খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কোরবানী এবং কিছু কথা

মোল্লা আব্দুর রহিম | প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:২৪:০০


আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর পূর্বে নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) মহান আল্লাহর নির্দেশে নিজ প্রিয় হযরত ইসমাইল (আঃ) কে কাবা শরীফের অদূরে খধহফ ড়ভ ঝধপৎরভরপব বা মিনা ময়দানে নিজ হাতে কোরবানী করতে উদ্যত হয়েছিলেন। আল্লাহর পরীক্ষায় তিনি উত্তীর্ণ হলেন পুত্রের পরিবর্তে পশু কোরবানী হয়ে গেল।
এই ঘটনা আল্লাহ পাক কোরআনের ভাষায় বলেন, “পিতার হাত ধরে পুত্র যখন হাঁটছিল সেই রোমাঞ্চকর মুহুর্তে পিতা বললেন, হে পুত্র, আমি স্বপ্নে আদিষ্ট হয়েছি তোমাকে আল্লাহর পথে জবেহ করতে; এ বিষয় তোমার অভিমত কি? পুত্র জবাবে বললেন- হে শ্রদ্ধেয় পিতা, আপনি স্বপ্ন বাস্তবায়িত করুন, আমি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীনের পথে ধৈর্য্য ধারণ করব।” পিতা যখন পুত্রকে কোরবানীর জন্য শোয়ালেন এবং ধারালো ছুটি পুত্রের গলায় চালালেন তখন আল্লাহ পাকের তরফ থেকে আওয়াজ আসলো হে ইব্রাহিম থামো তুমি তোমার আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানী বাস্তবায়িত করেছে। আল্লাহ তোমার কোরবানী, ত্যাগ ও মনের ইচ্ছাকে কবুল করে নিয়েছেন। অতঃপর নবী ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে একটি বেহেস্তী দুম্বা কোরবানী হয়ে যায়।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি স্বামর্থ থাকা সত্ত্বেও কোরবানী করে না সে যেন ঈদগাহে না আসে (ইবনে মাযাহ)। এই বিধান লালনে রয়েছে সর্বত্র ত্যাগের মহিমা। যেখানে থাকবে না কোন অহমিকা, অহংকার, গর্ব, রিয়া, অভিজাত্য, আমিত্ব, ভোগ বিলাষ, লিপসা। যা হবে সম্পূর্ণ আল্লাহকে রাজি খুশী করানো এবং তাঁর হুকুম পালন একাগ্র হওয়া। লৌকিকতা পরিহার পূর্বক আত্মত্যাগে ব্রতী হওয়া। তাইতো কবি বলেছেন-
নিজ ভিতরের পশুবোধ
আগে করিও দুর।
পরে কর কোরবান শোধ
ছুরি বসিও পশুর।
প্রকৃত পক্ষে মহান স্রষ্টাকে সন্তুষ্ট করার একটি পথ হলো প্রিয় বস্তুকে কোরবানী করা। প্রত্যেক নবীর জীবনের ইতিহাসে ত্যাগের অবদান আছে। দেশের ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাসে, ভালো কিছু অর্জনের ইতিহাসে ত্যাগের ছোঁয়া রয়েছে। ত্যাগই কোরবানী। নিঃসন্দেহে এই কোরবানী একটা মহা পরীক্ষা। সুরা হজ্বে আল্লাহ বলেন, কোরবানীর পশুর রক্ত ও গোসত আল্লাহ খান না, গ্রহণ করেন না। “তিনি দেখতে চান মানুষের মনে ত্যাগের অনুভূতি কতটুকু রয়েছে। “হে নবী আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কোরবানী, আমার জীবন ও মরণ আল্লাহর জন্যই নিবেদিত।” (সুরা আনআম- ১৬২)
প্রকারন্তরের পশুর গলায় ছুরি চালিয়ে জীবন থেকে সমস্ত পশুত্বকে জবাই করা কোরবানীর এক শিক্ষা। বিশ্বাসের অটুট খিলানে কোরবানী নিবন্ধ। ভোগ নয়; ত্যাগের হাত ধরে এগোলে আরশে আসমান বা আল্লাহর সান্নিধ্য মেলে। যে জন প্রাণপ্রিয় ধন সঁপে দেয় আল্লাহর রাস্তায়, সম্পদ ব্যয় করে সু মহানের পথে, দু’ ভূবনে পূণ্য এবং ফজিলত তথা আল্লাহর ঘোষিত পুরস্কার অবধারিত তার জন্য। পৃথিবীতেও শাস্তি এবং ইজ্জত; পরকালে তো অবধারিত সুখের খোশ খবর মহান আল্লাহ দিয়েছেন।
“ভোগ-ভোজনের উর্ধে ত্যাগ, নিষ্ঠা ও পরের উপকারে স্রষ্টা খুশী হন।”
সামনেই ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানীর ঈদ। যথারীতি সরকারী ছুটি থাকবে ক’দিন। সরকার ও বিরোধী দলীয় নেতাদের ঈদ শুভেচ্ছা, বিবৃতি ইত্যাদি থাকবে। “কোরবানীর মত যেন সবাই ত্যাগী বা ত্যাগ স্বীকার করি” ইত্যাদি উপদেশ সম্বলিত বিবৃতি থাকবে। আমাদের শিক্ষা নেওয়ার জন্যই আল্লাহ কোরবানীর ঘটনা পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করেছেন। এ দেশে আমরা ধর্মপ্রাণ লোকেরা কোরবানী থেকে কতটা শিক্ষা নিতে পেরেছি তা বলাই বাহুল্য। কেউ কাউকে এক বিন্দু ছাঁড় দেওয়ার মানসিকতাও আমাদের তৈরী হয়নি। আর রাজনীতির ক্ষেত্রটা এখন ত্যাগের পরিবর্তে ভোগের রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। বিশেষত সব ক্ষমতাসীনের দলের পক্ষে এটা অধিক প্রযোজ্য। জনগণের আমানত নষ্ট, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা ও সহনশীলতার বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।
রাষ্ট্র, সমাজ, দল, ব্যক্তি, পর্যায়ই আমরা কেউ কাউকে ছাঁড় দিতে পারিনা। ত্যাগের গল্প কুরবানী কিংবা বই কিতাবেই সীমাবদ্ধ থাকে। কুরবানী থেকে আমরা কোন শিক্ষা নিতে পেরেছি কিনা প্রচুর সন্দেহ আছে। পরিপার্শিক ও সামাজিক অবক্ষয় দেখে, বিপন্ন মানুষ্যত্ব দেখে ত্যাগের কথা থাক; ভোগ বিলাস ও অনিয়মের দাপটে সভ্যতা নূয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আল্লাহ তায়’লা তার নবীর উপর ত্যাগের পরীক্ষা চালালেন এবং সফলতা দেখে সন্তুষ্ট হলেন। এটি একটি নজরি এবং বনি আদমের জন্য দৃষ্টান্ত হিসাবে স্থাপনের জন্য, ত্যাগের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আল্লাহর নবীর ওপর পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। অতঃপর কোরবানী আমাদের উপর ওয়াজিব করা হল। ১০ জিলহজ্ব তারিখের যেদিন সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ হাজীগণ মিনা প্রান্তরে আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাঁকে খুশী করতে, তার নির্দেশ পালনে কোরবানী করে থাকেন সেদিন সেই সাথে আমরা বিত্তবানেরাও কোরবানী করে থাকি। কিন্তু তা যেন গোস্ত খাওয়া এবং বিলানো কিংবা লোক দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। নিজেকে প্রচার বা জাহির করার চেষ্টা করা না হয়। মূল লক্ষ্য যেন আল্লাহর নির্দেশ পালন ও তার সন্তষ্টি অর্জন করতে পারি এবং প্রকৃত ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হতে পারি। ##

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬