খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ অক্টোবর ২০১৭ | ৩ কার্তিক ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

শিগগিরই কমিটি : কাদের ভূঁইয়া জুয়েল

আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই সাত বছর চলছে খুলনা নগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল

মোহাম্মদ মিলন | প্রকাশিত ১৯ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০:০০

দীর্ঘ সাত বছর অতিবাহিত হয়েছে খুলনা মহানগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটি। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটি দু’টি এখনও পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। তবে নেতারা বলছেন বিগত আন্দোলন, নির্বাচন ও সংগঠনের সমন্বয়হীনতার কারণেই সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নজর এখন নগর বিএনপি’র কমিটির দিকে। অনেকেই বিএনপি’র কমিটিতে আসতে চায়। সব মিলিয়ে সংগঠনটির কার্যক্রম ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তবে দ্রুত কেন্দ্র থেকে কমিটি গঠন করা হবে। এমনটাই জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
সংগঠনের নেতারা জানায়, ২০১০ সালের জুন মাসে কেন্দ্র থেকে নগর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এ সময় নগরে আজিজুল হাসান দুলুকে আহ্বায়ক ও জামাল হোসেন তালুকদারকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কসহ ১১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। এ কমিটি পরবর্তীতে ৭১ সদস্যে উন্নীত করা হয়। কমিটির দু’জন যুগ্ম-আহ্বায়ক এমরান হোসেন পরান ও মোস্তফা আরিফ সিদ্দিকী শুভ মারা গেছেন। নগরের আহ্বায়ক এবং সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়কের সমন্বয়হীনতার কারণে বিভিন্ন স্থানে পৃথক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই কারণে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করাও সম্ভব হয়নি বলে তৃণমূলের অভিযোগ। তবে নেতারা বলছেন, আন্দোলন সংগ্রাম ও নির্বাচনসহ নানা জটিলতার কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি।  
অন্যদিকে জেলা শাখার এমরানুল কবির নাসিমকে আহ্বায়ক ও তৈয়্যবুর রহমানকে সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৭ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে কমিটি বৃদ্ধি করে ৭১ সদস্য করা হয়। জেলার ৭টি থানার আহ্বায়ক কমিটি ও দু’টি থানার কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন কেন্দ্রে নগর ও জেলা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সর্বশেষ, গত ৩ এপ্রিল ঢাকায় খুলনার নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা বৈঠক করে। সেখানে জেলা ও নগর কমিটির সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে বৈঠকে অংশ নেয়া নেতারা জানিয়েছেন।   
নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আজিজুল হাসান দুলু বলেন, কেন্দ্র থেকে ১১ সদস্যের আংশিক আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এটি এখন ৭১ সদস্যের কমিটি। এ কমিটির দু’জন যুগ্ম-আহ্বায়ক মৃত্যুবরণ করেছে। কমিটি গঠনের পরে কয়েক দফা সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন, হামলা-মামলা নির্যাতনের কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। নগরের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেও তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে মহানগরীর সবগুলো থানায় আহ্বায়ক কমিটি এবং ওয়ার্ডে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে বৈঠক হয়। বৈঠকে নতুন করে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নয়, এখন আমি বিএনপি করতে চায়।
নগরের যুগ্ম-আহ্বায়ক জামাল হোসেন তালুকদার বলেন, ২০১০ সালের জুন মাসে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের পর কয়েক দফা সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়। কিন্তু সমন্বয়হীনতার কারণে দীর্ঘ আট বছর সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিন খালিশপুর, দৌলতপুর ও সোনাডাঙ্গা থানায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি বাদেও আহ্বায়কের পক্ষ থেকে থানায় আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। মূলতঃ সমন্বয়হীনতার কারণেই এ পৃথক কমিটি গঠন। এখন কেন্দ্রে কমিটি গঠনের জন্য ২/৩টি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কমিটি গঠনের বিষয়ে কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নেবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোঃ এমরানুল কবির নাসিম বলেন, বেশ কয়েকবার সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও করা সম্ভব হয়নি। বিগত আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছি। সংগঠনকে গতিশীল করতে কর্মসূচি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করা হয়েছে। এখন বিএনপি করতে চায়। শুনেছি কেন্দ্র থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হবে। যে কারণে সাহসি ও ত্যাগী নেতাদের নাম কেন্দ্রে প্রস্তাব করা হয়েছে। তাদের কমিটিতে রাখা হলে কমিটি চাঙ্গা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনা ছিলো আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের দলের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাখতে। কিন্তু বিগত মামলা-নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়েও বিএনপি’র দায়িত্বশীল কোন স্থানে আসতে পারেনি। অথচ আন্দোলনের সময়ে বেড়াতে যাওয়া, ফেসবুকে পোস্ট দেয়া ও মিটিং মিছিলে না থাকা এমন নেতারা দলের দায়িত্বশীল পদ পেয়েছেন।     
জেলার যুগ্ম-আহ্বায়ক তৈয়্যবুর রহমান বলেন, ২০১০ সালের জুন মাসে ৭ সদস্যের জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয় কেন্দ্র। কমিটি পরবর্তীতে ৭১ সদস্যে উন্নীত করা হয়। ৭টি থানায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে। এছাড়া কয়রা পাইকগাছায় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর আন্দোলনসহ নানা জটিলতার কারণে কমিটি সম্মেলন করা হয়নি। তবে কেন্দ্র থেকে যে কোন মুহূর্তে কমিটি ঘোষনা করা হতে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল এ প্রতিবেদককে জানান, খুলনায় কমিটি গঠনের জন্য বিএনপি ও সংগঠনের নেতাদের সাথে আলোচনা করা হচ্ছে। খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর ও জেলা কমিটি গঠন করা হবে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ