খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

ভেজাল মেয়াদোত্তীর্ণ ও যৌন উত্তেজক ওষুধের অবাধ বিকিকিনি

নগরীর অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান

বি. হোসেন | প্রকাশিত ২৭ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:০৭:০০

নগরীর অলিতে গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে সহস্রাধিক ওষুধের দোকান। ওষুধ প্র্রশাসনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কেউ শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আবার কেউ ড্রাগ লাইসেন্স ট্রেড লাইসেন্স কোন ধরণের প্র্রশিক্ষণ ছাড়াই পাড়া-মহল্লায় ফার্মেসী দিয়ে বসে পড়েছেন ওষুধ ব্যবসায়। এসব ফার্মেসী ব্যবসায়ীরা চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই হায়ার এ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিভিন্ন নিম্নমানের যৌন উত্তেজক নানা প্রকার ওষুধ বিক্রি করছে অবাধে। এছাড়া নেই কোন প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক রোগী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর পাঁচ থানায় প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সহস্রাধিক ওষুধের দোকান বা ফার্মেসী। নগরীতে ওষুধের দোকান বা ফার্মেসীর সংখ্যা কত এ নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর, ড্রাগ লাইসেন্স প্র্রদানকারী সংস্থা, কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতি বা সিটি কর্পোরেশন কারও কাছেই সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য নেই। তবে ওষুধ প্র্রশাসনের ওয়েব সাইটের উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী নগরীতে ২৪ আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ফার্মেসীর সংখ্যা ১৪৬৮টি। কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির তথ্য অনুযায়ী ধারণা অনুযায়ী ওষুধ ব্যবসায়ীর সংখ্যা প্র্রায় ৪ হাজার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নামে-বেনামে পাড়া-মহল্লায় ব্যাঙের ছাতার মত তৈরি হওয়া এসব ওষুধের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশি। যার বেশির ভাগেরই নেই ড্রাগ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, বা প্র্রশিক্ষত ফার্মাসিস্ট। অথচ ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৪ নম্বরের ১৩ নম্বর ধারার ‘ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ’ শিরোনামের ২ নম্বর উপ-ধারায় উল্লেখ আছে ‘কোনো খুচরা বিক্রেতা বাংলাদেশ ফার্মেসী কাউন্সিলের কোনো রেজিস্ট্রারের রেজিস্ট্রিভুক্ত ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান ব্যতিরেকে কোনো ড্রাগ বিক্রি করতে পারবে না।’ কিন্তু এসকল বিধি বিধানকে তোয়াক্কা না করে নগরীর অধিকাংশ ফার্মেসী চলছে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই। অল্প পারিশ্রামিকে অদক্ষ লোক বসিয়ে বিক্রি করছে জটিল সব রোগের ওষুধ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনাডাঙ্গা এলাকার এক ওষুধ ব্যবসায়ী সময়ের খবরকে বলেন, লাইসেন্স পাওয়ার জন্য মোটা অংকের ঘুষ দিয়েও ওষুধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দালালদের দ্বারা নানা প্রকার হয়রানির শিকার হতে হয়। তাছাড়া একটি লাইসেন্স নিতে হলে সব শর্ত মানার পরেও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। ফলে মানহীন ভুল ওষুধ যেমন বিক্রি হয়, তেমনি এসব ওষুধ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হন  ক্রেতারা। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হননি এমন অনেকেই ফার্মেসীতে চাকুরি করছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অন্তত দশটি ফার্মেসীতে যারা চাকুরী করেন মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হননি। বয়স ১৮’র নীচে। অনেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রও পড়তে পারেন না। ওষুধের নামের আধ্যাক্ষর দেখে অনুমান করে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগও আছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় ভুল ওষুধও বিক্রি হয়ে যায়। নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার বয়রা ক্রস রোডে এক রোডেই ৭ টা ওষুধের দোকান যারা প্র্রত্যেকেই এক একজন ডাক্তার সেজে বসে আছেন এখানে। সকল রোগের চিকিৎসার নামে প্র্রতারণা করছেন সাধারণ রোগীদের সাথে। কোন রেজিস্ট্রার্ড ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ব্যতিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিলিন, এজিথ্রোমাইসনসহ অনেক হাই এ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের বড়ি, ব্যথা নাশক ও নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট অবলীলায় বিক্রি করছে। এছাড়াও প্রকাশ্যে মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধ।
সম্প্র্রতি ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান নিজস্ব ওয়েব সাইটে এক প্র্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ওষুধ কোনো ফার্মেসীতে পাওয়া গেলে সেটি বন্ধ করে দেয়া হবে। নগরীর ফুলবাড়ীগেট জনতা মার্কেট, দৌলতপুুর, খালিশপুর নয়াবাটি মোড়ে, বয়রা বাজার, টুটপাড়ার বিভিন্ন অলিগলিতে লাইসেন্সবিহীন এসব ওষুধের দোকান।  
জানা গেছে, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে ভালোমানের ওষুধের চেয়ে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশী কমিশন দেয়া হচ্ছে। এতে করে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে এসব ওষুধ ব্যবসায়ীরা। নগরীর অবৈধ ফার্মেসীগুলো সাধারণ মানুষের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অপেক্ষাকৃত কমমূল্যের ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বেশি মূল্যে বিক্রি করছে, যা রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে উল্টো নানা উপসর্গের সৃষ্টি করছে। কেমিস্ট এন্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপ্রতি ও খুলনার সভাপতি মোঃ মোজাম্মেল হক সময়ের খবরকে বলেন এই সংগঠনের সদস্য হতে হলে ড্রাগ লাইসেন্স ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর দাখিলের সনদসহ ফার্মেসীর সার্টিফিকেট প্র্রয়োজন হয়। সংগঠনের বাইরে অন্তত ৬ গুণ ওষুধের দোকান রয়েছে যাদের ওষুধ প্র্রশাসনের নির্ধারিত নিয়মে প্র্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। এরাই ভেজাল নিম্নমানের মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের সাথে জড়িত। সরকারি হাসপাতালের বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ এসব দোকানের মাধ্যমেই প্র্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের হাতে চলে যায়। প্র্রশাসনে এসব অবৈধ ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা উচিত। বিশেষ করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও জোরদার করা উচিত এসব অবৈধ দোকানের বিরুদ্ধে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর খুলনার ড্রাগ সুপার মোঃ মাসুদুজ্জামান খান সময়ের খবরকে বলেন ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ নিম্নমানের ওষুধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অলিগলিতে এসব ব্যবসায়ীরা যাতে মানুষের সাথে প্রতারণা করতে না পারে সে জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরো বেশি করে পরিচালিত হচ্ছে। সকল ওষুধ ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স ও যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়েই নিয়ম মেনে বৈধভাবে ব্যবসা করতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো!

নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো!

০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:১০



‘ভক্তিতে মুক্তি’ মনোভাবই মূলমন্ত্র

‘ভক্তিতে মুক্তি’ মনোভাবই মূলমন্ত্র

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩০





কোকেন চোরাচালানে কারা জড়িত?

কোকেন চোরাচালানে কারা জড়িত?

১৮ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০



ব্রেকিং নিউজ