খুলনা | রবিবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় ইয়াবা আনছে কারা?

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ২৫ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:০০:০০

মহানগরীসহ খুলনা জেলাতে অপ্রতিরোধ্যভাবে চলছে মাদকের রমরমা বাণিজ্য। ফেন্সিডিল, গাঁজা, বিদেশী ও চোলাই মদসহ নানা ধরনের মাদককে পেছনে ফেলে ইয়াবা এখন শহরতলীসহ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অলি গলিতে রাজত্ব করছে। ইয়াবায় আসক্তদের কোন বয়স নেই, নারী-পুরুষে নেই কোন ভেদাভেদ। স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে সমাজের কথিত বিত্তবান পরিবারের সন্তানরা এ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। এমন কি ফুটপথে আশ্রিত, দিনমজুর, রিক্সা-ভ্যান চালকদের মধ্যেও ইয়াবার আধিপত্য বিরাজমান। নেশার তুলনায় মূল্য কম হওয়ায় এবং আকারে ছোট হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতা সকলেই সহজে বহন করতে পারেন। প্রায় প্রতিদিনই র‌্যাব, ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের অভিযানে মাদকসহ বিক্রেতারা আটক- গ্রেফতার হচ্ছে। পাশাপাশি মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদক নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে। তবে খুলনায় মরণ নেশা ইয়াবা আমাদানি নেপথ্যের ব্যক্তিদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।  
মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মোতাবেক মাদক দ্রব্য যার কাছ থেকে উদ্ধার হবে তাকেই মামলার আসামি করতে হবে। এছাড়া মাদক মামলার বেশ কিছু রায়ে দেখা গেছে, বহনকারীকেই আদালত দণ্ডি করেন। কিন্তু বহনকারী ব্যক্তি যে সকল পাইকারী বিক্রেতার কাছ থেকে মাদক নিয়ে খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাচ্ছেন তারা থাকছেন অন্তরালে।  
অনুসন্ধানে জানা গেছে, খুলনা জেলা পুলিশ নিয়ন্ত্রণাধীন ৯টি থানা ফুলতলা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, রূপসা, পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকের ব্যবহার বেড়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার জরিপে এ বিষয়গুলো উঠে আসছে। তবে থানা, পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ডিবি এবং র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক উদ্ধারসহ বহনকারী ও খুচরা বিক্রেতারা গ্রেফতার হলেও রাঘব বোয়ালরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময় মাদকসহ আটক বিক্রেতাদের ছাড়াতে স্থানীয় রাজনৈতিক তদ্বির এর অন্যতম কারণ বলে সচেতন মানুষের ধারণা।
খুলনা মেট্রোপলিটন এলাকার সদর থানা, সোনাডাঙ্গা মডেল থানা, খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী, আড়ংঘাটা, হরিণটানা ও লবণচরা থানার একই অবস্থা। কেএমপি’র এই ৮টি থানা এলাকায় আড়াইশ’ থেকে ৩শ’ মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), থানা পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালিয়ে প্রায়ই ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন ও ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ বিক্রেতা ও সেবনকারীদের গ্রেফতার করছেন। কিন্তু নগরীর মাদকের স্পট দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে, পাশাপাশি নতুন নতুন খুচরা বিক্রেতাও তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়া খুচরা বিক্রেতাদেরকে মোটা অংকের টাকা খরচ করে আইনের ফাঁক ফোকড় দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় মহাজনরা। এছাড়া নগরীর মাদকের ওই সকল মহাজনদের সাথে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি, পুলিশ ও বিশেষ পেশার ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত মাসহারা নিয়ে রাজনৈতিক শেল্টার ও বিক্রেতাদের ছাড়াতে থানা গুলোতে তারা তদ্বির করে থাকেন। তবে এ বিষয়টি থানা পুলিশ ভালভাবে না নিলেও পরিবেশ পরিস্থিতি সামলে চলেন তারা।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছিুক খুলনা মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক তদ্বিরের কারনে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। তবে এর মধ্যে থেকেই মাদক উদ্ধার ও বিক্রেতাদের আটক-গ্রেফতারের কাজ করছেন তারা।
এবিষয়ে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, মূলতঃ মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সকল প্রকার মাদকের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্ব্বোচ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তবে ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে তিনি জানান, অন্যান্য মাদকের তুলনায় ইয়াবা ব্যবহার বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার এ এম কামরুল ইসলাম পিপিএম জানান, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। নগর গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মামলার মাধ্যমে অপরাধীদের আইনের কাছে সোপর্দ করছে।
র‌্যাব-৬’র স্পেশাল কোম্পানি কমান্ডার মোঃ এনায়েত হোসেন মান্নান জানান, মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান দৃশ্যমান। খুলনা জেলা ও মহানগর বাদেও আশপাশের জেলা মাদক স্পটগুলোতে র‌্যাবের মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে ও থাকবে বলেও জানান তিনি।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির পিপিএম জানান, নগরীতে মাদকের সাথে জড়িত যে হোক প্রমাণ পেলে আইনের আওতায় আনা হবে। মাদকের সাথে কোন আপোষ নেই। তিনি জানান, প্রতিটি থানা, ফাঁড়িসহ চেক পোস্টগুলোতে বাড়তি তল্লাশী ব্যবস্থা জোরদার ও মাদকের স্পটগুলোতে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ রয়েছে।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


হার্ডবোর্ড মিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

হার্ডবোর্ড মিলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!

০২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:০০












ব্রেকিং নিউজ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০