খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

আবু নাসের হাসপাতালে ফার্মেসীতে অচলাবস্থা : ওষুধ চুরির নিত্যনতুন কৌশল সরকারি হাসপাতালে

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩০:০০

শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসীতে চলছে অচলাবস্থা। একজন মাত্র ফার্মাসিস্ট দিয়ে চালানোর চেষ্টায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ রোগীরা। দীর্ঘসময় লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে ওষুধ। এছাড়া ওষুধ চুরির ঘটনায় মাস পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি ব্যবস্থা আর উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া ওষুধ। এদিকে নগরীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ চুরির নিত্যনতুন কৌশল নিয়েছে সিন্ডিকেট সদস্যরা। কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে রোগীদের করছে  সর্বশান্ত।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২১ আগস্ট ২০১৭ তারিখে হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট দেবপ্রসাদ রায়, তার শ্যালক দিপঙ্কর সানা (৩৫) ও হেরাজ মার্কেটের ওষুধ ব্যবসায়ী শেখ রাকিবুল আবেদিন (৩২) কে আড়াই লক্ষাধিক টাকার সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঘটনার পরপর অপর দুই ফার্মাসিস্ট হিমাংশু শেখর বাড়ই ও গৌতম সরকার পালিয়ে যায়। হাসপাতালের গঠিত তদন্ত কমিটি ৭ দিনের মধ্যে চার ফার্মাসিস্টকে দায়ী করে প্রতিবেদন প্রকাশ করলেও কিছুটা কম দায় নিয়ে একাই ফার্মেসী চালাচ্ছে মাধবীলতা। চার ফার্মাসিস্ট-এর একজন জেলে ও দু’জন পলাতক থাকায় ফার্মেসীতে চলছে চরম অচলাবস্থা। একজন ফার্মাসিস্ট মাধবীলতা ইনডেন্টন দিয়ে ওষুধ আনা, রেজিস্ট্রার মেইনটেইন ও রোগীদের ওষুধ সরবরাহ করায় চরম ভোগান্তিতে রয়েছে সাধারণ রোগীরা। লাইন ধরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ওষুধ নিতে হচ্ছে তাদের। গতকাল শনিবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখানো অন্তত দশজন রোগীর বলেছেন, ওষুধ নিতে তাদের ভোগান্তির কথা, খালিশপুর এলাকার মোঃ আবু কালাম, সোনাডাঙ্গা এলাকার মুন্সী আব্দুর রশীদ, বয়রার ইলিয়াস ফকির বলেন একে তো স্লিপের বেশির ভাগ ওষুধই দেয় না, যা দেয় তার জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। রোগীদের সাথে মাধবীলতার অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেন কয়েকজন রোগী।
আবু নাসের হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী সময়ের খবরকে বলেন ফার্মেসী ঝামেলা চলছে বিশ্বাস করি আমাদের কিছুই করার নাই। আমরা কোন নতুন লোক দিতে পারবো না। আমাদের কাজ তদন্ত করা আমরা তদন্ত করে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে গত ২৮ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদনে আরও প্রায় ১১ লাখ টাকার ওষুধ গায়েবের ঘটনা থাকলেও একমাসে এ বিশাল অর্থের সরকারি ওষুধ উদ্ধারে কোন অভিযান চালায়নি কেউ। গ্রেফতার দেবপ্রসাদ এর নিকট থেকে এ ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।  
অপরদিকে সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সাপ্লাই ওষুধ নিয়ে ওয়ার্ড ইনচার্জদের দু’গ্র“পের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ালে দুইপক্ষের ঝগড়ার মধ্যে বেরিয়ে আসে ওষুধ চুরির নতুন কৌশল। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ দায়িত্ব নেয়ার পরে অনেকটাই স্তিমিত হয় ওষুধ চোর সিন্ডিকেট। কৌশল পাল্টে আবার বেপরোয়া এরা।  
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, সরকারি ওষুধ বাইরে বিক্রি করায় ঝুঁকি থাকায় ওষুধ চুরির জন্য ওয়ার্ডে ভর্তি সাধারণ গরীব অসহায় রোগীদের বেছে নেয় তারা। সাপ্লাই না থাকার কথা বলে হাসপাতালের সামনে দিয়ে চড়া দামে ওষুধ কিনতে হয় বেশিরভাগ রোগীকে। এরপর সেই ওষুধ ব্যবহারের জন্য নার্সদের হাতে দিলে সাপ্লাই ওষুধ ব্যবহার করে রোগীদের ওষুধ গায়েব করে সিন্ডিকেট। এরপর দিন শেষে ঐ ওষুধ নির্বিঘেœ বাইরে নিয়ে বিক্রি করে তারা।
এদিকে গত ১৯ আগস্ট সকালে রোগীদের ওষুধ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের আয়া আফিয়া খাতুনকে অন্য ওয়ার্ডে বদলী করলেও ঐ দিনই রাত ১২টার পর এক ঝটিকা অভিযানে ঐ ওয়ার্ডে গেলে বদলীকৃত আয়া আফিয়াকে দেখতে পান। পরে তার ব্যাগ তল্লাসী করে হাজার টাকার সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করেন সুপার। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে আটক করলেও মুচলেকা দিয়ে রাতেই ছাড়া পান তিনি। এছাড়া শর্ট স্লিপের মাধ্যমে বহির্বিভাগ থেকে ওষুধ চুরির ঘটনা নিত্যদিনের।
খুলনা মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন  আগে আউট ডোরে শর্ট স্লিপের মাধ্যমে ওষুধ চুরি ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের ওষুধ চুরির বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ওষুধ চুরিসহ হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যে কোন অনিয়ম দেখলে সরাসরি তার কাছে সবাইকে গিয়ে অভিযোগ প্রদানের অনুরোধ করেন তিনি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫