খুলনা | শুক্রবার | ২০ এপ্রিল ২০১৮ | ৭ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

সঙ্গীতশিল্পী আব্দুল জব্বার আর নেই

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ৩১ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:১০:০০

বাংলা গানের কিংবদন্তি, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী, ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত গায়ক আব্দুল জব্বার আর নেই। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। বিএসএমএমইউ’র পরিচালক (হাসপাতাল) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল্লাহ-আল-হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল জব্বারের ছেলে মিথুন জব্বার জানান, তার বাবার মরদেহ কলাবাগানের ভুতের গলির বাসায় নেওয়া হবে। সেখানে নেওয়ার পর সিদ্ধান্ত হবে কোথায় তার বাবার জানাজা ও দাফন হবে। গতকাল বিকেল তিনটার দিকে মরদেহ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয় আব্দুল জব্বারের মরদেহ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। এরপর বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। আব্দুল জব্বারকে কোথায় দাফন করা হবে তা এখনো জানা যায়নি।  
জনপ্রিয় এ কণ্ঠশিল্পী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হার্ট, প্রস্টেট ও ডায়াবেটিসসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি বিএসএমএমইউতে প্রায় তিন মাস ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ১ আগস্ট তাকে বিএসএমএমইউয়ের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
আব্দুল জব্বারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
আব্দুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার গান গাওয়া শুরু ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে। প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য গান করেন তিনি ১৯৬২ সালে। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। চলচ্চিত্রে কণ্ঠ দেন প্রথম ১৯৬৪ সালে। সে বছর জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সংগমের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। এরপর ১৯৬৮ সালে এতটুকু আশা ছবিতে সত্য সাহার সুরে তার গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি বেশ জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৮ সালে সারেং বৌ ছবিতে আলম খানের সুরে তার গাওয়া ‘ও..রে নীল দরিয়া’ গানটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন। তার গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার হারমোনিয়াম নিয়ে কলকাতার বিভিন্ন ক্যাম্পে গিয়ে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুম্বাইয়ে ভারতের প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য জনমত তৈরিতেও নিরলসভাবে কাজ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে সে সময় বিভিন্ন সময় গণসঙ্গীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি দান করেছিলেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

মির্জা ফখরুলের মায়ের ইন্তেকাল

মির্জা ফখরুলের মায়ের ইন্তেকাল

১৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০৮




আ’লীগ নেতা আরিফ টিটোর  ইন্তেকাল : শোক

আ’লীগ নেতা আরিফ টিটোর  ইন্তেকাল : শোক

২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৫


চলে গেলেন ওস্তাদ বাবু রহমান

চলে গেলেন ওস্তাদ বাবু রহমান

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০


কথাসাহিত্যিক শওকত  আলী আর নেই

কথাসাহিত্যিক শওকত  আলী আর নেই

২৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০

পদার্থবিদ জিয়াউদ্দিন আহমাদ আর নেই

পদার্থবিদ জিয়াউদ্দিন আহমাদ আর নেই

২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০




ব্রেকিং নিউজ











অভিযোগ খারিজ 

অভিযোগ খারিজ 

২০ এপ্রিল, ২০১৮ ০১:৪০