খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

অদৃশ্য কারণে চালু হচ্ছে না খুমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ : বেসরকারিতে রমরমা ব্যবসা

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৫৬:০০

সবকাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অদৃশ্য কারণেই চালু হচ্ছে না খুলনা মেডিকেল কলেজের আইসিইউ বিভাগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পিডব্লিউডি ও বিদ্যুৎ বিভাগ তিনপক্ষই আইসিইউ চালু না হওয়ার পেছনে অন্য পক্ষদের দায়ী করছেন। আবু নাসের হাসপাতালেও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আইসিইউ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। আর এর সুযোগেই বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবসা রমরমা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা কোন আইসিইউ বিভাগ নেই। হাসপাতালের ৩য় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটের চারটি বেড আইসিইউ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এদিকে আইসিইউ’র জন্য হাসপাতাল কমপ্লেক্স-এর ভিতর পৃথক একটি ভবন করা হলেও অদৃশ্য কারণে সেটি চালু হচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পিডব্লিউডি ও বিদ্যুৎ বিভাগ তিনপক্ষই আইসিইউ চালু না হওয়ার পেছনে একে অন্য পক্ষকে দায়ী করছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, পিডব্লিউডি এখনও ভবন হস্তান্তর করতে পারেনি কিভাবে কার্যক্রম শুরু করবো। তবে পিডব্লিউডি বলছে, হাসপাতালের কাছে পাওনা সোয়া কোটি টাকা পরিশোধ করার পরেও বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ। যার কারণে সময়মত হস্তান্তর করতে পারছি না। আর বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, লাইন দেবো না কেন সরকারি স্থাপনায়, তা আটকানোর অধিকার কারো নেই। পিডব্লিউডি বিভাগ সংশ্লিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি বিধায় এখনও লাইন দেয়া সম্ভব হয়নি।
গত ২৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. নমিতা হালদার আইসিইউ ভবনটি পরিদর্শনের সময় ছাত্রলীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষের পর তিনি হতবিহ্বল হয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর থেকে ঐ অবস্থায় পরে আছে ভবনটি।
নগরীর অপর একটি সরকারি হাসপাতালে ১০ বেডের একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। গত পহেলা ফেব্র“য়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় এসে বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট ও আইসিইউ ওয়ার্ডটি চালু করে। তবে চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল হওয়ায় রোগীর চাহিদা অনুযায়ী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, এটি বিশেষায়িত হাসপাতাল হলেও আইসিইউতে যেকোন ধরণের রোগী থাকতে পারবে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তার মনে করলে তাকে আইসিইউ সেবা দিতে পারবে। আইসিইউ সেবায় সরকারি হাসপাতালগুলোর সীমাবদ্ধতার সুযোগে ব্যবসা করে যাচ্ছে বেসরকারি কয়েকটি হাসপাতাল। নগরীতে দু’টি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালের সেবার দুরাবস্থায় তাদের আইসিইউ ব্যবসা চলছে জমজমাট।
গত বছরের ১৩ অক্টোবর নগরীর মজিদ সরণীস্থ গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযানে যেসব অভিযোগ আনা হয় এর মধ্যে ছিল ভাল রোগীকে আইসিইউতে রেখে অতিরিক্ত বিল আদায়। উক্ত সময় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু অভিযোগের পর এর মালিক ৫ জনের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা জরিমানাও আদায় করে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। চলতি বছরে আবারও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া এক ব্যক্তিকে জীবিত বলে আইসিইউতে ভর্তি করায় আবারও আলোচনায় আসে হাসপাতালটি। এখানে সেবা নিয়েছেন এমন একাধিক রোগীর অভিযোগ। অপর একটি বেসরকারি হাসপাতালেও শুধুমাত্র কার্ডিয়াক রোগীদের জন্য ৮ বেডের আইসিইউ সেবা থাকলেও তা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ধরাছোঁয়ার বাইরে।
শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী যে পরিমাণ আইসিইউ সুবিধা থাকা প্রয়োজন কিন্তু সরকারি হাসপাতালগুলোতে তা পূরণ করতে পারছে না। তবে চাহিদা অনুযায়ী আবু নাসের হাসপাতালে তা পূরণে চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় এসে ১০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ওয়ার্ড চালু করলেও জনবল সংকট রয়েছে এখানে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন, আইসিইইউ বিভাগ চালুর জন্য প্রক্রিয়া একবারে শেষ পর্যায়ে। ভবনটি বিদ্যুৎ সংযোগসহ হস্তান্তর হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। ফলে কিছুটা হলেও এ অঞ্চলের চাহিদা পূরণ হবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সনম্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সরকারের ধীরে চলো নীতির কারনেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সিন্ডিকেট ব্যবসা জমজমাট বলেও তিনি মনে করেন। তিনি অবিলম্বে হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি চালুর দাবি জানান। যাতে খুলনার মানুষ স্বল্প খরচে নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সেবা পায়।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












চোখ-কনুই-ঘাড়ের শত্র“ স্মার্টফোন!

চোখ-কনুই-ঘাড়ের শত্র“ স্মার্টফোন!

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০৬


ব্রেকিং নিউজ