খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

রাজবাঁধে গৃহস্থলির বর্জ্য থেকে প্রতি মাসে ৩০ মে. টন রাসটিক কম্পোস্ট জৈব সার

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ০৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০২:২০:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় রাজবাঁধের একটি প্লান্টে প্রতি মাসে গৃহস্থালির ৩শ’ মেট্রিক টন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রায় ৩০ মেট্রিক টন রাসটিক কপোস্ট  জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে। যা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি জমির জৈব গুণাগুণ বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। অবশ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুই যে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তা না। এ ধরনের কার্যক্রমে খুলনা আবর্জনামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হচ্ছে এবং প্লান্টের উপার্জিত অর্থে দু’টি কারিগরি স্কুুল পরিচালিত হচ্ছে। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে শত শত কিশোরী আত্ম-নির্ভরশীল হচ্ছে।
প্লান্ট সূত্রে জানা গেছে, কেসিসি এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৪ হাজার মেট্রিক টন গৃহস্থালির বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য ভ্যান গাড়ির মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি থেকে সংগ্রহ করে নগরীর সেকেন্ডারী ট্যানেন্সফার স্টেশন (এসটিএস) গুলোতে এনে রাখা হয়। এর পর এসটিএস থেকে ওই সব বর্জ্য গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় রাসটিক কম্পোস্ট  জৈব প্লান্টে। প্লান্টে সংগৃহীত বর্জ্য থেকে পচনশীল-অপচনশীল বাছাই করে দু’টি ভাগে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে অপচনশীল বর্জ্য থেকে হার্ট গার্বেজ স্থানীয় ভাবে বিক্রি করা হবে। বাকি বর্জ্য কর্পোরেশনের ড্যাম্পিং পয়েন্ট রাখা হয়। আর পচনশীল বর্জ্য রাখা হয় সার উৎপাদন প্লান্টে। সেখানে ওই বর্জ্য সারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন প্লান্টে গড়ে সাড়ে ৪ টন কাঁচামাল এর সাথে প্রতিদিন ১০ ভাগ গোবর, এক ভাগ করাতকলের গোড়ার সংমিশ্রণ ৫ মেট্রিক টন বানিয়ে বেড (পাইল) করা হয়। এরপর ৬৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৮ থেকে ১০ দিন পর ওই বেড ভেঙ্গে দেয়া হয়। ওই  ৮ থেকে ১০ দিনে বেড থেকে অন্তত ৩ কেজি পানি বের হয়। যা ট্যাংকীতে সংরক্ষণ করা হয়। এরপর দুই দিন পর বেড তৈরি করে ওই ধারণকৃত পানি ব্যবহার করা হয়। ১৪ দিন পর ৪০ থেকে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফের বেড ভেঙ্গে দেয়া হয়। ১ দিন রেখে ফের বেড তৈরি করা হয়। ১০ দিন পর ফের ১৫ থেকে ২০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেড ভেঙ্গে দেয়া হয়। এর ১ দিন পর ফের বেড তৈরী করা হয়। এরপর ১০দিন পর কম্পোস্ট জৈব সারে পরিণত হয়। এভাবে ৪২ থেকে ৪৩ দিনে পচনশীল বর্জ্য পরিপূর্ণ কম্পোস্ট সারে রুপান্তরিত হয়।
জানা গেছে, এ প্লান্টে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ মেট্রিক টন আবর্জনা রি-সাইকেলিং করে ১২শ’ কেজি, মাসে ৩শ’ মেট্রিক টন থেকে ৩০ মেট্রিক টন এবং বছরে ৪ হাজার মেট্রিক টন আবর্জনা রি-সাইকেলিং করে ৩শ’ ৬০ মেট্রিক টন কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হয়। যা বাণিজ্যিকভাবে এক কেজি ২১ টাকা, ২০ কেজি ২৬০ টাকা এবং ৪০ কেজি ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
রাসটিক কম্পোস্ট জৈব প্লান্টের নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা মোড়ল নুর মোহাম্মদ জানান, প্লান্টে উৎপাদিত এ কম্পোস্ট সার কৃষি কাজে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি জমির জৈব গুণাগুণের মাত্রা মাত্র দেড় ভাগ। কিন্তু এ জৈব সার ব্যবহারে অন্তত ৫ থেকে ৭ ভাগে বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ফলে কৃষকরা ধান, পান ও নাসারী ও চিংড়ি ঘের প্রস্তুত করতে ব্যাপক ভাবে এ সার ব্যবহার করছে।
তিনি আরও বলেন, শুধুই যে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ঠিক তা না। এ ধরনের কার্যক্রমে খুলনা আবর্জনামুক্ত পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হচ্ছে এবং প্লান্টের উপার্জিত অর্থে ১৭ ও ১৮ নং ওয়ার্ডে দু’টি কারিগরি স্কুল ও বর্জ্য শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কারিগরি স্কুল থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্ম-নির্ভরশীল হচ্ছে শত শত কিশোরী।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত ফান্ড না থাকায় চাহিদা মতো উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে বছরে এ প্লান্টে অন্তত ১৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য রি-সাইকেলিং করা সম্ভব।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬