খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

করোনেশনে চালু হলেও এক মাসেই বন্ধ!

অর্থের অভাবে চালু হচ্ছে না স্কুলের স্বপ্নের ‘সততা স্টোর’

এমএ কবির মুন্সী | প্রকাশিত ২৫ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:২৩:০০

সৎ মানুষ গড়ার লক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সততার শিক্ষা দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ খোলাসহ নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে তা চালু হচ্ছে না। অপর দিকে নগরীর সরকারি করোনেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে চালু হলেও তা এক মাসেই বন্ধ হয়ে গেছে।
সৎ মানুষ গড়ার লক্ষে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সততা স্টোর’ করার উদ্যোগ গ্রহণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠিত এই স্টোরে থাকবে খাতা, কলম, পেন্সিল, ই রেজার, স্কেল, জ্যামিতি বক্স, রং পেন্সিলসহ শিক্ষা সামগ্রী এবং চিপস, বিস্কুটসহ খাবার ক্রেতা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। থাকবেনা বিক্রেতা। এ ছাড়া দোকান পরিচালনা কমিটির অনুমোদনক্রমে অন্যান্য পণ্যও রাখা হবে। সব পণ্যের দাম হবে বাজার মূল্যের সমান। ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পণ্য নিয়ে নির্দিষ্ট বক্সে টাকা জমা দেবে। দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করবে পরিচালনা পর্ষদ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে দোকানের জন্য প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহ করে বিনিয়োগ করবে। যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা পর্ষদ নেই, সেখানে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত তিনজন শিক্ষককে নিয়ে গঠিত কমিটি তা পরিচালনা করবে। এ কমিটি সততা স্টোরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারক করবে। ওই কমিটি মাসে অন্তত একবার বৈঠক করে হিসাব যাচাই ও ক্রয়যোগ্য সামগ্রীর তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ স্টোর পরিচালনা কমিটির কাছে দেবে। এই উদ্যোগকে কার্যকর করতে দুদুক প্রতিটি উপজেলায় একটি বালক একটি বালিকা বিদ্যালয়ে আর্থিক সহায়তাও দেয়ারও ঘোষণা দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত খুলনাতে একটি স্কুল ছাড়া আর কোথাও চালু হয়নি এই স্টোর। গত মাসে নগরীর সরকারি  করোনেশন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে চালু  হওয়া  সততা স্টোরে সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন না খোলায় ‘সততা স্টোর’টির ভিতরে মাকড়সার জাল, নিচে ময়লা পড়ে আছে। ছাত্রীদের মাঝে সাড়া মিলেছিল স্টোরটি। সরকারি করোনেশন স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্রী ভূমিকা মল্লিক ১ম দিনেই ৬০ টাকার পণ্য কিনেছিল সততা স্টোর থেকে। ভূমিকা জানায়, নিজের সততার প্রমাণ দিতে খুব ভালো লেগেছিল। তবে স্টোরটি বন্ধ হওয়ায় ভূমিকার মত অনেকেরই মন খারাপ।
সরকারি করোনেশন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ইদ্রিস আলী আজিজী বলেন, আমি নতুন এসেছি, তবে এসেই সকলের সাথে কথা বলে জেনেছি। টিফিনে সকলেই এক সাথে সততার স্টোরটিতে ঢুকার কারনে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এ ছাড়া অর্থের বিষয় তো আছে। এ জন্য আমাদের স্কুলে একটি কমিটিও করা হয়েছে। এবং আমরা ছাত্রীদের জন্য রুটিন করে দিব। কবে কোন শ্রেণী সততা স্টোরে ঢুকবে। একাধিক অভিভাবক বলেন, ‘সততা স্টোর’ ভালো উদ্যোগ, এটি চালু থাকলে জীবনের শুরুতেই সন্তানেরা সৎ ও নিষ্ঠাবান হয়ে উঠবে। শিক্ষকরা চাইলে সকল বাধা মিটিয়ে সব স্কুলে চালু করতে পারেন সততা স্টোর।খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক রিজাউল করিম বলেন, ‘সততা স্টোর’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটা চিঠি পেয়েছি, তবে কি লেখা আছে পড়ে জানাতে হবে।
খুলনা সিটি গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক শাহ জিয়াউর রহমান স্বাধীন বলেন, তিনবার জেলা শিক্ষা অফিস থেকে খুলনার প্রতিটি স্কুলে সততার স্টোরসহ ১৭টি নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দিয়েছে।  আমি এখনও শুরু করিনি, খুব শিগগিরই শুরু করবো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রধান শিক্ষক  বলেন, গত ১৭ আগস্ট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়-সততা স্টোরের টাকা স্কুল ফান্ড থেকে দেয়া হবে। কিন্তু আমাদের স্কুল ফান্ড থেকে এক টাকা খরচ করতে হলে গভর্নিং বোডির অনুমিত নেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু দুদক, ডিসি বা জেলা শিক্ষা অফিস কেউই গভর্নিং বোর্ডের সাথে কোন মিটিং বা এ বিষয় কোন দিক নির্দেশনা না দেয়ায় সততা স্টোর প্রতিষ্ঠা অর্থের অভাবে হচ্ছে না বলে তিনি জানান। তবে কিছু কিছু স্কুল শিক্ষার্থীদের থেকে টাকা তুলে সততা স্টোর তৈরি করছে।
অপর দিকে জেলা  উচ্চ মাধ্যমিক  (সদর) শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন সদরের সকল স্কুলে পর্যায়ক্রমে সততা স্টোর চালুর  উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানান। সোনাডাঙ্গা পল্লীমঙ্গল রহমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, স্কুলে সততা স্টোর ভালো দিক। তবে এ টাকা কোথা থেকে আসবে। তার কোন সঠিক নির্দেশনা পাইনি। এর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিটি স্কুলে টাকা বরাদ্দ দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রমেন্দ্র নাথ পোদ্দার বলেন, খুলনায় এক হাজার ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আমরা সকল স্কুলে ১৭টি নীতিমালা উল্লেখ্য করে চিঠি দিয়েছি। এর মধ্যে শুধু সততা স্টোর বাদে যে কাজগুলো অর্থ ছাড়া পরিচালনা করা যায়। ওই কাজগুলো আগে করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। দুদক পরিচালক মোঃ আবুল হোসাইন বলেন, খুলনার প্রতিটি উপজেলায় মডেল হিসেবে একটি স্কুলে আমাদের খরচে সততার স্টোর স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এ জন্য আমরা স্কুলগুলোকে অনুদান হিসেবে ১৫ হাজার ৮০০ টাকা দেয়া হবে বলে তিনি জানান। এ লক্ষে নগরীর জিলা স্কুল কে বেছে নেয়া হয়েছে। করোনেশন স্কুলে কিছুদিন আগে সততা স্টোর উদ্বোধন করেছি। তবে এত অল্প সময়ের মধ্যে কেন এ স্কুলটির সততার স্টোর বন্ধ হলো আমার জানা নেই।
জেলা প্রশাসক আমিন উল আহসান বলেন, আমরা পর্যায়েক্রমে সব স্কুলে শুরু করবো। এ বিষয় প্রতিটি স্কুলে টিঠি দেয়া হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে পিছিয়ে পড়ছি।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো!

নগরীর সিসি ক্যামেরাগুলো অকেজো!

০৫ অক্টোবর, ২০১৭ ০২:১০



‘ভক্তিতে মুক্তি’ মনোভাবই মূলমন্ত্র

‘ভক্তিতে মুক্তি’ মনোভাবই মূলমন্ত্র

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০১:৩০





কোকেন চোরাচালানে কারা জড়িত?

কোকেন চোরাচালানে কারা জড়িত?

১৮ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০



ব্রেকিং নিউজ