খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ভালো কাজে উৎসাহ ও অসৎ কাজে বাধা

মুফতি শামসুর রহমান পোরশা | প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩৫:০০

পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফে বিধৃত হয়েছে, ‘তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দান করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে।’ (আলে ইমরান : ১১০)। এ আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, এ বৈশিষ্ট্য সমষ্টিগতভাবে সব মুসলমানের দ্বীনি দায়িত্ব ও কর্তব্য। মুসলমান দুনিয়ার যে প্রান্তে থাকুক, নিজ জিম্মাদারি থেকে কখনও উদাসীন হতে পারে না। কোরআন ও হাদিসের আলোকে জীবন পরিচলনা করার সঙ্গে সঙ্গে এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের ব্যাপারে সজাগ হওয়া অপরিহার্য। কল্যাণের অনেক দিক রয়েছে, যেমন- অমুসলিমদের ঈমানের দাওয়াত, মুসলমানকে ইবাদত ও সৎ আমলে উৎসাহ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, দরিদ্র-অসহায় ব্যক্তিদের সঙ্গে উৎকৃষ্ট আচরণের উপদেশ, কেউ বালা-মুসিবতে লিপ্ত হলে তাদের সাহায্য ও সহানুভূতি জানানো ইত্যাদি। এগুলো আমলে জিন্দেগির অংশ বানানো সবার ওপর কর্তব্য। একজন প্রকৃত মুসলমানের দায়িত্ব শুধু আপন ভাইয়ের ওপর নয়, বরং পুরো পাড়া-প্রতিবেশীকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করা ঈমানি দায়িত্ব।
‘নেহি আনিল মুনকার’ অর্থাৎ মন্দ কাজগুলো থেকে বাধা দেয়া। এটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। হাদিস শরিফে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যদি কেউ কোনো শরিয়ত পরিপন্থী কাজ প্রত্যক্ষ করে, তাহলে তার ওপর কর্তব্য হলো, নিজ হাতে তা দমন করবে। আর যদি হাত দিয়ে প্রতিহতের শক্তি না রাখে, তখন করণীয় হলো, নিজের জবান দ্বারা তা অস্বীকার করবে। আর যদি জবান দ্বারা বাধা দেয়ার যোগ্যতা না রাখে, তাহলে কমপক্ষে আপন অন্তরে তা মন্দ মনে করবে। আর এটিই সবচেয়ে দুর্বল ঈমান।’ (মুসলিম : ১/৫১)।
এ হাদিসে মানুষের অবস্থা ও স্বভাবগত দিক দিয়ে ঘৃণ্য কর্মে বাধা দেয়ার তিনটি পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। প্রথম পন্থায় বিধৃত হয়েছে, যদি সম্মুখে কোনো ব্যক্তি শরিয়ত পরিপন্থী কাজ করে, তাহলে সামর্থ্য থাকলে হাত দিয়ে বাধা দেবে।
হাত দ্বারা বাধা দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাদ্যযন্ত্র হলে তা ভেঙে ফেলা, নেশাদার পানীয় হলে উবুড়ে দেয়া, ছিনতাইকৃত বস্তু হলে মালিকের কাছে প্রত্যর্পণ করা ইত্যাদি। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, মন্দ কর্মকারীকে জবান দ্বারা বারণ করবে, অর্থাৎ তাকে এভাবে বোঝাবে, আপনার এ কাজটি শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক নয়, এর শেষ ফল খুবই ভয়াবহ। আপনি এভাবে গোনাহরত থাকলে প্রতিবেশীর মাঝে অসৎ প্রভাব পড়বে। ফলে পরিবেশ বিনষ্ট হবে।
তৃতীয় পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে, সামনে অপকর্ম হচ্ছে, কিন্তু পরিস্থিতি এতই নাজুক, হাত ও জবান কোনোটির মাধ্যমেই বাধা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে কমপক্ষে নিজ অন্তরে ঘৃণা করবে।
হাদিসে এটিকে সবচেয়ে দুর্বল ঈমান বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। দুর্বল এজন্য বলা হয়েছে, এতে বাহ্যিকভাবে কোনোকিছু করার প্রয়োজন পড়ে না। তবে এতে অন্যের উপকার নিহিত রয়েছে। কেননা যখন অন্তরের মাধ্যমে ঘৃণা করবে আর চেহারায় অসন্তুষ্টি ভাব প্রকাশ পাবে, এ প্রত্যক্ষে হয়তো গোনাহকারীর অনুভূতি জাগ্রত হয়ে ভবিষ্যতে সে অপরাধ পরিত্যাগ করতে পারে।
এ প্রসঙ্গে অপর এক হাদিসে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার আগে প্রেরিত প্রত্যেক নবীর সম্প্রদায়ে নবীর বিশ্বস্ত ও বিশেষ সহচর কিছু মানুষ থাকত, তারা সবাই নবীর নির্দেশনা মেনে চলত। আবার তাদের পরে এমন মানুষ হতো, তারা এমন কাজ করত, যা তাদের আদেশ দেয়া হয়নি। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের সঙ্গে হাত দ্বারা জিহাদ করবে, সে-ও মোমিন, আর জবান দ্বারা জিহাদ করবে সে-ও মোমিন। আর নিজের অন্তরের মাধ্যমে জিহাদ করবে, অর্থাৎ তাদের কাজকে অন্তর দ্বারা নিকৃষ্ট মনে করবে, সে-ও মোমিন হবে। এছাড়া সরিষার দানা পরিমাণ কারও মাধ্যে ঈমান নেই।’ (মুসলিম : ১/৫২)।
এ হাদিসে আল্লাহর নবী (সা.) দৃষ্টান্তস্বরূপ বলেন, যেমন আমার পূর্ববর্তী উম্মতের মধ্যে হয়েছে, নবীকে প্রেরণ করার অল্প পরিমাণ মানুষ তার ওপর ঈমান আনত এবং তার হুকুমকে মেনে চলত। কিন্তু পরে তাদের বংশধররা এসে নবীকে অস্বীকার এবং অমান্য করে চলত। অথচ তাদের কাছে উপযুক্ত প্রমাণ ছিল। তবে তারা অন্যদের তার হুকুম পালনে উদ্বুদ্ধ করত।
আবার তিনি আপন উম্মতের প্রতি সম্বোধন করে বলেন, এ ধরনের মানুষ তোমাদের মাঝেও হবে। এদের ব্যাপারে তোমাদের জিম্মাদারি হলো, তাদের সঙ্গে সম্ভব হলে হাত দ্বারা আর সম্ভব না হলে জবান দ্বারা মোকাবিলা করা। যদি দুইটিই সম্ভব না হয়, তাহলে কমপক্ষে অন্তরের দ্বারা তাদের নিকৃষ্ট মনে করা। রাসুল (সা.) এটিকে ঈমানের সর্বনিম্ন স্তর আখ্যায়িত করেছেন।
আর যদি ঘৃণ্য কাজ দেখার পরেও কোনো মুসলমানের অন্তরে অপছন্দীয় অবস্থা সৃষ্ট না হয়, তাহলে মনে করতে হবে তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান নেই।
নবী করিম (সা.) এর ভাষ্য অনুযায়ী, একজন মুসলমানের সর্বপ্রথম কর্তব্য ইসলামকে পূর্ণাঙ্গরূপে নিজের জিন্দেগিতে বাস্তবায়ন করা। তাই নিজে আমল থেকে দূরে থেকে অপরকে দাওয়াত দেয়া থেকে বিরত থাকা চাই। কেননা কোরআনে আল্লাহ পাক এরূপ করাকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন, বিধৃত হয়েছে, ‘মোমিনরা! তোমরা যা কর না, তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তেষজনক।’ (সূরা আস সাফ : ২-৩)
লেখক : মুফতি, দেওপুরা সমনগর আনওয়ারুল
উলুম মাদরাসা, পোরশা, নওগাঁ
সূত্র : আলোকিত বাংলাদেশ


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





আখেরি চাহার সোম্বা ১৫ নভেম্বর

আখেরি চাহার সোম্বা ১৫ নভেম্বর

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩০



কর্মীর হাত আল্লাহর প্রিয়

কর্মীর হাত আল্লাহর প্রিয়

০৪ অক্টোবর, ২০১৭ ১৩:৩৩

মুর্হারমের তাৎপর্য

মুর্হারমের তাৎপর্য

০১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০

পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

পবিত্র আশুরা ১ অক্টোবর

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৩৫

একাত্মবাদকে হৃদয়ে আঁকড়ে ধরতে হবে

একাত্মবাদকে হৃদয়ে আঁকড়ে ধরতে হবে

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৪:০১



ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫