খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় দু’শতাধিক শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন

বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উভয় সংকটে!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:০০:০০

বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা উভয় সংকটে!

বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বছরের পর বছর এমপিওভুক্ত না করায় সরকারি বেতন-ভাতা চালু হয়নি। প্রতিশ্র“তি দেয়া ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমাফিক বেতন দিচ্ছেন না কলেজ কর্তৃপক্ষও। উভয় সংকটে রয়েছেন এসব শিক্ষকরা। ১৯৯৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত নামমাত্র বেতন, কেউ বা ফ্রিতেই চাকুরি করছেন খুলনাতে। জেলার ১৬টি কলেজে দুই শতাধিক শিক্ষক চরম আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি ডজনখানেক স্মারকলিপি, মানববন্ধন ও একের পর এক বিক্ষোভ করে হতাশ হচ্ছে উচ্চশিক্ষিত এসব মেধাবী শিক্ষকরা।
সর্বশেষ, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সারাদেশের ন্যায় বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওর দাবিতে খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ (অনার্স-মাস্টার্স) শিক্ষক পরিষদ খুলনা জেলা শাখা।
শিক্ষক পরিষদের খুলনা জেলার সভাপতি অধ্যাপক মোঃ মনিরুজ্জামান মোড়ল বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৩৮২টি বেসরকারি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। খুলনার অন্তত ১৬টি কলেজে দুই শতাধিক শিক্ষক আছেন। অত্যন্ত দুঃখজনক এমপিও/সরকারি অংশ না পাওয়া পর্যন্ত কলেজ ফান্ড হতে শত ভাগ বেতন ভাতা প্রদানের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা কর্ণপাত করছেন না। যেনতেন ভাবে দু’তিনহাজার কোন কোন কলেজে পাঁচ-সাত হাজার টাকা বেতন দিচ্ছে। অনেক কলেজ বেতন দেয়ই না। এই উচ্চ মূল্যের বাজারে সংসার চালানো অত্যন্ত দূরূহ ও অমানবিক।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার যেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলসহ বিভিন্ন সুবিধাদি দিচ্ছেন, সেখানে উচ্চ শিক্ষায় যারা মহান ভূমিকা রেখে চলেছে তারা বিনা বেতনে/এমপিও তে কাজ করছেন। অনার্স-মাস্টার্স কোর্সে নিয়োগপ্রাপ্ত ননএমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণ ও এমপিওভুক্তির পূর্বে শিক্ষা নীতিমালা/আইনে জনবল কাঠামো সৃষ্টি করে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সমুন্নত রাখতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খুলনার বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের নিয়োগপ্রাপ্ত নিয়মানুযায়ী বেতন-ভাতা পান না শিক্ষকরা। নামমাত্র বেতন দেয়া হয়, তাও অনিয়মিত। যাতে যাতায়াত খরচও হয় না তাদের। আবার নগরীর সবুরন্নেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজে অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের নিয়োগপ্রাপ্ত ৫/৬ জন শিক্ষক একটি টাকাও বেতন পান না বলে অভিযোগ তাদের। এ রকম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতার পরিমাণ শূন্য বলে জানা গেছে।
এসব বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক স ম আব্দুল হক বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের তেমন কিছুই করার থাকে না। এমপিওভুক্তকরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫