খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলায় অগ্রণী ব্যাংকের ১৯ শাখায় লোকসান

মাসে গড়ে দুই লাখ : বছরে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০১৭ ০২:০৫:০০

দক্ষিণ অঞ্চলের ৬ জেলায় অগ্রণী ব্যাংকের ১৯টি শাখাকে লোকসান গুণতে হচ্ছে। প্রতি শাখায় ওলাকসানের পরিমাণ মাসে গড়ে দুই লাখ টাকা। বছরে শাখাগুলোকে ৩ কোটি ৮৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। ২০১৬ সালে অঞ্চলের ৩১টি শাখা লোকসানী ছিল। সে সময় বছরে লোকসানের পরিমাণ দশ কোটি টাকা। পাট ব্যবসায়ীরা ঋণের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ, হিমায়িত খাদ্য প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের বকেয়া, ঋণ দেওয়ার সুযোগ কম, অফিসার কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি এবং শ্রেণীভুক্ত ঋণের সুদ না আসায় শাখাগুলোকে লোকসান গুণতে হচ্ছে।
প্রধান কার্যালয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ব্যাংকের খুলনা সার্কেলের সহকারী ব্যবস্থাপকের পাঠানে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। রাজনীতিকদের সুপারিশ ও তদবিরের কারণে অনেক স্থানে ব্যাংকের শাখা খোলা হয়েছে। সেখানে বাণিজ্যিক মোকাম নেই। ঋণ গ্রহিতাদের পরিমাণ কম। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পেঙ্গুইন নামে একটি হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বড় অংকের ঋণ নিয়ে মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছে। যশোরের নওয়াপাড়ায় সার ব্যবসায়িরা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছে না। খুলনার দৌলতপুরে কাঁচা পাট রফতানিকারকরা ২০১২-১৩ অর্থবছরে বড় অংকের টাকা লোকসান দিয়ে মূলধন হারিয়েছে। নওয়াপাড়ার সার ব্যবসায়ী ও দৌলতপুরের পাট রফতানিকারদের কাছে ব্যাংকের বকেয়া পরিমাণ ১শ’ কোটির টাকার উপরে।
সূত্র জানায় লোকসানী শাখাগুলো হচ্ছে মহানগরীর দৌলতপুর, নড়াইলের সদর, রতডাঙা, ভাঙ্গুড়া, কলাবাড়ীয়া ও আউলিয়া, কুষ্টিয়ার সদর, মজমপুর, স্টেশন রোড ও পাটিকাবাড়ী,  ঝিনাইদহের বাজার গোপালপুর, কোটচাঁদপুর, শ্রীপুর, আড়পাড়া ও মহম্মদপুর, বাগেরহাটের গোয়ালমাঠ ও মুনিগঞ্জ এবং সাতক্ষীরার সদর। লোকসানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নগরীর দৌলতপুর শাখা। এখানে বছরে লোকসানের পরিমাণ ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা। দ্বিতীয় অবস্থান কুষ্টিয়ার সদর শাখা, এখানে লোকসানের পরিমাণ ২৪ লাখ ৬ হাজার টাকা।
অগ্রণী ব্যাংক খুলনা সার্কেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক আব্দুল আজিজ জানান, লোকসানী শাখাগুলোকে লাভে আনার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শাখাকে নতুন নতুন প্রকল্পে ঋণ দিতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের খোঁজা হচ্ছে।
ব্যাংকের অপর একটি সূত্র জানায়, তিন বছর আগে দৌলতপুর থেকে পাট রফতানিতে ধস নামায় লোকসান টানতে গিয়ে পাট রফতানিকারকরা হিমশিম খাচ্ছে। দৌলতপুর শাখা মূলতঃ কাঁচা পাট রফতানি কেন্দ্রীক। রফতানিকারকরা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় এ শাখাকে কয়েক বছর ধরে লোকসান গুণতে হচ্ছে। উল্লেখ্য, খুলনা অঞ্চলে ব্যাংকের ১৩৫টি শাখার মাধ্যমে লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫