খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

শঙ্কিত যাত্রী ও সাধারণ পথচারী

মহানগরীর ভাঙাচোরা রাস্তায় বেপরোয়া অতুল-মাহেন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১০ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:১৫:০০

মহানগরীর ভাঙাচোরা রাস্তায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে অতুল-মাহেন্দ্রা। ইজিবাইজের আধিক্য রোধে পরিকল্পনা হলেও লাগামহীন দ্রুতগতির এ ছোট গণপরিবহনটি। নগরীর খানজাহান আলী রোড, বয়রা এলাকা, খুলনা-যশোর রোড, জোড়াগেট, দৌলতপুর এলাকায় প্রায়শঃ বেপরোয়া চলাচলে মাহেন্দ্রার ধাক্কায় ও পিষ্টে হতাহতের ঘটনা ঘটছে। ফলে শঙ্কিত যাত্রী ও সাধারণ পথচারীরা। অভিযোগ রয়েছে, পরিচালনা প্রশিক্ষণ ছাড়াই বেপরোয়া গতির মাহেন্দ্রা চালাচ্ছেন চালকেরা।
সূত্রমতে, নগরীতে ৬৪০ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ছোট-বড় এক হাজার ২১৫টি সড়ক রয়েছে। ব্যস্ততম মহাসড়ক, মেইন রোড থেকে শুরু করে শহরের প্রতিটি অলিগলিতে চলে ২৫ সহস্র্রাধিক ইজিবাইক, দশ সহস্র্রাধিক মাহেন্দ্রা, অগণিত অটোরিক্সা ও ৪০ হাজারের অধিক রিক্সা। এর মধ্যে পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৬৫০ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন লাইন এবং ৩১ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন বসানোর কাজ করছে ওয়াসা। এজন্য কেসিসি’র আওতাধীন ব্যস্ততম ৩১ কিলোমিটারে রাস্তায় কাজ চলছে দীর্ঘদিন। ফলে নগরীর অধিকাংশ সড়কের অবস্থা সিজারিয়ান রোগীর মতোই। শহরের এ রাস্তা দিয়েই চলছে বেপরোয়া গতির অতুল-মাহেন্দ্রা।
গত ১২ এপ্রিল নগরীর খুলনা-যশোর মহাসড়কে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের সামনে মাহেন্দ্রার ধাক্কায় যাত্রীসহ একটি রিক্সা উল্টে যায়। তাতেও গতি বেগ না কমিয়ে চম্পট দেয় মাহেন্দ্রটি। গত ১১ এপ্রিল বিকেলে একই রোডের নিউ মার্কেটের সামনে মাহেন্দ্রার চাকায় পিষ্ট হয়ে অজ্ঞাত রিক্সাচালক (৫০) নিহত হন। এর আগে, গত ৩ এপ্রিল বিকেলে নগরীর বৈকালী পেট্রোল পাম্পের সামনে মাহেন্দ্রা ও জিপ গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত ও চালকসহ দু’জন গুরুতর আহত হন। এখানেই শেষ নয়; নগরীতে প্রতিদিন এমনি ছোট-বড় দুর্ঘটনায় ঘটছে অহরহ। সব ঘটনা জানাজানি না হলেও বেপরোয়া সড়ক দুর্ঘটনায় শঙ্কিত পথচারীরা।
বিআরটিএ অনুমোদিত হালকা যানবাহন হিসেবে মাহেন্দ্রা, অতুল ও থ্রি-হুইলারগুলো নগরী রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে খানজাহান আলী রোড হয়ে ফেরীঘাট হতে  দৌলতপুর-ফুলতলা পর্যন্ত চলাচল করছে। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনা প্রবন মোড়গুলো। এ অবস্থাতেও দ্রুতগতিতে চলছে মাহেন্দ্রা-অতুল। অদক্ষ চালকদের হাতে স্টায়ারিং থাকায় প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
গত বছরের গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে নগরীর জোড়াগেট এলাকায় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, বৈধ কাগজপত্র গাড়িতে না থাকা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকায় জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী নয় হাজার ৭শ’ টাকা জরিমানা আদায় করেছিল। তারপর আর মাহেন্দা-অতুলের লাগাম টেনে ধরা হয়নি।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা) জেলার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, মাহেন্দার পেছনের সিটে তিনজন ও সামনের সিটে একজন যাত্রী বহন করার নিয়ম। কিন্তু তারা পিছনের সিটে চারজন ও সামনে চালকের দু’পাশে দুইজন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে। ফলে মাহেন্দ্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না অদক্ষ চালকেরা।
তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় শহর খুলনায় প্রতিদিন বাড়তি জনসংখ্যার যানবাহন যাতায়াত বাড়ছে। সে অনুযায়ী সড়ক প্রশস্তকরণ, যানবাহনের সংখ্যা ও রুট নির্ধারণ কার্যত হয়নি। ট্রাফিক সিস্টেমও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারছে না। শহরের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। ফলে রাস্তায় নামলে প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্কে কাটে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাহেন্দ্রা চালকদের থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছেন এক শ্রেণীর স্বার্থন্বেষী মহল। তারা বিআরটিএ, পুলিশ ও কেসিসিসহ সব রকম ঝামেলা সামাল দেবার দায়িত্বের প্রতিশ্র“তি দিচ্ছে চালকদের।
কেএমপি’র (ট্রাফিক) বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যতীত অদক্ষ চালকদের মাহেন্দ্রা-অতুলের রুট পারমিট ও গাড়ির অনুমোদন দিচ্ছে কেন বিআরটিএ? তারা অযোগ্য চালকের হাতে স্টায়ারিং ধরিয়ে দিবেন, আর সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট নিরোধে কাজ করবে ট্রাফিক পুলিশ! এটা কেমন? ট্রাফিক সিস্টেম উন্নয়নের জন্য জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও নগরবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন, সচেতনতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন একাধিক কর্মকর্তা।
দৌলতপুর-খুলনা থ্রি হুইলার বেবীট্যাক্সি ড্রাইভার্স ইউনিয়নের তথ্যমতে, নগরীতে প্রায় এক হাজার থ্রি হুইলার মাহেন্দ্রা, অতুল ও সিএনজি চলাচল করছে। এছাড়া আরো অন্তত ১৪শ’ নতুন রেজিস্ট্রেশনের অপেক্ষায়।
বিআরটিএ’র সূত্রমতে, নগরীতে এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মাহেন্দ্রার রুট পারমিট ও লাইসেন্স দেবে বিআরটিএ। এখন পর্যন্ত প্রায় সাতশ’ মাহেন্দ্রা অনুমোদন দিয়েছে তারা।
বিআরটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, মহানগরীতে ১২শ’র বেশি মাহেন্দ্রা চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে না। এখনই প্রায় সাতশ’র লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। লাইসেন্স দেবার সময় অন্তত মোটরযান চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স দেখা হয়। রাস্তায় চলাচলের সময় অদক্ষতার পরিচয় দিলে সেটা আটকানোর দায়িত্ব ট্রাফিকের।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫