খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ব্যবসার কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

খুলনায় বাড়ছে বিদেশী প্রতারক চক্রের আনাগোনা!

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১২ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:১০:০০

ব্যবসার কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া বিদেশী প্রতারক চক্রের সদস্যদের আনাগোনা বাড়ছে খুলনাতেও। রাজধানী ঢাকা, বন্দর নগরী চট্টগ্রাম, বিভাগীয় শহর সিলেটের মতো জায়গায় রয়েছে আন্তর্জাতিক এ সকল চক্রের অবস্থান। দেশের ওই সকল শহরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কারনে বিদেশী প্রতারক চক্রের সদস্যরা অধিকাংশ খুলনার দিকে ঝুঁকেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত এসকল প্রতারণা চক্রের অধিকাংশ সদস্য নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, ইরান, চীনের নাগরিক।   
মহানগরীতে ইতোমধ্যে কয়েক দফায় বিদেশী প্রতারক চক্রের সদস্যরা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে পুলিশের দুর্বল তদন্ত ও দায়সাড়া মনোভাবের কারনে এ প্রতারক চক্রের আগমন খুলনায় দিন-দিন বেড়েই চলেছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০১৬ সালে সদর থানাধীন রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় একটি শো-রুমে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় প্রতারক চক্রের তিন সদস্য আটক হয়। তারা ছিল ইরানী নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর কারাগারে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ অথবা বাংলাদেশে কি কারনে তাদের অবস্থান বা তাদের বাকী সদস্যদের বিষয়ে কোন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। একই বছরে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন শেখপাড়া বাজার এলাকায় প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সময় দু’প্রতারককে এলাকাবাসী আটক করে থানায় সোপর্দ করেন। ওই ঘটনায়ও মামলা হয়েছিল কিন্তু ফলাফল একই।
সম্প্রতি সময়ে লটারী প্রলোভন দেখিয়ে খুলনার ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টায় চীনা নাগরিকদের একটি প্রতারক চক্র খুলনায় অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশী মানুষের প্রতি বাংলাদেশীদের সম্মান প্রদর্শন ও বিশ্বাসকে পুঁজি করেই এই প্রতারকরা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। তবে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে ওই চক্রটি। নগরীর সোনাডাঙ্গা, নিরালা আবাসিক এলাকাসহ শহরের বেশকিছু স্থানে বিদেশী নাগরিকরা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। আসলে এদের বিষয়ে কোন তথ্য পুলিশের কাছে আছে কিনা তাও সঠিকভাবে জানা নেই।
এ বিষয়ে কেএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (সিটিএসবি) মনিরা সুলতানা এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনায় যে সকল বিদেশী রয়েছেন, তাদের মধ্যে বিভিন্ন এনজিও সংস্থা ও প্রজেক্টের কাজে নিয়োজিতরা আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকেন। শুধুমাত্র কিছু বিদেশী শিক্ষার্থী রয়েছেন, তা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত। তারাই সার্বক্ষণিকভাবে খুলনায় অবস্থান করছেন। বিদেশীদের সুনির্দিষ্ট তালিকা সম্পর্কে তিনি জানান, কোন বিদেশী নাগরিক খুলনায় প্রবেশ করলে সিটিএসবি’র কাছে তার সকল তথ্য প্রদান করবেন। সেই তথ্য কেএমপিতে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু যদি কোন বিদেশী অসৎ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন, সে ক্ষেত্রে তিনি পুলিশকে তার তথ্য প্রদান না করে নিজেকে লুকিয়ে রাখবেন। এটা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি ইমেগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল হতে মতামত দেন।  
গত ১০ নভেম্বর ঢাকার উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের তিন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১ । তারা হচ্ছেন কুয়াতে ফুতসু, আমেলিন মাওয়াবো ও এমবিদা একানি। এমধ্যে দু’জন ক্যামেরুনের নাগরিক বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল সেট, দু’টি পাসপোর্ট, একটি ভুয়া আমেরিকান আইডি কার্ড, ৫০০ মূল্যমানের ১২৪টি ইউরো নোট সমপরিমাণ ৬২ লাখ টাকা, বাংলাদেশি সর্বমোট ২১ হাজার ১০০ টাকা, ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও তিন বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বিদেশী এ প্রতারক চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশে প্রচুর টাকা বিনিয়োগের নাম করে সাধারণ ব্যবসায়ী ও টাকা ওয়ালা চাকুরিজীবীদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর তারা সময় সুযোগ বুঝে টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেয়।
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, এ রণের বিদেশী প্রতারক চক্রের বিষয়টি র‌্যাব-৬ গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিদেশী নাগরিকরা বাংলাদেশে কোন না কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আসেন। এর বাইরে কিছু বিদেশীর অবস্থান দেশে রয়েছেন, যা বিভিন্ন সময়ে অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত হিসেবে পাওয়া গেছে। খুলনায় তাদের কোন চক্রের অবস্থান রয়েছে কিনা এবিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের জন্য আমাদের ঢাকার দারস্থ হতে হয়। তার পরেও আমরা যত দ্রুত সম্ভব অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছি। বিদেশীদের অবস্থান ও সার্বিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের নির্দিষ্ট একটি দপ্তর রয়েছে। তারাই আসলে বলতে পারবেন খুলনায় কতজন বিদেশী নাগরিক কোন কোন অবস্থানে রয়েছেন। তাদের তালিকার বাইরে যারা থাকবেন অবশ্যই সে সকল বিদেশীদের ব্যাপারে খোঁজ নেয়া জরুরী।   
এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, বিষয়টি সংশ্লি¬ষ্টদের সাথে আলোচনা করে গুরুত্বের সাথে দেখা হবে। এ ধরণের প্রতারক চক্র দেশে অনেক আগে থেকেই অবস্থান করছে। খুলনায় তাদের অবস্থান থাকলে গোয়েন্দা নজরদারিতে ধরা পড়ে যাবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। এ ধরনের প্রতারক চক্রের সাথে কোন সাধারণ মানুষের সাক্ষাৎ বা কোন কথাবার্তা হলে নিকটবর্তী থানাকে অবগত করার পরামর্শ দেন কেএমপি কমিশনার।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬