খুলনা | সোমবার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে কারা?

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:১০:০০

সমাজের বিভিন্ন বিতর্কিত মানুষের নাম খুলনার কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে। মহানগর ও জেলার এ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত একাধিক ব্যক্তি মাদকসেবন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাস্তাঘাট, বাস টার্মিনাল এলাকায়ও কমিটির নামে চলছে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি। অপরাধীদের অনুপ্রবেশের কারনে পুলিশ প্রশাসন নির্দিষ্ট লক্ষে পৌঁছাতে পারছেনা দেশের বৃহৎ একটি জনসেবামূলক এ ফোরামটি। ‘জনতাই পুলিশ আর পুলিশই জনতা’ এই শ্লে¬াগানকে সামনে রেখে সৃষ্টি পুলিশিং কমিটি আসলেই কতটা সফলতা পেয়েছে এ প্রশ্ন নগরের সাধারণ মানুষের। আজ শনিবার সারাদেশে নানা অয়োজনে পালিত হচ্ছে কমিউনিটি পুলিশিং ডে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লবণচরা থানাধীন বটিয়াঘাটা উপজেলার ১নং জলমা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির আহ্বায়ক একজন চিহ্নিত ব্যক্তি। তার নিজস্ব ব্যবসায়িক ভিজিটিং কার্ডের শুরুতেই রয়েছে এই পদবী সম্বলিত নামটি। তিনি হলেন খুলনার বহুল আলোচিত মাদক সম্রাটখ্যাত মোঃ শাহজাহান হাওলাদার। সাধারণ মানুষসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে এই নামটি খুবই পরিচিত। বেশ কয়েকবার শাহজাহানের মাদকের বড় বড় চালান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মামলায় তিনি ও তার স্ত্রী জেলও খেটেছেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, মহানগরীর বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। কমিটির মধ্যে থেকেই অনেকে কমিটির অন্য সদস্যদের অযোগ্যতা সম্পর্কে অভিযোগও উঠেছে। নগরীর রাস্তায় কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির নামে প্রকাশ্যে ইজিবাইক থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত অনেকে মাদক বিক্রেতা চালিয়ে যাচ্ছে তাদের আদিকর্ম। এ সকল বিষয় জেনেও সাধারণ মানুষ কোন প্রতিবাদ করছে না হয়রানীর আশঙ্কায়। তাছাড়া ওই সকল কমিটিতে স্ব-স্ব এলাকার অনেক ভালো মানুষও জড়িত রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ময়মনসিংহে প্রথম পুলিশ জনগণের সহযোগিতায় অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। ওই সময় ময়মনসিংহ শহরে সম্পত্তি সংশ্লি¬ষ্ট অপরাধ, চুরি ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেজন্য তখন রাতে পেট্রোল ডিউটির জন্য টাউন ডিফেন্স পার্টি (টিডিপি) গঠন করা হয়। এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প সময়ের জন্য কিছু অপরাধ দমনে পদক্ষেপ নেওয়া। তারই আদলে ২০০৭ সালে তৎকালীন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির তত্ত্বাবধানে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এই কার্যক্রম শুরু করেন। তারই ধারাবাহিকতায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের চলমান কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করতে দেশব্যাপী ৪০ হাজার ৯০৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬ জন সদস্য কাজ করছেন।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সাল থেকে ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে জমিজমা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭২৩টি। এছাড়া টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ ২২ হাজার ২১৫টি, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ ২৪ হাজার ৫৯৬টি, মারামারি সংক্রান্ত ৩৬ হাজার ৫৮টি, পারিবারিক ২৩ হাজার ৯৭৪টি ও অন্যান্য বিষয়ে ৪৪ হাজার ৪৭৯টি বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
২০১৪ সালে পুলিশ সদর দফতরের অরগানোগ্রামে ডিআইজি’র (অপারেশন্স) অধীনে একজন এআইজি’র তত্ত্বাবধানে পাবলিক সেফটি এ্যান্ড ক্রাইম প্রিভেনশন (পিএস এ্যান্ড সিপি) শাখার কার্যক্রম শুরু হয়। ওই উদ্যোগই বর্তমানে কমিউনিটি পুলিশিং নামে পরিচিত। বর্তমানে দেশের সব জেলাতেই কমিউনিটি পুলিশিং সেল রয়েছে এবং প্রতি থানায় রয়েছেন কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার।
গত বৃহস্পতিবার সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক বলেছেন, কমিউনিটি পুলিশ হলো একটি স্বেচ্ছাশ্রম। আমরা চাই এটি সর্বদলীয় হোক। কমিউনিটি পুলিশ কমিটিতে ভালো মানুষ আসুক। কমিউনিটি পুলিশের অনেকের বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে একেএম শহীদুল হক বলেন, এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। যদি এমন অভিযোগ আসে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। তিনি বলেন, অপরাধ একটি রোগ। এতে যে কেউ সংক্রমিত হতে পারে। যে কোনো কমিউনিটিতে যে কেউ অপরাধ করতে পারে। যেমন কক্সবাজারে কিছু গোয়েন্দা পুলিশ অপরাধ করে ধরা পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবেই।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির পিপিএম বলেন, কেএমপি’র আওতাধীন কোন থানা, ওয়ার্ড অথবা ইউনিট কমিটিতে যদি এ ধরণের অভিযুক্ত কোন ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়, তাহলে তাদেরকে বাদ দিয়ে সমাজের ভালো ব্যক্তিকে সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া কমিটিগুলো সংস্কার করা হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।  
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বলেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যায়িত ও যাদের প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা রয়েছে, সে সকল ব্যক্তিদের নিয়ে কমিউিনিটি পুলিশং কমিটির কার্যক্রম হওয়া উচিত। মহানগরীতে কমিউিনিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রমের বিষয়ে ফোরামের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন কেএমপি কমিশনার। তবে বিদ্যমান কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই করে ভালো মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:১৬