খুলনা | রবিবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ঈদ-উল-আয্হা আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্কর

হাসান আবদুল কাইয়ূম | প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৩০:০০

ঈদ-উল-আয্হা আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্কর

পবিত্র ঈদ-উল-আয্হার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ঈদ-উল-আয্হা মূলত আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি হাসিল করার উদ্দেশ্যে আত্ম কুরবান করার চেতনা জাগ্রত করে এবং মানুষের মধ্যে লুক্কায়িত পাশবিকতা হত্যা করে মানবিক মূল্যবোধে উত্তরণের পথ প্রদর্শন করে। এ ঈদ আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর।
ঈদ-উল-আয্হা বা ঈদ-উল-আয্হার অর্থ যবেহ বা কোরবানির আনন্দ উৎসব। আরবী কুরবান শব্দের শব্দমূল হচ্ছে র্কুব। র্কুব শব্দের অর্থ নৈকট, সান্নিধ্য। এই ঈদ মুসলিম জাহানের সর্বত্র সমান উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হয়। হাজীগণ ৯ জিলহজ আরাফাত ময়দানে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করার পর ১০ জিলহজ রাতে মুযদালিফায় এসে রাতযাপন করেন এবং এখান থেকে মিনায় গিয়ে তিনটি শয়তানের প্রতি কঙ্কর নিক্ষেপ করার জন্য ৭০টি কঙ্কর সংগ্রহ করেন। ফজরের সালাত শেষে এখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করে এখান থেকে তিন মাইল পশ্চিমে অবস্থিত মিনা বা মূনা নামক স্থানে এসে জামারায়ে আকাবা বা বড় শয়তানকে লক্ষ্য করে একে একে সাতটি কঙ্কর নিক্ষেপ করার পর কোরবানি দেন। পশু কোরবানি দেয়া ওয়াজিব সেই সব হাজী সাহেবানের জন্য যারা হজ্বে তামাত্তু বা হজ্বে কিরানের নিয়তে হজ্ব করেন। এই দিনকে সেখানে বলা হয় ইয়াত্তুমুন নাহর বা কোরবানির দিন। স্থানীয়ভাবে চাঁদের হিসেব অনুযায়ী মুসলিম জাহানের সর্বত্র ১০ জিলহজে বিভিন্ন নামে ঈদ-উল-আয্হা পালিত হয়। যেমন মিসরে পালিত হয় ‘ঈদ-উল-বাকারা নামে, ইরানে পালিত হয় ঈদে কুরবান নামে, তুরস্কে পালিত হয় কুরবান বায়রাম নামে, পাক-বাংলা-ভারত উপমহাদেশে ঈদ-উল-আয্হা, বকরা ঈদ, কোরবানির ঈদ নামে, আফ্রিকার সেনেগালসহ কয়েকটি দেশে এটা পালিত হয় তাবাস্কি নামে। ঈদ মানে আবর্তক উৎসব অর্থাৎ যে উৎসব পুনঃপুনঃ ফিরে ফিরে আসে। ঈদ-উল-আয্হা ধারণ করে আছে হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম ও তাঁর বড় ছেলে হযরত ইসমাঈল আলায়হিস্ সালামের কোরবানির স্মৃতি।
হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালামের প্রথম স্ত্রী বিবি সারার গর্ভে কোন সন্তান না হওয়ায় তিনি মিসরের এক অভিজাত মহিলা বিবি হাজেরাকে শাদী করেন এবং আল্লাহর নিকট দোয়া করেন একটি সন্তান দানের জন্য। কোরান মজীদে ইরশাদ হয়েছে: যে (ইব্রাহীম) বলল, আমি আমার রবের দিকে চললাম। তিনি অবশ্যই আমাকে সৎপথে পরিচালিত করবেন। (ইব্রাহীম দোফা করল) হে আমার রব! আমাকে একটা সৎ, কর্মপরায়ন সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি (আল্লাহ) তাকে একটা স্থিরবুদ্ধি পুত্রের সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর সে যখন তাঁর পিতার সঙ্গে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলো তখন ইব্রাহীম বলল: হে আমার ছেলে! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে যবেহ্ করছি। এ ব্যাপারে তোমার অভিমত কি? সে বললঃ আব্বাজান! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা বাস্তবায়ন করুন। ইন্শাআল্লাহ্ আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন। যখন তারা উভয়েই (পিতা-পুত্র) আনুগত্য (অর্থাৎ পিতা কোরবানি করতে এবং পুত্র কুরবান হতে আনুগত্য প্রকাশ করল) এবং ইব্রাহীম তাঁর পুত্রকে কাত করে শায়িত করল তখন আমি (আল্লাহ্) তাকে ( ইব্রাহীমকে) আহ্বান করে বললাম: হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নাদেশ সত্যিই পালন করলে! এইভাবেই আমি (আল্লাহ্) সৎকর্মপরায়নদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে মুক্ত করলাম এক কোরবানির বিনিময়ে। আমি এটা পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি। ইব্রাহীমের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক (সূরা সাফ্ফাত: আয়াত ৯৯-১০৯)।
হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম মক্কার মিনা নামক স্থানে পুত্র ইসমাঈল আলায়হিস্ সালামকে কোরবানি করার উদ্দেশ্যে নিয়ে যাবার সময় শয়তান পথিমধ্যে এই কোরবানি না করার জন্য তিনটি স্থানে ধোঁকা দেবার চেষ্টা করে। তারা শয়তানকে লক্ষ্য করে পাথর মেরে তাকে তাড়িয়ে দেয়। সেই তিনটি স্থান চিহ্নিত করে রাখা আছে যেখানে আজও হাজীগণ পাথর মারেন। এ সময় তাঁরা বলেন, এই কঙ্কর মারছি শয়তানকে অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে এবং পরম করুণাময় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।
হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস সালাম হযরত ইসমাঈল আলায়হিস সালামকে শায়িত করে ছুরি মারতে উদ্যত হয়েছিলেন কিন্তু আল্লাহ নরহত্যা চান না যে কারণে তিনি এটা করতে নিষেধ করেন। জানাযায়, এর বদলে তিনি একটা জান্নাতি দুম্বা কোরবানী করেন। তারপর থেকে প্রতিবছর ১০ জিলহজ ঈদ-উল-আয্হা পালিত হয়ে আসছে। এই ঈদে গরু, ছাগল, উট কিম্বা দুম্বা কোরবানীর পূর্বে যে নিয়ত করা হয় তাতে বলা হয়- আমি মুখ ফিরাচ্ছি সেই মহান সত্তার দিকে যিনি আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন আর আমি তো মুশ্রিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। আরও বলা হয়: নিশ্চয়ই আমার সালাত ও আমার কোরবানি এবং আমার জীবন ও আমার মরণ, আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের জন্য।
পশু কোরবানীটা হচ্ছে আত্মশুদ্ধির প্রতীক। কোরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে: আল্লাহর নিকট পৌঁছে না ওগুলোর (কোরবানী দেয়া পশুর) গোশ্ত এবং রক্ত বরং পৌঁছে তোমাদের তাক্ওয়া (সূরা হজ: আয়াত ৩৭)। তাকওয়াই হচ্ছে একজন মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

যেখানে ৭১ কথা বলে

যেখানে ৭১ কথা বলে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২৬

একাত্তরের খুলনা বিজয়

একাত্তরের খুলনা বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২২



পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২১



যুদ্ধকালীন স্মৃতি

যুদ্ধকালীন স্মৃতি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৭

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৪

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫



ব্রেকিং নিউজ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০