খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক প্রতিশ্র“তির ৪০ কোটি টাকা পায়নি কর্তৃপক্ষ!

জরাজীর্ণ ভবন আর জনবল সংকট নিয়ে চলছে খুলনা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৫৯:০০

মৌখিক প্রতিশ্র“তি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে গেছে খুলনার জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়ন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পত্রের পরেও জনবল নিয়োগ দিতে পারেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, আর নতুন ভবন নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়ন আটকে আছে গণপূর্ত বিভাগে। এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের খবরের অগ্রগতি নেই।  
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের গত পহেলা ফেব্র“য়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোঃ নাসিম খুলনা জেনারেল হাসপাতাল সফর করেন। এখানে জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি তৎক্ষণাৎ ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন। পরের দিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে নগরীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন আনন্দ র‌্যালি বের করে। তবে প্রায় ৬ মাস পর গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মোঃ সিরাজুল হক খান খুলনায় সফরকালে সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনা জেনারেল হাসপাতালে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাপারে যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছেন, তা আমার জানা নেই। সচিব জানেন না বলে প্রশ্নের জবাবে অফিসিয়াল প্রসিডিউর শুরু হয়নি এমন তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, যেহেতু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন তিনি অবশ্যই দেবেন। আমি ঢাকায় যেয়ে তার সাথে কথা বলে এর প্রক্রিয়া শুরু করবো। এ ঘোষণারও দু’মাস পেরিয়েছে। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা গেছে বিষয়টি নিয়ে তেমন কোন দাপ্তরিক অগ্রগতি হয়নি। খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আধুনিকায়ন উন্নয়নে চারটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া অনেকটা এই ৪০ কোটি টাকার উপর নির্ভর করছে। গণপূর্ত বিভাগের ওপি শাখায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি এ্যাম্বুলেন্সটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে আছে। এছাড়া অপর দু’টি এ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও তা বছরের বেশির ভাগ সময়ই মেরামতের জন্য থাকে গ্যারেজে। হাসপাতালের বেশিরভাগ ওয়ার্ড ও বারান্দায় লাইট ফ্যান নষ্ট, পরিত্যক্ত ঘোষণার পরেও একাধিক ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা। রোগীদের ব্যবহৃত পানির ট্যাংকিতে তেলাপোকা মরে পড়ে আছে। বাথরুম, গোসলখানা দুর্গন্ধযুক্ত, স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। খুব বাধ্য না হলে বাথরুম বা গোসলখানা ব্যবহার করেন না রোগীরা। ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়ার কারণে মেরামত সম্ভব হচ্ছে না এখানে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে জনবল সংকটের কারণে রোগীদের পর্যাপ্ত সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ডাক্তাররা। হাসপাতালের  চিকিৎসক ৩৪ জনের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য। পদে থাকলে একাধিক ডাক্তার হাসপাতালে আসেন না এমন অভিযোগ রয়েছে। নার্সিং ১৬২টি  পদের মধ্যে ১৫টি শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তা ও কর্মচারী ২৬৯টি পদের বিপরীতে ৩৪টি শূন্য। প্যাথলজি, গাইনি, মেডিসিনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে মেডিকেল অফিসার ও জুনিয়র কনসালটেন্টরা। গত পহেলা ফেব্র“য়ারি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ১৫০ বেড থেকে ২৫০ বেডে উন্নীত করার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করেন। অপরদিকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব গত ২১ জুলাই খুলনা জেনারেল হাসপাতাল সফরকালে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় ৩৫২ জন জনবলের যে কাঠামো দিয়েছে তা বাস্তবায়ন শাখায় রয়েছে, সেখান থেকে বেতন সিলেকশন নির্ধারণ উপ-কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব ইলিয়াস লস্করের টেবিল থেকে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে। স্বাস্থ্য এ বক্তব্যের দু’মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও।
জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মাহাবুবুর রহমান বলেছেন হাসপাতালের আধুনিকায়নে আমাদের ৪৫ কোটি টাকা আগেই ছিল, আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষিত ৪০ কোটি টাকা পাওয়া গেলে, আমরা আরো বেশি জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে পারবো। জনবল নিয়োগের বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের ব্যাপার বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সকল সংকট উত্তরণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এছাড়া আধুনিকায়নের গণপূর্ত বিভাগের ওপি শাখায় রয়েছে। তাদের কার্যক্রম শেষে হাসপাতালের আধুনিকায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












চোখ-কনুই-ঘাড়ের শত্র“ স্মার্টফোন!

চোখ-কনুই-ঘাড়ের শত্র“ স্মার্টফোন!

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০৬


ব্রেকিং নিউজ