খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

পড়তে অনীহা-মাঠ বিমুখ শিক্ষার্থীরা

‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ বিষয় পাঠদানে থাকলেও পরীক্ষায় নেই

আব্দুল্লাহ এম রুবেল | প্রকাশিত ২২ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০:০০

মাধ্যমিক পর্যায়ে ‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ বিষয়ে বইটি পাঠদানে থাকলেও নেই পরীক্ষা কিম্বা নম্বর। ক্লাস করলে অথবা না করলে পরীক্ষার ফলাফলে কোন ধরনের প্রভাব নেই। আর তাই বইটি পড়তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা সৃষ্টি হয়েছে। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে খেলার মাঠে। শিক্ষার্থীদের মাঠ বিমুখ হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অপতৎপরতায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবক-শিক্ষকরা। বিষয়টিকে পুনরায় জেএসসি ও এসসি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি আদায়ে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া শিক্ষকরা। তবে পাবলিক পরীক্ষায় বাদ দিলেও বিষয়টি এখনও সমান গুরুত্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক ফারহানা হক।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত শারীরিক শিক্ষা বিষয়টি চালু করে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত বইটির নাম ছিলো ‘শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য’ এবং ৯ম শ্রেণীর বইটির নাম ছিলো ‘শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা’। পরপর তিন বছর এ বিষয়টির উপর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ১০০ মার্কের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। গত তিন বছর মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ ছিলো উল্লেখযোগ্য। ক্রীড়া শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষায় ১০০ মার্ক থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হলেও এ সময়টাতে খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ করতো। কিন্তু ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টির উপর পরীক্ষা বাতিল করে। শুধুমাত্র ক্লাসে পাঠদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। অর্থাৎ বিষয়টি ক্লাসে পড়ানো হলেও কোন নম্বর নেই। পরীক্ষা থেকে বাতিল হওয়ার পর, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় অংশ গ্রহণ উল্লেখ জনক হারে হ্রাস পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে করে শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ মানসিক বিকাশ ঘটছে না। শিক্ষার্থীরা মাঠমুখী না হলে মাদকসহ বিভিন্ন ধরনের বাজে অভ্যাসে নিজেদের জড়িয়ে পড়ার শঙ্কা করছেন তারা। এদিকে বিষয়টি পুনরায় জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির ব্যানারে আন্দোলনে নেমেছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া শিক্ষকবৃন্দ। এসব দাবিতে গত ৮ আগস্ট খুলনা জিলা স্কুলের সামনে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার উপ-পরিচালক এবং শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক বরাবর এসব দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করবে।
শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির খুলনার সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা নৌ-বাহিনী স্কুল এ্যান্ড কলেজের ক্রীড়া শিক্ষক জিএম আব্দুল্লাহ বলেন, বিষয়টি তুলে দেয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা এখন মাঠমুখী হচ্ছে না। আগে বাধ্য হয়েও মাঠে আসতো। আমরা বিষয়টিকে পুনরায় জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। সরকার আমাদের দাবি না মানলে আমরা প্রয়োজনে আরও বড় ধরনের আন্দোলন করবো।
শারীরিক শিক্ষাবিদ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বইটির অন্যতম লেখক আবু মোহাম্মদ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলাবোধ ও পাঠের একঘেঁয়েমি দূর করে পড়াশোনায় তাদের মনোযোগী করে তুলে শারীরিক শিক্ষা। তাই মাধ্যমিক শিক্ষায় শারীরিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিক চোখে এর খুব একটা ক্ষতিকর প্রভাব দেখা না দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হবে দেশের ভবিষ্যৎ জাতি গঠনে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন খেলাধুলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দল গঠন করতে পারবে না। আশঙ্কা করা যাচ্ছে ভবিষ্যতে হয়তো শারীরিক শিক্ষার শিক্ষকদেরও বাদ দেয়া হতে পারে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ছয়টি সরকারি ও ১৭টি বেসরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে কয়েক হাজার শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক আছেন। এ সুপারিশ চালু হলে পর্যায়ক্রমে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শারীরিক শিক্ষা তথা খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা থাকা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের মন ভালো থাকে ও শিক্ষার প্রতি মনোযোগ বাড়ে। তাই ক্রীড়া প্রতিভার সুতিকাগার হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষায় শারীরিক শিক্ষাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।
খুলনা জিলা স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ফারহান হাসান স্বর্ণের পিতা হাসান মুকুল জহির পরীক্ষায় এ বিষয়টি বাদ দেওয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঠমুখী করা না গেলে তারা পরিপূর্ণ মানুষ হবে না। এ প্লাস পাওয়া আর শিক্ষিত হওয়া এক কথা নয়। খেলাধুলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িতরা সহজে খারাপ বা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়ায় না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। আমার ধারনা তার অজান্তেই এটা হয়েছে। তিনি পুনরায় বিষয়টিকে জেএসসি ও এসসি পরীক্ষায় অন্তভুক্ত করার দাবি করেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ফারহানা হক অবশ্য দাবি করেন বিষয়টির গুরুত্ব কোন অংশে কমেনি। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার বোঝা কমানোর জন্য সরকার এটি চালু করেছে। তবে আগের মতোই দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমান গুরুত্বের সাথে বিষয়টি পড়ানো হয়। যারা আন্দোলন করছে তাদের দাবি অযৌক্তিক। এর আগে যখন বিষয়টি চালু ছিল তখন কি তারা শিক্ষার্থীদের অপতৎপরতা কমাতে পেরেছেন বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১৫








পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫৯




ব্রেকিং নিউজ