খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

দক্ষিণ বাংলার অহংকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শামস জেবিন | প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০

মধুমতির পাড় ঘেঁষে গোপালগঞ্জ। অযুত মনীষীর জন্মস্থান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতিধন্য এ জনপদে ’৭৫ পরবর্তী কোন সরকার উল্লেখযোগ্য কাজ করেনি। রাজনৈতিক বিদ্বেষের আগুনে দগ্ধ এ জনপদ ছিল অবহেলিত দুর্গম ও অনগ্রসর। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর এলাকার ভাগ্যহত মানুষের জন্য কাজ শুরু করেন। গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় সেশনজটহীন এক অনন্য বিশ^বিদ্যালয় তারই মধ্যে অন্যতম অবদান। এই বিশ^বিদ্যালয়টি এখন দেশের অন্যতম সেরা বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। প্রধানমন্ত্রীর এই জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমকে যারা কঠিন শ্রম দিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন তাদের একজন। তার একান্ত নিষ্ঠার কারণে এ বিশ^বিদ্যালয়টি ভর্তির আসন সংখ্যার দিক থেকে বর্তমানে  দেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে মাত্র পাঁচটি বিভাগে ১৬০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়, আর মাত্র ৫ বছরে  ২৩টি বিভাগে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬,০০১ জনে। সবুজের কার্পেটে ঢাকা এ শিক্ষাঙ্গনের ক্যাম্পাস অযুত বৃক্ষরাজীর মেলা। ধুমপান ও সেসনজটমুক্ত শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের মূল বৈশিষ্ট্য। শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এখন শিক্ষা-সংস্কৃতি সর্বোপরি মনোবিকাশে এখন দক্ষিণ বাংলার অহংকার।
সেশনজটমুক্ত ক্যাম্পাস : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে বর্তমানে সেশনজট নেই। ৪ বছর পূর্ণ হওয়ার একদিন আগেই শিক্ষার্থীরা তাদের সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে যায়। এ বিশ^বিদ্যালয়ে প্রতি বছর ১ জানুয়ারি অনুষ্ঠান করে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয় এবং স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়।
র‌্যাগিং ও নেশামুক্ত ক্যাম্পাস : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় বর্তমানে র‌্যাগিং ও নেশামুক্ত। তিনি প্রতি বিভাগের শিক্ষকগণ যাতে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং এর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে সেজন্য শিক্ষকদের জন্য কাউন্সিলিং ভাতা চালু করেছেন। এছাড়া ক্যা¤পাসের ছাত্রীরা শালীন ও স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে পারছেন।
দেশের বৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালা : ভাইস চ্যান্সেল প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন এ বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদানের সময় (২ ফেব্র“য়ারি ২০১৫) ক্যাম্পাসে কোন উদ্যান ছিল না। উপাচার্য বিশ^বিদ্যালয়ে যোগদানের দিনই ক্যাম্পাসে বৃক্ষরাজি রোপণকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। মাত্র দুই বছরে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাস দেশের সর্ববৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, ঔষধি ও বনজ বৃক্ষ। এছাড়া গোপালগঞ্জ কৃষি প্রযুক্তি মেলা ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রযুক্তি নার্সারি প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং বৃক্ষ রোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ২০১৬ এর খ শ্রেণীতে প্রথম স্থান লাভ করেছে।
আধুনিক ল্যাব স্থাপন : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্যে বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক ল্যাব স্থাপন করেছেন। ইলেকট্রিক এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক পাওয়ার গিয়ার সিস্টেম ল্যাব। যা বাংলাদেশের পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এককভাবে প্রথম। এছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি এন্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসীসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ল্যাবের সুবিধা আছে। অতি দ্রুত জেনম সিকুয়েন্সিং ল্যাব স্থাপন করা হবে। এছাড়াও অন্যান্য বিভাগে আধুনিক ল্যাব স্থাপনের কাজ চলছে।
আধুনিক গ্রন্থাগার : বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে রয়েছে পর্যাপ্ত বইয়ের সংগ্রহ। শিক্ষার্থীরা গ্রন্থাগারের আইটি কর্ণারে সার্বক্ষণিক কম্পিউটার ব্যবহার করতে পাচ্ছে। এছাড়া অটোমেশন পদ্ধতিতে বার কোড ব্যবহার করে বই আদান প্রদান করছে। বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর ২০১৬ এ গোপালগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্ণার উদ্বোধন করেন।
ইন্টারনেট সুবিধা : উপাচার্যের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় ডিজিটাল বিশ^বিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা ক্যাম্পাসের সর্বত্র উচ্চ গতির ব্রডব্যান্ড ও ওয়াইফাই-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে।
বিদেশে গবেষণার সুযোগ : ভাইস চ্যান্সেলের প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষে সম্প্রতি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ-এর সঙ্গে একটি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভালদোষ্টা স্টেট ইউনিভার্সিটির সঙ্গে আরেকটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেন। এর ফলে এ বিশ^দ্যিালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ওই দু’টি প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে পারবেন। বিদেশ গিয়ে শিক্ষার্থীরা যেনো ভাষার প্রতিবন্ধকতার শিকার না হন-তার জন্য এখানে একটি ভাষা ক্লাব খোলার কথা সক্রিয়ভাবে চিন্তা করা যাচ্ছে।
বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি : এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে উপাচার্যের উদ্যোগে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হয়েছে। এজন্য গঠন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি সেল। এ বছর নেপালের ৩০ জন শিক্ষার্থী অত্র বিশ^বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।
যাতায়াত ও আবাসন : শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও আবাসন সংকট নিরসনে ভাইস চ্যান্সেলর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সম্প্রতি বিশ^বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে দু’টি বাস ক্রয় করা হয়েছে এবং আরও দু’টি বাস ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে বিশ^বিদ্যালয়ের বাসের সংখ্যা ৯টি। বাসগুলো বিভিন্ন রুটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আনা নেওয়া করে। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে ইতিমধ্যে দু’টি হলের নির্মাণ কাজ দ্রুত চলছে। এছাড়া বিশ^বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে অন্যান্য অবকাঠামোর মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের এক হাজার আসন বিশিষ্ট দু’টি হল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শিল্প, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ পায়। ভাইস চ্যান্সেলরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা : বর্তমান উপাচার্যের যোগদানের মাত্র দুই বছরের মধ্যে এ বিশ^বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিশ^বিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ। প্রথম বছর প্লে-গ্র“প থেকে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে। স্কুল এন্ড কলেজে পর্যাপ্ত সংখ্যক শিক্ষকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান উপাচাযের্র প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে কৃষি বিভাগের নাম পরিবর্তিত হয়ে শেখ হাসিনা কৃষি ইনস্টিটিউট হয়েছে। প্রতিটি বিভাগে আধুনিক চাহিদা সম্পন্ন পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু স্ট্যাডিজ বাধ্যতামূলক : ২৩টা ডিপার্টমেন্ট-এর সবক’টিতে বঙ্গবন্ধু স্ট্যাডিজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের সঠিক ইতিহাস স¤পর্কে জানতে পারে।
আইটি পার্ক স্থাপন : দেশে ১২টি আইটি পার্কের মধ্যে গোপালগঞ্জে স্থাপন হচ্ছে বিশ্ববিদ্যলয় ক্যা¤পাসে। ইতোমধ্যে ক্যা¤পাসের ৫ একর জমিতে আইটি পার্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সিসি ক্যামেরা আওতাভুক্ত : বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে ও সার্বক্ষণিক তদারকির মাধ্যমে ক্যা¤পাসের নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষা করা হয়।
ভিসির বক্তব্য : উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা এবং ছাত্র-ছাত্রী ভর্তির দিক থেকে প্রথম সারিতে আনার জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। আধুনিক ল্যাব স্থাপন, ডিজিটাল লাইব্রেরী, পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা, মাদক ও র‌্যাগিং মুক্ত ক্যা¤পাস, সিসি ক্যামেরা আওতাভুক্ত ক্যা¤পাস, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি, সেশনজট মুক্ত ক্যা¤পাস, দেশের বৃহৎ উদ্ভিদ সংগ্রহশালা, ইন্টারনেট সুবিধা ইত্যাদি অন্যান্য ক্যা¤পাসের তুলনায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় এগিয়ে। তিনি এবং তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার লক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

পুলিশ মেমোরিয়াল ডে

০২ মার্চ, ২০১৭ ০০:৩৪


বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু প্রকাশ

৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫৯

খুলনার সংবাদপত্রের সেকাল-একাল

খুলনার সংবাদপত্রের সেকাল-একাল

৩১ জানুয়ারী, ২০১৭ ০০:৫৮


বঙ্গবন্ধু সেদিন যদি না ফিরতেন

বঙ্গবন্ধু সেদিন যদি না ফিরতেন

১০ জানুয়ারী, ২০১৭ ১২:৫৪


ব্রেকিং নিউজ