খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

জৈব সার, বায়ো গ্যাস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানববর্জ্য শোধনাগার খুলনায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:২১:০০

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানববর্জ্য শোধনাগার এখন খুলনায়। বটিয়াঘাটা উপজেলার রাজবাঁধে খুলনা-সাতক্ষীরা সড়কের পাশে ১.৩ একর জমির ওপর আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাকৃতিক পদ্ধতির সমন্বয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এই মানববর্জ্য পরিশোধন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিশোধনাগারের সিংহভাগ জুড়ে রয়েছে কলাবতি ফুলের বাগিচা। লাল আর হলুদের সমারোহ। দেখে বোঝার উপায় নেই নগরীর হাজার হাজার টন বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। কোনরূপ দুর্গন্ধও নেই।
বেশি দিন আগের কথা নয়। শহরতলীর এ প্রাঙ্গণে ছিল কেসিসি’র একটি ট্রেন্সিং গ্রাউন্ড। ময়লা ফেলার কারণে সেখানে ছিল পুতিগন্ধময় পরিবেশ যা এলাকাবাসীর দুর্ভোগেরও কারণ হয়েছিল। আজ সেখানে বিরাজ করছে সুন্দর সুবজ পরিবেশ। সিটি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মানব বর্জ্য শোধনাগারটি গড়ে তোলা হয়েছে।
নেদারল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসএনভি)’র তত্ত্বাবধানে মানববর্জ্য শোধনাগারটি নির্মিত হয়েছে। সহযোগিতা করেছে থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আধুনিক করতে তিন বছর আগে উল্লিখিত সংস্থাগুলি কাজ শুরু করে। তবে মূল কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে এবং শোধনাগারটি চালু হয় চলতি বছরের ৪ মার্চ।
প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার লিটার মানববর্জ্য পরিশোধনের সুযোগ রয়েছে এ পরিশোধন কেন্দ্রে। গত ৮ মাসে এখানে ৩ লক্ষ ১৬ হাজার লিটার বর্জ্য পরিশোধন করা হয়েছে। পানি শোধনাগারের আদলেই এটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি স্থানে যে বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা ভ্যাকুটাগ এর মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে আনা হয় শোধনাগারে, ফেলা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। সেখানে পাইপের মাধ্যমে ভাগ হয়ে সমস্ত মল কয়েকটি বেডে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি বেড প্রতিদিন ৩৬ হাজার লিটার বর্জ্য ধারণ করতে পারে। বেডগুলির নিচে ইটের খোয়া, পাথর ও বালু দিয়ে ফিল্টার পদ্ধতিতে বর্জ্য পানি পরিশোধন করা হয়। বর্জ্য শোধনের জন্য এর পার্শ্বে উঁচু জায়গায় কলাবতি ফুলের চাষ করা হয়েছে। এই ফুলের গাছ মানববর্জের ব্যাকটেরিয়া শোষণ করে থাকে।
মানববর্জ্য শোধনাগারে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এখন মানববর্জ্য ব্যবহার করে জৈব সার, বায়ো গ্যাস এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে মানববর্জ্য শোধনাগারের পার্শ্ববর্তী স্থানে রাজবাঁধের ট্রেন্সিং গ্রাউন্ডে বর্জ্য দ্বারা কম্পোস্ট সার উৎপাদন করা হচ্ছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতায় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রাজটিক কয়েক বছর যাবত কম্পোস্ট উৎপাদন করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজবাঁধে মানব বর্জ্য শোধনাগার পরিদর্শনে যান গণমাধ্যমের কর্মীরা। এ সময় সিটি মেয়র ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম ও এর সুফল সম্পর্কে তুলে ধরেন করেন।
এ সময় কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মোঃ আনিসুর রহমান, জনসংযোগ কর্মকর্তা সরদার আবু তাহের, এসএনভি’র প্রকৌশল এ্যাডভাইজার সহিদুল ইসলাম, বিসিসি এ্যাভাইজার এস এ এম হুসাইন, প্রোগ্রাম অফিসার সাকের আহমেদসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে কেসিসি মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খুলনা মহানগরী এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশন মানব বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করেছে। নগরবাসীর কল্যাণে আরো নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীল করা হয়েছে। নগরীর পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে কেসিসি কর্তৃপক্ষ বদ্ধপরিকর। তিনি নগরীর বাড়ির মালিকদের প্রতিবছর অন্তত একবার সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করার আহ্বান জানান।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬