খুলনা | রবিবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ঈদুল আযহার পূর্বাপর

নাসির আহমেদ | প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:২৭:০০

ঈদুল আযহার পূর্বাপর

ত্যাগ ও মহিমায় সমুজ্জল ঈদুল আযহা এসে গেছে দ্বারপ্রান্তে। মহান স্রষ্টার নির্দেশ মানতে মুসলমান ধর্মালম্বী (সামর্থ্যবান) সকলে সাধ্যের ভেতরে থেকে আল্লাহর কৃপায় কোরবানী করবেন। কোরবানীর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ধর্মীয় আলোচনা এবং বিবিধ মসলা-মাসায়েল সকলে কমবেশি অবগত। প্রতিবছর পত্র-পত্রিকা বিশেষ ক্রোড়পত্র বের করে থাকে এ উপলক্ষে। প্রশ্নটা হচ্ছে পড়ে - বুঝে এবং দেখে বিবিধ বিষয়সমূহ আতস্ত করি ক’জন। হযরত ইব্রাহিম (আঃ) তার প্রিয় পুত্রকে যখন জবেহ করতে প্রস্তুত, ছুরিও চালিয়ে দিয়েছে ঠিক সেই মুহুর্তে তিনি নবী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর প্রতি সন্তষ্ট হয়ে ফেরেশতা মারফত দুম্বা পাঠিয়ে জবেহ করতঃ কবুল করে নিলেন। লক্ষ্য করুন, কুরবানীর পশু জবেহ করার দোয়া এর বাংলা অর্থ-
আমি সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে হযরত ইব্রাহিমের (আঃ) তরীকার উপর একনিষ্ট হয়ে ঐ মহান আল্লাহর দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করছি যিনি আসমান-যমীন পয়দা করেছেন এবং আমি কখনো শিরিককারীদের মধ্যে নাই। অবশ্যই আমার নামাজ, আমার কুরবানী, আমার জীবন আমার মরণ মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর জন্য। তার কোন শরীক নেই। এ নির্দেশই আমাকে দেয়া হয়েছে এবং আমি অনুগত্যদের মধ্যে একজন। হে আল্লাহ ইহা আপনারই জন্য করা হচ্ছে এবং আপনারই নিকট থেকে।
যে মুহুর্তে ঈদুল আযহা এবার আসন্ন ঠিক সেই সময় বন্যার পানি কিছুটা টান দিয়েছে মাত্র। তবে, লক্ষ লক্ষ মানুষ যে ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তা অস্বীকারের উপায় নেই। আবার ফসল বুনবে, ফসল ফলবে এবং অতঃপর ঘরে তুলবে তবেই না তাদের মুখে হাসির দেখা মিলবে। ততদিন? বন্যা-জলোচ্ছাস সব কিছুর মূলে জলবায়ু পরিবর্তন। প্যারিস চুক্তি অনুসারে শিল্পান্নত দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমানোর এবং জলবায়ু অর্থায়নের যে ঐচ্ছিক প্রতিশ্র“তি দিয়েছে তাতে পৃথিবীর অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। যেহেতু আমি এই বিষয়ে অভিজ্ঞ নই আমার ঐ দিকে অগ্রসর হবার ইচ্ছে নেই। বরং মুল শিরোনামের দিকে থাকি। আমরা যে কোরবানী করছি, তা রিয়া বা লোক দেখানো হতে মুক্তি হতে হবে। কে কি দিয়ে, কত দামে কোরবানী করছে ওটা বিবেচ্য নয়। কোরবানীর রক্ত, মাংস কিছুই স্রষ্টার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মহান স্রষ্টা মানুষের চেহারা সুরৎ, বেশভুষণ দেখেন না, তিনি দেখবেন অন্তরের তাকওয়া। এখানে যদি কোবানীর অর্থকে সাশ্রয় করে আর্তমানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে যে আত্মতৃপ্তি আপনি আমি পাবো তা কি কোনভাবে ভাষায় লিখে বোঝানো সম্ভব। বন্যার পরবর্তীকালীন স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাহত হয়ে যদি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র মানুষের ঢল শহরে এসে পড়ে, তাহলে বুঝতে পারছেন কি অবস্থা দাঁড়াবে?
এবার চোখ অন্য দিকে ফিরাই। পানিতে টান লেগেছে। যাতায়াত সড়কের পিচ, পাথর, খোয়া ও ইট উঠে গেছে। সৃষ্ট হয়েছে বড় বড় গর্তের। এ রকম উঁচু-নিচু ও ভাঙ্গাচোরা সড়কে যানবাহন চলে হেলে দুলে। তখন মাত্র ৬০ মিনিটের পথ যেতে কত সময় লাগবে? সড়ক সমূহের বেহাল দশার কারণে প্রতিবছর স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও সওজ বিভাগ কাজ করে ঠিকই কিন্তু বাজেট প্রকল্প সব মিলিয়ে কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাওয়ার দৃশ্য নতুন নয়। শুধু কার্যাদেশ নয় সংস্কারসহ জীবনের নিরাপত্তা চায় জনগণ। অন্তত: বাড়ি ফেরাই অন্তর তাগাদায় পথে কে রোগী হতে চায় বলুন। প্রতি বছর কোরবানী এলেই বেড়ে যায় লবণের দাম। এমনও শোনা যায়, আমদানী হলেই সহনশীল হয়ে যাবে অথবা পর্যাপ্ত মজুত আছে দুঃচিন্তার কিছু নেই। বাজারে লবণে-লবণে সয়লাব কিন্তু আয়োডিন যুক্ত লবণ আছে কতগুলো টিসিবি তার সঠিক সংখ্যা বলতে সক্ষম যথেষ্ট সন্দিহান। কোরবানী করার পর চামড়ার প্রক্রিয়ায় লবণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্যটির কাঁচামাল ও শিল্পায়নে আমাদের নজর বাড়ানো প্রয়োজন।
কথায় বলে জ্ঞানী লোকও নাকি অজ্ঞানের কাজ করে বসেত পারে। হ্যাঁ, তা পারে বৈকী। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। তাদের খপ্পরে পড়ে টাকা ও মালামাল খুঁইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় এমন খবর নতুন নয়। তথ্য মতে, রাজধানী ঢাকা ও এর আশেপাশে অজ্ঞান পার্টির অন্তত ৩০০ (তিনশত) সদস্য রয়েছে। এই চক্রের তৎপরতা মূলতঃ ঈদ কেন্দ্রিক। গোয়েন্দা পুলিশ ও মহানগর পুলিশের ভূমিকাও যথেষ্ট প্রশংসার থাকে। ভুক্তভোগীরা ভয়ে কিংবা অহেতুক ঝামেলা পড়তে না চাওয়ায় প্রায়শঃই মামলা করেন না, মনে রাখবেন, মামলা করলে অপরাধীকে ধরতে সুবিধা হয়। বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল এদের আনাগোনা অধিক।
কৌশলে চেতনানাশক ঔষধ ও পানীয় খাইয়ে এই সকল অপরাধ কর্মকান্ড সমূহ সাংগঠিত হয়। পূর্বে হৃদরোগে ও কিডনীতে সমস্যা থাকলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কাজেই আপনার সচেতনতাই আপনার নিরাপত্তা। সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিন আপনার একটি প্রতিবাদে প্রতিরোধ করা যেতে পারে অপকর্ম।
প্রতিবছর ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে জালনোট চক্রের সদস্যরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। গোয়েন্দা পুলিশের র‌্যাবের হাতে ধরাও পড়ে। আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে আবাও লিপ্ত হয় অর্থ উপার্জনের ঘৃনিত লিপ্সাতে। জালনোট চক্রদের সামাল দেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। জাল নোট সংক্রান্ত অপরাধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়। যাদের সাক্ষী করে প্রায়ই তাদের খোঁজ পাওয়া যায় না। ফলে চার্জসিটের দুর্বলতায় অপরাধীরা রেহাই পায়। বিশেষ করে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বেশি জাল হতে দেখা যায়। এদের জামিন অযোগ্য করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। স¤পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অধিক জরিমানা সংবলিত নতুন আইন প্রনয়নের বিষয় প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ, মিডিয়ার বদৌলতে দেখেছি গরুর দেশি খামারীররা বলছে, দেশের কোরবানীর পশুর চাহিদা মেটাতে সক্ষম তারা। কাজেই, চোরাপথে গরু আসা রোধ করা হোক। আমরা সকলেই তাই চাই। তবে মোটা তাজা করন প্রক্রিয়াতে মানুষের দেহের ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগ না হওয়াটাও উত্তম ভুলবেন না যেন। জবেহকৃত পশুর উচ্ছিষ্টকৃত অংশ বিশেষ যেখানে-সেখানে ফেলে আপনি-আপনার পরিবেশ দূষণ করার অধিকার রাখেন না। কাজেই নিদৃষ্টস্থানে জবেহ করার পর ভালো করে ধৌত করে ময়লার স্থানেই জমা করুন। দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা তা পরিস্কার করে নেবে। সবার সুন্দর কাটুক ঈদুল আযহার দিন। ত্যাগে ও মহিমায় প্রস্ফুটিত হোক অন্তর। ###

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

যেখানে ৭১ কথা বলে

যেখানে ৭১ কথা বলে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২৬

একাত্তরের খুলনা বিজয়

একাত্তরের খুলনা বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২২



পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২১



যুদ্ধকালীন স্মৃতি

যুদ্ধকালীন স্মৃতি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৭

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৪

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫



ব্রেকিং নিউজ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০