খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

রোহিঙ্গাদের নয়, ‘আরসার হামলা’র শিকারদের পুনর্বাসনের নির্দেশ সুচি’র

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:১০:০০

মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেতা অং সান সুচি সহিংসতা কবলিত রাখাইন রাজ্যে ‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হওয়া মানুষের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ দ্রুত করতে তাগাদা দিয়েছেন। তবে সেখানে সংঘটিত জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ও রাখাইনের রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনও কথা বলেননি।
বুধবার নেপিদোতে দেশটির জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভায় সুচি রাখাইনের ‘সন্ত্রাসী হামলার শিকার’ হওয়া এলাকাগুলোতে মানবিক ত্রাণ পৌঁছানো, পুনর্বাসন ও উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এই সন্ত্রাস আরসার সৃষ্টি করা বলে দাবি করে মিয়ানমারের সরকার। সেই সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সুচির অবস্থানও অভিন্ন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সুচির অবস্থান মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় অবস্থান থেকে একটুও আলাদা নয়। রাখাইন পরিস্থিতিকে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নয়, জাতিগত সংঘাত আখ্যা দিয়ে আসছেন তিনি। রাখাইন পরিস্থিতির নেপথ্যে আরাকান আর্মির সন্ত্রাসকেই বড় করে দেখেছেন। সু চি তার ১৯ সেপ্টেম্বরের বক্তব্যে ৩০টি পুলিশ চেকপোস্ট আর একটি রেজিমেন্টাল হেড কোয়ার্টারে সন্ত্রাসী হামলার জন্য রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি এবং এর সমর্থকদের দায়ী করে আইনের আওতায় নেওয়ার হুমকি দেন। সেই বক্তব্যের সমালোচনায় অ্যামনেস্টি বলেছিল, বালুতে মুখ গুঁজে আছেন তিনি। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তার বিরুদ্ধে এনেছিল সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন আড়ালের অভিযোগ।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, গত বুধবার দেশটির জাতীয় সমন্বয় ও শান্তি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সুচি রাখাইনের যেসব অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে সেই অঞ্চলগুলোতে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন, মানবিক ত্রাণ ও উন্নয়নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তাগাদা দিয়েছেন।
বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সরকারি তত্ত্বাবধানে রাখাইন পরিদর্শনে নিয়ে যাওয়ার একদিন পর এই সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাখাইন পরিদর্শনের সময় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা কার্যালয়ের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে।
রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ইউ নিয়াই পু সমন্বয় সভায় জানান, সরকার তিনটি ক্ষেত্রে পুনর্বাসনে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেগুলো হচ্ছে তালিকা তৈরি, শরণার্থীদের জন্য খাবার সরবরাহ এবং যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি।
১৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া ভাষণে সুচি দাবি করেছিলেন, রাখাইনে সেনা অভিযান শেষ হয়ে গেছে। সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও রোহিঙ্গাদের নিয়ে কিছু বলেননি। শুধু জানিয়েছিলেন, কেন বাংলাদেশে মুসলমানরা পালিয়ে যাচ্ছে তা অনুসন্ধান করতে হবে।  ভাষণে সুচি দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ নিয়ে কোনও কথা বলেননি। সূত্র সিনহুয়া, গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ