খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

মির্জা ফখরুলকে ওবায়দুল কাদের

‘কথা হওয়া দরকার’

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:১০:০০

নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে দেখা হলো আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। কুশল বিনিময় ছাড়াও কথাও হলো তাদের মধ্যে। মির্জা ফখরুলকে দেখে ওবায়দুল কাদের বললেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, তাই আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রাখাই ভালো।’ সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতারা একথা জানিয়েছেন। দেখা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফখরুলের সঙ্গে থাকা বিএনপি’র নেতা-কর্মীরাও।
জানা গেছে, ওবায়দুল কাদের ও মির্জা ফখরুলের গতকাল রবিবার ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজ কোম্পানির ফ্লাইটে সৈয়দপুর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মির্জা ফখরুল পরের ফ্লাইটে যান। ফলে একই ফ্লাইটে দুই নেতার আর সৈয়দপুর যাওয়া হয়নি।
দুপুরে সৈয়দপুর থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে অপেক্ষা করছিলেন ওবায়দুল কাদের। পাশের আরেকটি কক্ষে মির্জা ফখরুল আছেন জেনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান কাদের। ফখরুলের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় বলেন, ‘ঢাকা এয়ারপোর্টে আপনার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। কিন্তু শুনলাম আপনি আসছেন না। একসঙ্গে এলে ভালো হতো। কথা বলা যেত।’ এ সময় ফখরুলকে কাদের আরও বলেন, ‘যেহেতু রাজনীতি করি, আলাপ-আলোচনার পথ খোলা রাখা ভালো। কথা হওয়াও দরকার।’ জবাবে ফখরুল বলেন, তিনি সকালের ফ্লাইটেই আসতেন। কিন্তু পারিবারিক কারণে একটু পরে আসতে হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবীর খান জানান, বিমানবন্দরে দুই নেতার মধ্যে কুশল বিনিময় হয়েছে। দুই নেতার আলাপের সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সেখানে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক সুজিত নন্দী, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ফ্লাইটের সময় হলে ওবায়দুল কাদের সেখান থেকে ঢাকায় চলে আসেন। তখনো মির্জা ফখরুল অন্য আরেকটি বেসরকারি বিমান সংস্থার ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
এর আগে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুনেছি বিএনপি’র মহাসচিবের একই ফ্লাইটে আসার কথা ছিল। একসঙ্গে আসতে পারলে ভালো লাগতো। আর কিছু না হোক, শুভেচ্ছা বিনিময়তো হতো। শুনেছি ওনার আসন আমার পিছনে ছিল।’
এর আগে গতকাল রংপুরের পাগলাপীরের ক্ষতিগ্রস্ত ঠাকুরপাড়া গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক নষ্ট করতেই একটি রাজনৈতিক অশুভ শক্তি রংপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
ধর্মীয় অবমাননা করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ১০ নভেম্বর রংপুরের ঠাকুরপাড়া গ্রামে বেশ কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের সংঘর্ষে একজন নিহত ও কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়।
ঠাকুরপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অবস্থা দেখতে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধিদল গতকাল রবিবার দুপুরে রংপুরে যায়। কাদের অভিযোগ করে বলেন, আজকে একটি রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল, সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি দেশে এসব অপকর্ম করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্ক নষ্ট করতে চাইছে।
অন্যদিকে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল রবিবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের বুড়িরহাট খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘আলোকিত লালমনিরহাট সাইকেল র‌্যালির সমাপনী অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বিএনপিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখলে সেটা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব তা মানবে না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়, তারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে যে তামাশা তারা করেছিল, সেই নির্বাচনে জনগণ অংশগ্রহণ করেনি। যার ফলে নির্বাচন কমিশনকে ১৫৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দলের কোনও প্রার্থী সেখানে অংশ নেয়নি। এই সরকার গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য আমাদের যুদ্ধে নামতে হবে। এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমাদের জয়ী হতে হবে। জনগণের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বারবার বলে আসছি দেশের জনগণের যে ভোটাধিকার রয়েছে তা বাস্তবায়িত করতে, সংঘাতের রাজনীতি বাদ দিয়ে একটা সমঝোতায় আসতে। এছাড়া বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে কিভাবে সব দলের অংশগ্রহণে একটা সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হতে পারে তার একটা ব্যবস্থা উদ্ভাবন করতে। কিন্তু সরকার এই কথায় কর্ণপাত করছে না। কারণ তারা জানে যদি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হয়, তাহলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেই কারণে তারা চেষ্টা করছে যেন বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিতে পারে।’

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬