খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

দক্ষিণাঞ্চলে এইচআইভি আক্রান্তের ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় শীর্ষে খুলনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

দক্ষিণাঞ্চলের ৮ জেলায় এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। ভারত থেকে ফিরে আসা দিনমজুর এবং ভাসমান পতিতাদের রক্ত পরীক্ষার পর ৮০ শতাংশ এইচআইভি ভাইরাস বহন করছে বলে সনাক্ত করা হয়েছে। খুলনায় এইচআইভি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মোট আক্রান্তের মধ্যে ৪০ শতাংশ খুলনায়। গেল এক বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ১২ জন মারা গেছে।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এইচআইভি আক্রান্ত জেলাগুলো হচ্ছে-খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও গোপালগঞ্জ। এসব জেলায় ৩১৯জন এইচআইভি জীবানু বহন করছে। তার মধ্যে শুধুমাত্র খুলনা জেলায় ৮৪ জন। গেল বছরের নভেম্বর থেকে এ বছর মধ্য নভেম্বর পর্যন্ত এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়ে ১২ জন মারা গেছে। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৫৯ জন। আশার আলো, লাইট হাউজ, খুলনা মুক্তি সেবা সংস্থা, ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটি এ তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
মুক্ত আকাশ বাংলাদেশের সমন্বয়কারী রেহেনা বেগম জানান, দিন মজুর হিসেবে কর্মরত মহিলারা ভারতে অবস্থানকালীন সময়ে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। তাছাড়া ভসমান যৌন কর্মী, হিজড়া, সমকামীরাও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং বিভিন্ন বেসরকারি সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছে। বানিশান্তা, বাগেরহাট ও যশোর পতিতালয়ে প্রতি নিয়ত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ছিন্নমূল মানব কল্যাণ সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবুল হোসেন জানান, মহানগরীর বয়রা মোড়, পাবলা, নিউমার্কেট, খালিশপুর, দৌলতপুর, রূপসা, হাদিস পার্ক, কেডিএ বাইপাস সড়ক, নতুন রাস্তার মোড় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। তার দেয়া তথ্যমতে, এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রতি মাসে ৬০ জনের রক্ত পরীক্ষা করানো হচ্ছে। শুধুমাত্র খুলনা মহানগরী এলাকায় গত বছর ১৮ জন এইচআইভি আক্রান্ত বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, মাদকসেবীদের ব্যবহৃত সিঞ্জিজ, আক্রান্ত মায়েদের দুধ, যৌন রস ও অপরীক্ষিত রক্ত গ্রহণের ফলে এইচআইভি বহনকারীর সংখ্যা বাড়ছে।
মুক্তিসেবা সংস্থার প্রোগ্রাম কো-অডির্নেটর মোঃ নাসিমুল হক রনি জানান, এইচআইভি প্রতিরোধে এবং রোগী সনাক্তকরণের জন্য এ বছর ৪৭৩ জন মাদকসেবী, সমকামী ও হিজড়াতের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। ৯২৫ যৌন ও সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও প্রজনন উপকরণ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইট হাউজের ম্যানেজার হোসনে আরা রেখা জানান, ভাসমান পতিতাদের চলাফেরার জন্য রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। মহানগরী এলাকায় এক হাজার ৭২ জন ভাসমান পতিতাকে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে কনডম সরবরাহ করা হচ্ছে।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ রওশন আনোয়ারের দেয়া তথ্যমতে, স্থল ও সমুদ্র বন্দর এলাকা এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ। বিদেশী পর্যটক ও নাবিকদের অবাধ মেলামেশার কারণে এইচআইভি জীবানু ছড়িয়েছে। এইচআইভি প্রতিরোধে দক্ষিণাঞ্চলের যৌনপল্লীগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬