খুলনা | শুক্রবার | ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ১০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

‘সব সফল অর্জন আ’লীগের হাত ধরে’

বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন শেখ হাসিনা : সিইসি

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৩৩:০০

বিএনপি’র পর এবার আওয়ামী লীগের প্রশংসায় মুখর হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। দেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান অর্জনের মাধ্যমে তিনি বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠকে বসেছেন তাঁরা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শুরুতেই বক্তব্য দেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দল। হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, ইয়ার আহমেদ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে আওয়ামী লীগের যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অনেকের অনুপ্রেরণায় আমরা গ্রেনেড ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশ গড়ার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। পাকিস্তানের মতো দেশকে বাংলাদেশে আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। ১৯৭৪ এর মধ্যে জাতীয় প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কালো অধ্যায় শুরু হয়। পরে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দলের প্রধান হন এবং ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন। কে এম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। আমরা অনেক দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকার-প্রধান করেছেন। গত রবিবার বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপে সিইসি বলেন, ক্ষমতায় থাকার সময় বিএনপি ভালো ভালো কাজ করেছে। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকাকালে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করেছেন। বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, দেশের সব সফল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে এসেছে। দেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক দল আওয়ামী লীগ। দলটির সঙ্গে আয়োজিত সংলাপের সূচনা বক্তব্যে গতকাল বুধবার ইসির সভাকক্ষে সিইসি এসব কথা বলেন। গত ১৫ অক্টোবর বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপে সিইসি বিএনপি ও তার প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের গুণগানও গেয়েছিলেন বুধবার সকাল ১১টা ৫ মিনিটে বক্তব্যের শুরুতেই হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, ইয়ার মোহাম্মদ খান, শামসুল হক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সিইসি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নিবেদিত নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। ’৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণআন্দোলন, যা ছাত্র আন্দোলন হিসাবে আমরা জানি, তখনকার সফল নেতারা এখানে রয়েছেন। ’৭০-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বহু অর্জন, বহুমুখী, গণমুখী সকল আন্দোলন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের ফসল তিনি বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ; ‘এবারের সংগ্রামে স্বাধীনতার সংগ্রাম’-বঙ্গবন্ধুর এমন আহ্বানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কন করে দিয়েছে।
কে এম নুরুল হুদা আরও বলেন, ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশ গঠনের দায়িত্ব কাঁধে নেন। এক বছরের কম সময়ের মধ্যে দেশকে একটি সংবিধান উপহার দেন, কূটনৈতিক সাফল্যে বহুদেশের আনুকূল্য, সমর্থন অর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করেন, ১৯৭৩ সালে জাতিকে প্রথম সংসদ নির্বাচন উপহার দেন এবং স্বাধীন দেশে প্রথম সংসদীয় সরকার গঠন করেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭৪ সালের মধ্যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেন। ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালরাতে জাতির জনকের সপরিবারের হত্যার মধ্য দিয়ে জাতির কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। বঙ্গবন্ধুর শাহাদাৎ বরণের পর দলটির কঠিন
তিনি বলেন, জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। বহু বাধা বিপত্তি, প্রতিকূলতা, ভয়ঙ্কর সব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দলকে সুদৃঢ় অবস্থানে নিয়ে আসেন তিনি। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ছয় বছরের মাথায় ১৯৮৬ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের প্রথম মহিলা বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর হয়। সিইসি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছে। উন্নয়নের প্রতিটি খাত; শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণে আজ বিশ্ব ধরিত্রীর মুকুট প্রধানমন্ত্রীর মাথায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ে পরিণত হয়েছে।  রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জন বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন প্রধানমন্ত্রী। সিইসির বক্তব্যের পর নির্বাচন কমিশন সচিব বক্তব্য দেন। এরপর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ  নেন।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


গুম নতুন কিছু নয়

গুম নতুন কিছু নয়

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:২২


সমঝোতা স্মারক সই

সমঝোতা স্মারক সই

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:২০





বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ল

বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ল

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০১:১৩


সারচার্জ আরোপ ও আদায় চলবে

সারচার্জ আরোপ ও আদায় চলবে

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ১৪:১৭



ব্রেকিং নিউজ