খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ভারতীয় চালের দখলে সব মোকাম

এক রাতের ব্যবধানে খুলনায় চালের মূল্য কমেছে কেজিতে ৫ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:০১:০০

এক রাতের ব্যবধানে খুলনায় চালের মূল্য কমেছে কেজিতে ৫ টাকা

মঙ্গলবার বিকেলে চালের দাম আর গতকাল বুধবার সকালে মূল্যের তফাৎ হয়েছে। সব ধরনের চালের মূল্য কমেছে কেজি প্রতি ৫ টাকা। ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হয়েছে বুধবার সকালের পর থেকে। ভারতীয় চাল দখল করেছে খুলনার সব মোকাম। স্থানীয় নতুন বাজার, শেখপাড়া বাজার ও বড় বাজারে মোটা চাল কেজি প্রতি ৪০ টাকা ও চিকন মিনিকেট ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। বাজার মনিটরিং কমিটি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।
বড় বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী এনসিডি বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক মধুসূদন দাশ জানান, গতকাল বুধবার ভোরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২০ ট্রাক চাল স্থানীয় কদমতলা মোকামে এসে পৌঁছেছে। ৪০টি আড়ৎ ও ১৩টি কাঁচা বাজারে আমদানিকৃত চাল দ্রুত সরবরাহ হয়েছে। খুলনার দু’জন আমদানিকারক বাজার স্থিতিশীল রাখার লক্ষে দ্রুত চাল সরবরাহ করছেন। ভারত থেকে আসা চালের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণা, মিনিকেট ও বালাম ২৮। তিনি জানান, আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) চাল আমদানির পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়বে।
বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান জানান, রূপসা ও লবণচরা রাইচ মিলের চালের চাহিদা কমে গেছে। সব ধরনের চাল গড়ে কেজি প্রতি ৫ টাকা করে কমেছে। তার দেয়া তথ্যমতে, মোটা চাল ৪৫ টাকার পরিবর্তনে ৪০ টাকা, মাঝারী ৫৬ টাকার স্থলে ৫০ টাকা এবং কিচন মিনিকেট ৬৪ টাকার পরিবর্তনে ৫৯ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা বেশি দামে চাল কিনে গতকাল বুধবার তাদের লোকসান গুণতে হয়েছে। ভারতীয় চাল আমদানী হওয়ায় এক রাতের ব্যবধানে বাজার স্থিতিশীল হয়েছে। স্থানীয় মোকামগুলো থেকে ট্রাক বোঝাই করে মংলা, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও গোপালগঞ্জে যাচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, রূপসা ও লবণচরা মিল মালিকদের প্রতি মণ ধান কিনতে হচ্ছে ৮৭০ টাকা দরে। স্থানীয় মিলে প্রতি কেজি মোটা চালের উৎপাদন খরচ ৩৭ টাকা ৮৭ পয়সা। এই সূত্র জানান, স্থানীয় ১৬০টি রাইচ মিলে অতিরিক্ত চাল মজুদ নেই।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ কামাল হোসেন জানান, কৃত্রিম সংকট নিরসন করতে মিল মালিকদের পাঁচ দফা পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে ধান ও চাল ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ এবং প্রতিমাসের ১৩ ও ২৮ তারিখে সর্বশেষ মজুদের পরিমাণ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তরকে জানাতে হবে।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুস সালাম তরফদারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর নগরীর বাজারে মোটা চাল কেজি প্রতি ৪২-৪৪ টাকা দরে এবং চিকন ৬০-৬৪ টাকা দরে বিক্রি হয়। ৯ অক্টোবর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী মোটা চাল ৩৯-৪০ টাকা, মাঝারী ৪২-৪৩ টাকা, চিকন (২৮) ৫১-৫২ টাকা, চিকন (মিনিকেট) ৫৫-৫৬ টাকা ও চিকন (বাংলামতি) ৬১-৬৫ বিকিকিনি হয়।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ