খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

প্রজ্ঞাপনের পর প্রধান বিচারপতি দেশ ছাড়ছেন আজ

ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশন ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে : আইনমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১০:০০

অনেক আলোচনা-সমালোচনার পর অবশেষে আজ শুক্রবার চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ছাড়ছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে তাঁর ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে।
এদিকে প্রধান বিচারপতির ছুটি তার ইচ্ছাতেই বর্ধিত করা হয়েছে  জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ছুটি নেওয়া, তা বাড়ানো এবং বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতির চাওয়া অনুযায়ী সরকারের প্রজ্ঞাপন হয়েছে জানিয়ে এ নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা বিচারপতি সিনহার ছুটিতে যাওয়া নিয়ে তুমুল আলোচনার মধ্যে বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর এই আহ্বান জানান মন্ত্রী।
হোটেল সোনারগাঁওয়ে লেজিসলেটিভ ইম্প্যাক্ট এ্যাসেসমেন্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আনিসুল হক সাংবাদিকদের প্রশ্নে বলেন, বিচারপতির সিনহার ছুটির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে অতিরিক্ত কিছু বলা হয়নি, প্রধান বিচারপতি যা চেয়েছেন তাই প্রজ্ঞাপনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
এ সময় আনিসুল হক বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিলের রায়ের কপি পাওয়া গেছে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) পিটিশন দাখিল করা হবে। তিনি আরও বলেন, ৭৯৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি বেশ বড় এ সময়ের মধ্যে দাখিল করা গেলে তার কারণ উল্লেখ করে পিটিশন দাখিল করা হবে।
প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে বিএনপি’র বক্তব্য প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের ইতিহাস সবার জানা আছে দলটির জন্ম হয়েছে, সামরিক শাসনের মধ্যে। দলটির চেয়ারপারসন আইনের শাসনের প্রতি কতটুকু শ্রদ্ধাশীল তা সবাই দেখেছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এসব নিয়ে আন্দোলন করা চেষ্টা করবেন না, এগুলো আন্দোলনের কোনো খোরাক না এবং এ ব্যাপারে কোনো আন্দোলন হবে না। বিএনপি বলে আসছে, প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে যেতে বাধ্য করার পর এখন চাপ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে বিচারপতি সিনহার গত ৩ অক্টোবর থেকে এক মাসের ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি আইনমন্ত্রী জানানোর পর বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ছুটি বাড়ানোর কথা জানানো হয়। বেলা ১১টায় আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রধান বিচারপতির বিদেশ গমন সংক্রান্ত এ সরকারি আদেশ (জিও) জারি হয়। এখন প্রধান বিচারপতি যেকোনো সময় বিদেশ যেতে পারবেন বলে আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির আবেদনে এর আগে ৩ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিনের ছুটি মঞ্জুর করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু বিচারপতি সিনহা যেহেতু আরও বেশি দিন বিদেশে থাকবেন, সেহেতু রাষ্ট্রপতি নতুন আদেশ দিয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বর্ধিত ছুটিতে প্রধান বিচারপতির বিদেশে অবস্থানের সময়ে, অর্থাৎ ২ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত অথবা তিনি দায়িত্বে না ফেরা পর্যন্ত বিচারপতি মোঃ আবদুল ওয়াহহাব মিঞা প্রধান বিচারপতির কার্যভার সম্পাদন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে ছুটি বাড়ানো বা অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করা হয়েছে কি না-সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন আইনমন্ত্রীর কাছে। উত্তরে আনিসুল বলেন, এটাকে বলতে হবে যে উনি যেটা চেয়েছেন চিঠিতে, যেটা আছে, সেটাই কিন্তু আমাদের সামারি। প্রজ্ঞাপনে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। চিঠিতে উনার ব্যক্তিগত সহকারী যেটা লিখেছেন সেটা হচ্ছে উনি বিদেশ যেতে চান।
প্রধান বিচারপতি চারটি দেশে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা এবং ইউনাইটেড কিংডম এই চারটি  দেশে যেতে চান। আগামীকাল ১৩ অক্টোবর (আজ) দেশ ত্যাগ করতে চান এবং ১০ নভেম্বর  দেশে ফিরে আসবেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগে ছুটি নিয়েছিলেন ১ নভেম্বর পর্যন্ত, সেই ছুটিটা এক্সটেন্ড করে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত করেছেন। সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করতে হয়, সেই নিয়োগের কারণে অবহিত করেছেন, বলেন আইনমন্ত্রী।
এর আগে বুধবার রাতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এবং দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়ে জিও জারির ফাইলে সই করেন।
এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৩ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে অবস্থান করতে চান। আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গত মঙ্গলবার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টি তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারিতে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাওয়ার কথা। উল্লেখ্য গত ৩ জুলাই প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল খারিজ করে সর্বসম্মতিক্রমে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়। ১ আগস্ট পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










বিএনপি’র চার নেতার আগাম জামিন

বিএনপি’র চার নেতার আগাম জামিন

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১০




ব্রেকিং নিউজ