খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

বারী সিদ্দিকী আর নেই

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:১০:০০

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ও নন্দিত বংশীবাদক বারী সিদ্দিকী (৬৩) আর নেই। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে মারা যান তিনি (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন-আমরা তো আল্লাহর এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাব)। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পৃথক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
এদিকে সন্ধ্যা ৬টায় সঙ্গীত শিল্পী বারী সিদ্দিকীর শিল্পীর নিজ হাতে গড়া কার্লি গ্রামের বাউল বাড়িতে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। নামাজে জানাজার আগে বারী সিদ্দিকীর ছেলে সাব্বির সিদ্দিকী সবার কাছে তার বাবার আত্মার শান্তি কামনা করেন। এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকার সরকারি কলেজ মাঠে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এর আগে প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী বারী সিদ্দিকীর (৬৩) প্রথম নামাজে জানাজা সকাল ১০টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।
সাব্বির সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বেলা সাড়ে ১১টায় নেওয়া হয় মরদেহ। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা হয়। গত ১৭ নভেম্বর রাতে হার্ট অ্যাটাক করলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বারী সিদ্দিকীর দু’টি কিডনিও অকার্যকর ছিল। দুই বছর ধরেই তার ডায়ালাইসিস চলছিল।
সংক্ষিপ্ত জীবনী : বারী সিদ্দিকী একাধারে খ্যাতিমান সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার ও বংশীবাদক। তিনি মূলত গ্রামীণ লোকসঙ্গীত ও আধ্যাত্মিক ধারার গান করে থাকেন। তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’সহ আরও অনেক গান ব্যাপক জনপ্রিয়। বারী সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে পরিবারেই গান শেখায় হাতেখড়ি হয় তার। ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষসহ অসংখ্য গুণী শিল্পীর সান্নিধ্য লাভ করেন। ওস্তাদ আমিনুর রহমান একটি কনসার্টের সময় বারী সিদ্দিকীকে দেখে তাকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দেন। পরে ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন। সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ওপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সঙ্গে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।
দীর্ঘদিন সঙ্গীতের সঙ্গে জড়িত থাকলেও বারী সিদ্দিকী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান ১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর। এই ছবিতে তার গাওয়া ছয়টি গানই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার আর নেই

বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার আর নেই

২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১০

বিপ্লবী জসিম উদ্দিন মন্ডল আর নেই

বিপ্লবী জসিম উদ্দিন মন্ডল আর নেই

০৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১০


নায়করাজের জীবনাবসান

নায়করাজের জীবনাবসান

২২ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:২০



মেজর জিয়ার ইন্তেকাল

মেজর জিয়ার ইন্তেকাল

২৯ জুলাই, ২০১৭ ০০:৪০




ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬