খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

জনবল সংকটে খুমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগ : ভোগান্তিতে ভর্তিচ্ছু রোগীরা

বি.হোসেন | প্রকাশিত ১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তিচ্ছু রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে। দুর্ঘটনা, মারামারির মত জরুরী সময়ও নিয়ম মেনে ভর্তি করাতেই সময় নষ্ট হওয়ায় রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে যাচ্ছে। জনবল সংকট আর ভর্তি পদ্ধতি কারণে আন্তরিকতা থাকলেও কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছেনা দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা। এতে অনেক সময় তাদের নাজেহাল হতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের হাতে। ভর্তি বিভাগে জনবল বাড়নোর পাশাপাশি পদ্ধতির পরিবর্তন না হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন হাসপাতালের জরুরী বিভাগ ঘুরে দেখা যায়, সকাল, বিকেল ও রাতে পৃথক ভাবে তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ভর্তির দায়িত্বে থাকেন। রাতের শিফটে রোগী ভর্তির চাপ তুলনামূলক কম থাকায় দু’জন দায়িত্ব পালন করেন। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সকালের শিফটে রোগী ভর্তি হয় শতাধিক। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা ও বিভিন্ন তথ্যের জন্য আরও দু’শতাধিক মানুষকে সেবা দিতে হয় জরুরী বিভাগের ভর্তি শাখা থেকে। একজন রোগী ভর্তি নেয়ার সময় রেজিস্ট্রারের পাশাপাশি রোগীর চিকিৎসাপত্রেও নাম ঠিকানা লিখতে হয়। প্রতি রোগী ভর্তিতেই ৫ থেকে ৬ মিনিট ব্যয়। আর এর সিরিয়াল ঠিক রাখতে যেয়ে বিলম্বিত হচ্ছে মুমূর্ষু রোগীর ভর্তি প্রক্রিয়া। এতে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে যায়। ফলে অনেক সময় রোগীর স্বজনদের হাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সদের।
দেখা গেছে বটিয়াঘাটার গলদামারী এলাকা থেকে রবিন মহলদারের ছেলে নিত্যানন্দ মহলদার এর স্বজনেরা ভর্তি করাতে এসে সিয়িয়ালে কয়েকজনের পেছনে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নার্সদের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ডুমুরিয়া থেকে আসে পুষ্প রানী দাস (৭০) স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হতে আসেন হাসপাতালে। কিন্তু সিরিয়ালের কারণে তার ভর্তি বিলম্বের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন স্বজনরা। একই অবস্থা হয় আড়ংঘাটা এলাকার মরিয়াম আক্তারের (৭)।
কর্তব্যরত নার্সরা বলেছেন, জরুরী বিভাগে এসে কেউ এক মিনিট দেরি করতে চায় না। সিরিয়াল না মেনে সবাই আগে ভর্তি করাতে চায়। বিশেষ করে সকালে অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিত পড়তে হয়। ১০ থেকে ১৫ জনের বেশি রোগীর স্বজন সিরিয়াল দেয়। রুমের ভেতরে চলে আসে। কখনও নিজেরা ঝগড়া করে, আবার কখনও দেরি হওয়ার কারণে আমাদের উপর চরাও হয়। এ ঘটনার উত্তরণে সকাল ও বিকেল শিফটে ভর্তি বিভাগে জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি পুরুষ ও মহিলা রোগী ভর্তিতে পৃথক ডেক্সের ব্যবস্থা জরুরী হয়ে পড়েছে।
জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজার ও স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের খুলনা বিভাগীয় সভাপতি শিলা রানী দাস সময়ের খবরকে বলেন জরুরী বিভাগে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। এমনিতে প্রতিশিফটে তিনজন করে দেয়া হয়। তারপরেও নার্সদের ছুটি থাকলে সেখানে চলতি দায়িত্ব দিতে অনেক সমস্যা হয়। তিনি আরও বলেন আরও ৩ জন নার্স জরুরী বিভাগে দেয়া হলে পুরুষ ও মহিলা আলাদা চেম্বারে ভর্তি করানো সম্ভব। এতে রোগী ভোগান্তি কমার পাশাপাশি জরুরী বিভাগে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ সময়ের খবরকে বলেন সমস্ত হাসপাতালেই জনবল সংকট রয়েছে। তবে জরুরী বিভাগের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়। হাসপাতালের নার্সেস তত্ত্বাবধায়কের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬