খুলনা | শুক্রবার | ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

দুই মামলায় খালেদার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:১৯:০০

একই দিনে দুর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে করা দুটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
এর মধ্যে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার শুনানিতে হাজির না হওয়ায় বৃহস্পতিবার ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
যুদ্ধাপরাধীদের মদদ দেয়ার অভিযোগে করা মানহানির অভিযোগে আরেক মামলায় একই কারণে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার মহানগর হাকিম নূর নবী।
খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া  বলেন, “তিনি যাতে দেশে আসতে না পারেন, সেজন্য ইচ্ছাকৃতভাবে এক দিনে দুই মামলায় সরকার এভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করিয়েছে।”  
মানহানি
আওয়ামী লীগ সমর্থক সংগঠন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকীর করা মানহানির মামলায় সমন জারির পরও খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় মহানগর হাকিম নূর নবী তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন বলে এ আদালতের পেশকার মো. ইখতিয়ার রহমান জানান।
মামলার বাদী এ বি সিদ্দিকী বলেন, “বিএনপি নেত্রী আইনের পরোয়া করেন না। আদালতের সমন পেয়েও আসেন না। আদালত আজ তাই পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।”
২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকার হাকিম আদালতে এবি সিদ্দিকীর করা এ মামলার আর্জিতে বলা হয়, স্বীকৃত স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে খালেদা জিয়া দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার ‘মানহানি ঘটিয়েছেন’।
ঢাকা মহানগর হাকিম রায়হানুল ইসলাম সেদিন বাদীর আর্জি শুনে তেজগাঁও থানা পুলিশকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এ বি এম মশিউর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি যে প্রতিবেদন দেন তাতে অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়।
সেখানে বলা হয়, ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদকে মন্ত্রী বানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইতোমধ্যে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
“কিন্তু তারা ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রিত্বের সুবিধা নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তাদের বাড়ি এবং গাড়িতে ব্যবহার করেছেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকাকে স্বাধীনতাবিরোধীদের গাড়িতে তুলে দিয়ে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক জনগণের মর্যাদা ভূলণ্ঠিত করেছেন। তাই তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০০ ধারার মানহানির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।”
এ বি সিদ্দিকীর মামলার আর্জিতে খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার প্রয়াত স্বামী এক সময়ের সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকেও আসামি করার কথা বলা হয়েছিল।
কিন্তু বাংলাদেশের আইনে মৃত ব্যক্তির বিচারের সুযোগ না থাকায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে।
গত  ২২ মার্চ বিচারক প্রতিবেদনটি আমলে নেন এবং পরে ২০ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।  এরপরও খালেদা জিয়া হাজির না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন এ বি সিদ্দিকী।  
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুনীতি মামলা
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আজ খালেদা জিয়ার হাজির হওয়ার দিন ধার্য ছিল। কিন্তু হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
রাজধানীর বকশিবাজারে কারা অধিদপ্তরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালত বৃহস্পতিবার এই পরোয়ানা জারি করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় মামলা করে দুদক। ২০১০ সালের ৫ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধেই অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদক।
খালেদা ও তারেক জিয়া ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
আসামিদের মধ্যে ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক। বিদেশে থাকা তারেক রহমানকেও পলাতক দেখিয়ে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে। বাকিরা জামিনে রয়েছেন।
এ মামলায় ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। জামিনে থাকা অন্য দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।
এর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আট জন নিহতের ঘটনায় বিস্ফোরক মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ৯ অক্টোবর কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ বেগম জেসমিন আরা এ রায় দেন।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আলী আকবর রুপু আর নেই

আলী আকবর রুপু আর নেই

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০০

শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কমকর্তাকে বদলি

শিক্ষা ক্যাডারের ২৯ কমকর্তাকে বদলি

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৫৯


টেকনাফে ৩৪ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

টেকনাফে ৩৪ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৬:৫৭

খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত

খালেদার অর্থদণ্ড স্থগিত

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৪৯


খালেদার জামিন শুনানি রোববার

খালেদার জামিন শুনানি রোববার

২২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৪৭



ব্রেকিং নিউজ





ডুমুরিয়ায় কিশোর নিখোঁজ

ডুমুরিয়ায় কিশোর নিখোঁজ

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০১:২৫




নগরীতে দেশী মদসহ আটক ৬ 

নগরীতে দেশী মদসহ আটক ৬ 

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০২:১৬