খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

চলাচলে ভোগান্তিতে জনসাধারণ

কেসিসি, কেডিএ ও এলজিইডি’র উদাসীনতায় বেহাল নগরীর দু’টি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ২১ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

বেহাল অবস্থা ধারণ করেছে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বাইপাস সংযোগ সড়ক ও শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড। সড়ক দু’টির বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গিয়ে বড় বড় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোডের তিনটি স্থানের দুই পাড় ভেঙ্গে পড়েছে আর ভাঙন কবলিত ওই স্থানের ঠিক মাঝখানে পিঠ ডেবে খালে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির সময় ওই খাল দিয়ে পানির স্রোত প্রবাহিত হয়। এ অবস্থায় সড়ক দু’টি দিয়ে জনসাধারণের চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
জানা গেছে, নগরীর গোয়ালখালির বাস্তুহারা থেকে সিটি পাইপাস পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ৩৭ মিটার সড়কের আশপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সেক্টর সদর দপ্তর, নৌ-বাহিনী ঘাঁটি (বানৌজা তিতুমীর), বিএনএন স্কুল এন্ড কলেজ, এ্যাংকরেজ স্কুল, নৌ-বাহিনী ভর্তি কেন্দ্র, নাবিক কলোনী, পুলিশ লাইন, মুজগুন্নী শিশু পার্ক, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রায়েরমহল (অনার্স) কলেজ, নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহজ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড। এছাড়া খালিশপুর ও দৌলতপুরসহ নগরীর পশ্চিম পাশের অধিবাসীরা নগরীতে প্রবেশ না করেই ওই সড়ক ব্যবহার করে শহরের বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি দীর্ঘদিন। যার ফলে সড়কটি বর্তমান বেহাল অবস্থা। বিভিন্ন স্থানে বিটুমিন উঠে গেছে। আবার কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি স্থানে সড়কের পিঠ ডেবে গিয়ে খালে মতো অবস্থা ধারণ করেছে। বৃষ্টির সময় ওই খালে গাড়ি গিয়ে আটকা পড়ছে। যার ফলে প্রায় ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। আর জনসাধারনের চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ অর্থ বছরে ওই সড়কটি নির্মাণের কাজ শুরু করে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। এরপর ২০০৮-৯ অর্থ বছরে নির্মাণ কাজ শেষ হয়। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর কেডিএ’র ৪৯২তম সভায় বোর্ড সদস্যদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০১০ সালের ২৮ মার্চে সড়কটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরকে বুঝে নেয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চিঠি দেয়া হয়। কিন্তু তাতে কোন সাড়া দেয়নি ওই দুই সংস্থা। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ৬ ফেব্র“য়ারি ওই দু’টি সংস্থাকে ফের চিঠি দেয় কেডিএ। তাতেও কোন সুরাহা মেলেনি। এ অবস্থায় গত ৮ বছর ধরে সড়কটির কোন সংস্কার হয়নি। এ ব্যাপারে তিনটি সংস্থাই রয়েছে উদাসীন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে সড়কটি একদম চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়ক দিয়ে যেতে গেলে খালে গিয়ে আটকা পড়ে গাড়ি। অনেক সময় ক্রেন দিয়ে ওইসব দুর্ঘটনা কবলিত গাড়ি তোলা লাগে। কোনোভাবেই যানবাহন বা পথচারী নিরাপদ চলাচল করতে পারে না। ছোট-বড় দুর্ঘটনা প্রায় ঘটে। ফলে জনসাধারনের চরম ভোগান্তি হচ্ছে।
স্থানী বাসিন্দা মোঃ শাহাবুদ্দিন জানান, গত বৃষ্টি মৌসুমে একদম গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কয়েকটি স্থানে সড়কের মাঝখানে ডেবে যাওয়ায় সড়কে আসা গাড়ি দুর্ঘটনায় কবলে পড়তে থাকে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দুই দফায় অন্তত ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে চলাচলের উপযোগী করে। কিন্তু কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডি কোন প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসেনি।
অপরদিকে কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, শহরকে সম্প্রসারিত করার লক্ষে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বাইপাস সংযোগ সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। দুই দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ওই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সড়কটি নির্মাণের জন্য টেন্ডারের আহ্বান করলে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী ওই বছরই কাজ শুরু করে ২০১৩ সালের ৩০ জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুকুরের মতো বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিটুমিন উঠে গেছে। যার ফলে নগরীতে প্রবেশের ব্যস্ততম এই সড়কটিতে স্বাভাবিক যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। প্রায় ঘটছে দুর্ঘটনা। আর বাড়ছে যাত্রীদের ভোগান্তি। অচিরেই সড়কটি মেরামত করা না করা হলে  সম্পূর্ণ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একাধিক যাত্রীবাহী পরিবহণের ড্রাইভার জানান, সড়কটির ময়ূরী ব্রীজ সংলগ্ন দু’পাশে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করতে হচ্ছে চালক ও সাধারণ যাত্রীদের।
কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম সময়ের খবরকে বলেন, কাজ শেষ হওয়ার পর খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তররের কাছে সড়ক দু’টি বুঝে দেয়া হয়েছে। এখন তারা ওই সড়কটির রক্ষণাবেক্ষণ করবে। কেডিএ’র রক্ষণাবেক্ষণের অধিকার আর নেই। কিন্তু কেন তারা সড়ক দু’টির নিজেদের অংশ সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের বৈষয়িক কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কেডিএ সড়ক বুঝে নেয়ার জন্য চিঠি দেয়। কিন্তু ওই চিঠিতে সড়কের  দৈর্ঘ্য-প্রস্থ উল্লে¬খ নেই। আর অবৈধ স্থাপনা সম্পর্কেও কিছু বলা হয়নি। ড্রেন নির্মাণ করা হয়নি। তাই এভাবে সড়কটি বুঝে নেয়া হয়নি।
এলজিইডি’র ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, সড়কটির বাকী অংশ এলজিইডির কিনা তা যাচাই করে দেখতে হবে। যদি এলজিইডির হয় তাহলে সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬