খুলনা | সোমবার | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৭ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ চুরির সিন্ডিকেট বেপরোয়া

আবু নাসেরের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে রাঘব বোয়ালরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:০৫:০০

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ চুরি সিন্ডিকেট বেপরোয়া। সম্প্রতি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে একাধিক ঘটনা সামনে আসে। সাধারণ ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার ও আউট ডোর থেকে শর্ট স্লিপের মাধ্যমে প্রতিদিন পাচার হয় লক্ষাধিক টাকার সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ। আর এতে ফ্রি সার্ভিস কর্মী, ওয়ার্ড বয়, নার্সিং ওয়ার্ড ইনচার্জ, স্টোর কিপার আর কিছু অসাধু ডাক্তারদের সিন্ডিকেট জড়িত বলে জানিয়েছেন সংশ্লি¬ষ্টরা। এদিকে গত সোমবার ৩০ হাজার পিস সরকারি ওষুধসহ গ্রেফতার ফার্মাসিস্ট দেবপ্রসাদ (৪৫), তার শ্যালক দিপংকর সানা ও হেরাজ মার্কেটের ইমা ড্রাগস-এর মালিক শেখ রকিবুল আবেদিন (৩২)-কে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় ঘুষের সাড়ে নয় লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। দুদকের তালিকাভুক্ত অপরাধ হওয়ায় মামলা দুদকে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে আতঙ্কে রয়েছেন ওষুধ চুরির সিন্ডিকেটের মূল হোতারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট সকালে রোগীদের ওষুধ চুরিসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়াডের আয়া আফিয়া খাতুনকে অন্য ওয়ার্ডে বদলী করে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ। একই দিন রাত ১২টার পর তিনি এক ঝটিকা সফরে ঐ ওয়ার্ডে গেলে বদলীকৃত আয়া আফিয়াকে ঐ ওয়ার্ডে দেখতে পান। বদলীর পরও একই স্থানে থাকার কারণ জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তার ব্যাগ তল্ল¬াশী চালিয়ে হাজার টাকার সরকারি বিক্রয় নিষিদ্ধ ওষুধ জব্দ করেন সুপার। পরে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ তাকে আটক করলেও মুচলেকা দিয়ে রাতেই ছাড়া পান তিনি।
শর্ট স্লি¬পের মাধ্যমে ওষুধ চুরি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওপেন সিক্রেট। ফ্রি সার্ভিস কর্মচারীরা এসব ওষুধ চুরির সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত বললেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ার্ড বয়। হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে রোগীর স্বজনদের দিয়ে প্রয়োজনের কয়েকগুণ ওষুধ ক্রয় করানোর রয়েছে অভিযোগ। ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জরা এসব নিয়ন্ত্রণ করত।
বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইনচার্জদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও নাসিং ও মিডওয়াাইফারির নির্দেশ পালনে সকল ওয়ার্ডের ইনচার্জদের পরিবর্তন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে নার্সনেত্রীদের তোপের মুখে পড়ে বর্তমান সুপার।
খুলনা মেডিকেল কলেজের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মোর্শেদ বলেন আগে আউট ডোরে শর্ট স্লি¬পের মাধ্যমে ওষুধ চুরি ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের ওষুধ চুরির বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ওষুধ চুরিসহ হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব আবু নাসের হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ ওহিদুজ্জামান  বলেন আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এছাড়া তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা প্রদান করা হবে।

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


ইরানে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত ৬৬ আরোহী নিহত

ইরানে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত ৬৬ আরোহী নিহত

১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫৩



ইরানে ৬৬ আরোহীবাহী প্লেন বিধ্বস্ত

ইরানে ৬৬ আরোহীবাহী প্লেন বিধ্বস্ত

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:০১





চলে গেলেন রাঙ্গুনিয়ার সেই সাবেক এমপি

চলে গেলেন রাঙ্গুনিয়ার সেই সাবেক এমপি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১২:৩১




ব্রেকিং নিউজ