শহিদ জিয়ার একটা প্রতিচ্ছবি আমাদের তারেক রহমান।  রাজনৈতিক শতকষ্টের মাঝে তার মুখটা যখন সামনে ভেসে ওঠে, তখন মনে শান্তি ফিরে পাই।”
জিয়াউর রহমানের সেই সৈনিক মনা বলেন, “জীবনে যদি নিজের কোন ইচ্ছা পূরনের সুযোগ পেতাম, তবে নিজ ক্ষমতা বলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতাম। যে দেশের মালিক জনগণ, সেই জনগণের ভোটে হবে নির্বাচিত সরকার। এমন একটা দেশ গড়তাম আমি।”  
রাজনীতিতে ততটা ‘সফল হতে পারিনি’ জানিয়ে এই নেতা বলেন, “শিশু জীবনটা খুব আনন্দে কেটেছে আমার। তখন স্কুলে যাওয়া লাগতো না। থাকতো না কোন বাধা। শুধু আদর আর আদর।” যখন একাকী থাকি তখন ছোট্টবেলার খেলার সাথী, দুষ্টুমি, রাজনীতিতে বিপদের সাথী আর বন্ধু আনোয়ারে  কথা এখনও আসমার মনে পড়ে। তিনি বলেন,  “বন্ধু আনোয়ারের সাথে যে কোন কারনে ভুল  বোঝাবুঝিতে আমার দ্বন্দ্ব বেধে যায়। তার কিছু দিন পর সেই বন্ধু মারা যায়। আজও ভুলতে পারিনি আনোয়ারকে।”
কৈশরের দুষ্টুমির দিনগুলোর বর্ননা দিতে গিয়ে এই নেতা বলেন, “ছোট্টবেলায় বাস্কেটবল ও হকি খেলতে খুব পছন্দ করতাম। খেলাধূলার পাশাপাশি দুষ্টুমিও কম করতাম না। ফাঁক পেলেই বন্ধুদের নিয়ে কখনও জিলা স্কুলে আম পেড়েছি, কখনও নারকেল গাছের ডাব পেড়েছি আবার বন্ধুদের নিয়ে পিকনিক হলে কখনও হাঁস-মুরগী চুরি করে খেয়ে তার জরিমানাও দিয়েছি।” সেই স্মৃতি টেনে আরও বলেন, “একবার স্কুল পালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে গিয়েছিলাম।  কিন্তু বাসায় ফিরতে রাত হয়ে যায়। বাড়ি ঢুকেই দেখি বাবা লাঠি নিয়ে বসে আছেন।  তার পর যা হবাব তাই হয়েছিল।”
অবসর সময় এই নেতা বই পড়তে ভালোবাসেন। প্রিয় রং সাদা, পায়জামা পাঞ্জাবী খুব প্রিয়।  তিনি বলেন, “আমি কর্মীদের উপহার চাই না, কর্মিরা আমার সাথে থাকলেই আমি মহাখুশি।”
বিএনপি’র এ নেতা খুলনাকে পূরনো সেই শিল্প নগরী হিসেবে আবার দেখতে চান এবং খুলনাকে একটা বাসযোগ্য নগরী হিসেবে রেখে যেতে চান। বলেন, “খুলনাকে পরিকল্পিত একটি শহর করে রেখে যেতে চাই। যেখানে নাগরিকের সকল সুযোগ সুবিধা থাকবে। থাকবে বিনোদনের সকল পরিবেশ। এমন একটা শহর মৃত্যুর আগে দেখে যেতে চান”।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “কোন কারনে যেন আমাদের নেতাকর্মীরা অন্যের কাছে বিক্রি হয়ে না যায়। শহিদ জিয়ার আদর্শ থেকে যেন আমরা সরে না যাই।” সর্বোপরি তিনি বলেন, আমাদের মত নেতাদের নিয়ে সময়ের খবরের এমন একটা উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



আইয়ুব বাচ্চুর যতো অ্যালবাম

আইয়ুব বাচ্চুর যতো অ্যালবাম

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৩২





সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

সক্ষমতা সূচকে পেছালো বাংলাদেশ

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৩:৪৪






ব্রেকিং নিউজ











শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯