খুলনা | সোমবার | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনার স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসে শুভঙ্করের ফাঁকি!

বি. হোসেন | প্রকাশিত ১৯ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:১০:০০

প্রত্যেকটি স্কুলের প্রতিদিন অন্তত দুু’টি ক্লাস মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে নিয়ে শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন পাঠানোর বিধান রয়েছে। অথচ খুলনার ৯০ শতাংশ স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়া হয় না। অল্প সংখ্যক শিক্ষক ক্লাস নিলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে তা মানসম্মত হয় না। আর ক্লাস হয় না তবে প্রতিবেদন প্রেরণের কথা স্বীকার করে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন সরকারি ল্যাপটপ প্রজেক্টর অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে মিথ্যা রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন তারা। এদিকে মিথ্যা রিপোর্ট পাঠিয়ে বেতন ভাতা সচল রাখলেও প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
খুলনার নয় উপজেলার ৫০টি স্কুলের প্রধান ও অন্তত ৪০ শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে উঠে এসেছে খুলনার এ হালচিত্র। শহরের স্কুলগুলোতে মাঝে মাঝে কিছু ক্লাস হলেও গ্রামঞ্চলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার জানালেন যেভাবে রিপোর্ট পাঠানো হয় কিন্তু সেভাবে কেউ ক্লাস নিতে পারেন না। আমরাও পারি না। তবে আমাদের এখানে কয়েকটা বিষয়ে মাঝে মধ্যে ক্লাস হয়। তিনজন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বাংলা, ইংরেজি ও আইসিটি বিষয়ে তারাই মাঝে মাঝে ক্লাস নেয়।
উপজেলার আমাদি জাগিরমল তাকিমউদ্দিন সেকেন্ডারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক উৎপল কুমার সানা, হারিতয়ারডাঙ্গা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিকাশ বরণ সরকার, বেদকাশী কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ জানালেন স্কুলে ল্যাপটপ প্রজেক্টরই নেই। সরকার যখন এগুলো বিতরণ করেছিলেন, তখন স্কুলে বিদ্যুৎ না থাকায় তারা পাননি। তাই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হয় না এখানে।
দাকোপ উপজেলার আবুল হোসেন গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক তিন্ময় কুমার বিশ্বাস, আমতলা বানিশান্তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার হালদার, বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিত কুমার মন্ডল জানিয়েছে তাদের কোন স্কুলে ল্যাপটপ ভালো নেই। নিজস্ব ল্যাপটপে বিভিন্ন সময়ে ক্লাস নেয় কোন কোন শিক্ষক। উপজেলা পর্যায়ে ও খুলনায় গিয়ে কম্পিউটার শিক্ষকগণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করার কারণে তারাই মাঝে মাঝে ক্লাস নিয়ে থাকেন।
একই হাল রয়েছে দিঘলিয়ার এপেক্স গার্লস স্কুল, বারাকপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজী ইসমাইল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্টার জুট মিলস্ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও।
রূপসা উপজেলার প্রায় সব স্কুলের ল্যাপটপ প্রজেক্টর নষ্ট শুধুমাত্র বেলফুলিয়া ইসলামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি প্রজেক্টর কিনে নিলেও বেশিরভাগ স্কুলেই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না। আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জেবিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাদিজা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ প্রজেক্টর নষ্ট হয়েছে অনেক আগে। জেবিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল্ল¬াহেল বাকী বলেন ল্যাপটপ প্রজেক্টর অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে, তাই ক্লাসও নিতে পারি না। রিপোর্টও পাঠানো হয় না।
তেরখাদার এএফএম আব্দুল জলিল হাই স্কুল, কুশলা হাই স্কুল, বিআরবি হাইস্কুলের ল্যাপটপ প্রজেক্টর নষ্ট। ক্লাস হয় না মাল্টিমিডিয়া। পাইকগাছার সকল স্কুলগুলোতেও ল্যাপটপ প্রজেক্টর ব্যবহার অনুপযোগী। উপজেলার বিকেএএসএম ইনস্টিটিউউশন, কুমারখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাইকগাছা ভিলেজ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এ চিত্র।
ডুমুরিয়ার মিকশিমিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিরুল ইসলাম হালদার, ডুমুরিয়া গভমেন্ট গালর্স হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক চুকনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিনাথ কুন্ডু জানালেন ল্যাপটপ প্রজেক্টর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে ক্লাস নিতে পারছে না। শহরের মধ্যে স্কুলগুলো গ্রামের চেয়ে কিছুটা ভালো অবস্থানে থাকলেও এসব স্কুলে আইসিটি বিষয় ছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাস হয় না বললেই চলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নগরীর সরকারি জিলা স্কুল, করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্কুলে ক্লাস হয় মাল্টিমিডিয়ার।
জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আরিফুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়া হচ্ছে। সরকারি ল্যাপটপের পাশাপাশি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ল্যাপটপও ব্যবহার করা হয়।
খুলনা মডেল স্কুল এন্ড কলেজে ব্যক্তিগত ল্যাপটপ প্রজেক্টর দিয়ে সঠিকভাবে ক্লাস পরিচালনা করা হয় বলে জানালেন অধ্যক্ষ মোঃ হারুনুর রশীদ। মডেল স্কুলের ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিম বলেন স্কুলে নিয়মিত দু-একটি ক্লাস মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করেন স্যাররা।
তবে নগরীর কয়েকটি স্কুলের একাধিক সহকারী শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন বরাদ্দ পাওয়া সরকারি ল্যাপটপ স্কুল সময়ের বাইরে হেড স্যাররা বাড়িতে নিয়ে যায়। অনেক সময় তাদের ছেলে-মেয়েরা এগুলোতে ভিডিওগেম খেলে নষ্ট করে। প্রধান শিক্ষক হওয়ায় এসব বিষয়ে মুখ খোলেন না কেউ।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খোন্দকার মোঃ রুহুল আমিন সময়ের খবরকে বলেন প্রতিটি স্কুলে অন্তত দু’টি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেয়ার কথা। কোন সমস্যা হলে সরকারিভাবে না হলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ল্যাপটপ প্রজেক্টর মেরামত করে ক্লাস পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। ক্লাস না করিয়ে রিপোর্ট পাঠানো ক্ষেত্রে তদন্তে প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ






এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১৫








ব্রেকিং নিউজ