খুলনা | রবিবার | ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ | ৬ ফাল্গুন ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের খুঁজছে টাস্কফোর্স

এড. অচিন্ত্য কুমার দাস | প্রকাশিত ১৫ অগাস্ট, ২০১৭ ০০:১৫:০০

সর্বকালের সর্বশেষ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিদের খুঁজছে টাস্কফোর্স। তাদেরকে শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সকল ধরণের চেষ্টা করছে সরকার। খুনিদের গ্রেফতার করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি গ্রেফতারকৃত ও কারাবন্দী ৫ খুনির ফাঁসির রায় কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর করা হয়েছে। এক খুনি পলাতক অবস্থায় বিদেশের মাটিতে মারা গেছে।
জীবিত ৬ খুনির মধ্যে যে দুইজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে তারা হলো লেঃ কর্নেল (অবঃ) এইচএমবি নুরুল চৌধুরী কানাডায় ও লেঃ কর্নেল (অবঃ) এমএ রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় রয়েছে বলে জানা গেছে। পলাতক অন্য খুনিরা হলো, লেঃ কর্নেল (অবঃ) শরীফুল হক ডালিম, লেঃ কর্নেল (অবঃ) খন্দকার আব্দুর রশীদ, ক্যাপ্টেন (অবঃ) আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন। এ সকল খুনিরা বার বার অবস্থান পরিবর্তন করছে। এরপরও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সদস্যরা তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া লেঃ কর্নেল (অবঃ) আজিজ পাশা জিম্বাবুইয়ে পলাতক অবস্থায় মারা গেছে।
২০১০ সালে মেজর (অবঃ) বজলুল হুদা, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ, একেএম মহিউদ্দিন ও মহিউদ্দিন আহমেদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করা হয়।
পুলিশের ইন্টারপোল শাখা থেকে জানা গেছে, বাংলার অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার জন্য সকল ধরণের চেষ্টা চলছে। এজন্য বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ নিয়ে আইন, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিলে এক সঙ্গে কাজ করছে। পুলিশের ইন্টারপোল শাখা তৎপর রয়েছে। (চলচ্চিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের মাসিক সচিত্র বাংলাদেশ আগস্ট’২০১৬)
সূত্র মতে, পলাতকরা বিশ্বের যেখানে লুকিয়ে আছে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল ‘রেড এ্যালার্ট’ নোটিশ জারি করেছে। এ ধরণের নোটিশ বিশ্বব্যাপী ইন্টারপোলের সর্বোচ্চ নোটিশ। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স খুনিদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কাজ করছে।
টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা বলেন, কানাডা সরকার খুনি নুর চৌধুরীকে দেশে রাখতে চায় না। তার পাসপোর্ট জব্দ করেছে। প্রতিনিয়ত তাকে থানায় হাজিরা দিতে হচ্ছে। কিন্তু সে কানাডা সরকারের সঙ্গে দেন-দরবার করছে। সে বলে, ‘আমাকে যে দেশে পাঠানো হচ্ছে, সে-দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর রয়েছে। কানাডায় ফাঁসি নেই উল্লেখ করে সেই সুযোগই নিচ্ছে নুর চৌধুরী। তবে আমাদের সরকার কানাডিয়ান একটি ল’ ফার্মকে নিয়োগ দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করছে। আর পলাতক খুনিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকসহ সকল ধরণের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছে। তারা ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির পর থেকে ঘন ঘন আস্তানা পরিবর্তন করছে। তারা নানা বেশে অবস্থান নিয়ে পলাতক রয়েছে। কিন্তু বর্তমান মহাজোট সরকার বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, লিবিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, কেনিয়া, চীন, জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করছে। আর গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মামলার তদন্তকারী সিআইডি’র পক্ষ থেকে খুনিদের ফিরিয়ে আনতে তৎপরতা এখনো চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, পলাতক খুনি লেঃ কর্নেল এএম রাশেদ চৌধুরী আমেরিকায় অবস্থান করে সেখান থেকে কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। লেঃ কর্নেল এইচএমবি নুর চৌধুরী এখন কানাডায় লুকিয়ে আছে। লেঃ কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশীদ লিবিয়ার বেনগাজিতে অবস্থান করার খবর পাওয়া গেলেও এখন পাকিস্তানে আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মেজর শরিফুল ইসলাম ডালিম পাকিস্তান ও লিবিয়ায় আসা-যাওয়া করছে। ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন পাকিস্তানে লুকিয়ে আছে। কখনো কখনো লিবিয়ায় যায় বলে জানা গেছে। এভাবে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা নিজেদেরকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশের ইন্টারপোল শাখা ও টাস্কফোর্সে ধরা পড়ার ভয়ে নানাভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে দিন কাটাচ্ছে। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসি কার্যকরের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
পাঁচ খুনির ফাঁসি যেভাবে কার্যকর হয় ঃ- ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করার মধ্যদিয়ে জাতি তার অভিশাপ থেকে কিছুটা মুক্ত হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৫ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। খুনিদের লাশ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের করার সময় লাশ বহনকারী গাড়িতে থু থু আর জুতা নিক্ষেপ করে জনগণ তাদের বছরের পর বছর ধরে পুষে রাখা ক্ষোভ, ঘৃণা এবং কষ্টের বহিঃপ্রকাশ করে।
সেদিন সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ৫ আসামির রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দিলে শুরু হয় রায় কার্যকর করার প্রক্রিয়া। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় বাড়তি নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন নাজিম উদ্দিন রোডসহ আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেয় পুলিশ। রাত ১০টায় সিভিল সার্জন মুশফিকুর রহিম কারাগারে প্রবেশ করেন। চারদিকের উঁচু ভবনের ছাদে বসানো হয় পুলিশ প্রহরা। আশপাশের যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। রাত ১১টার দিকে আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকার সাবেক জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা মাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৪ জন ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান শিকদারও রাতে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। রাত ১২টার দিকে খুনিদের ঘুম থেকে জাগিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকরের সংবাদ দেওয়া হয়। এরপর ডাক্তার এসে আসামিদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে। ফাঁসি দেওয়ার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আসামিদের শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয়। কোনোকিছু খাওয়ার ইচ্ছা আছে কি-না তা জানতে চাওয়া হয়। আসামিদের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী দেওয়া হয় তাদের পছন্দের খাবার। আসামিদের গোসল করে মৌলভী ডেকে এনে তওবা করানো হয়।
রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে পর্যায়ক্রমে ফাঁসির রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে রাত ১২টা ৫ মিনিটে মেজর (অবঃ) বজলুল হুদাকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। এরপর সৈয়দ ফারুক রহমান ও সুলতান শাহরিয়ার রশীদকে ফাঁসি দেওয়া হয়। রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে একেএম মহিউদ্দিনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। সবশেষে রাত ১টা ৫ মিনিটে মহিউদ্দিন আহমেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ৫টি কফিন ঢোকানো হয়। খুনিদের মৃতদেহ আধ ঘন্টা ধরে ফাঁসিতে ঝোলা অবস্থায় থাকার পর নিচে নামানো হয়। সিভিল সার্জন পরীক্ষা করে খুনিদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ আত্মীয় স্বজনদের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করে। খুনিদের লাশ কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। নিজ নিজ জেলায়ও লাশ বহনকারী গাড়িতে ঝাঁটা-জুতা, থু থু নিক্ষেপ করে ক্ষোভ প্রদান করা হয়। তবে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার কারণে সেদিন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ফিরে দেখা ১৫ আগস্ট : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতিতে শোকের সাগরে ভাসিয়ে সপরিবার না ফেরার দেশে চলে গেছেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার নির্মমভাবে হত্যা করেছিল একদল রক্তপিপাসু বিপথগামী উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্য। যার ঐকান্তিক দেশপ্রেম, সাহসী নেতৃত্বে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্থান পেয়েছিল বাংলাদেশ, স্বাধীনতার মাত্র ৪ বছরের মাথায় সেই রাষ্ট্র হারিয়েছে তার গর্ব ও ইতিহাসের সেই মহানায়ককে। সদ্য স্বাধীন দেশ তার পথচলার শুরুতেই হোঁচট খায় ইতিহাসের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায়।
সেদিন নৃশংস হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে প্রাণ হারান তাঁর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, পুত্রবধূ রোজী কামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল, শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ সেরনিয়াবাত ও নঈম খান রিন্টুসহ আরো অনেকে।
সেদিন বিদেশে থাকার প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর “জ্যেষ্ঠ কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহেনা। জাতির পিতাকে হত্যার পর দীর্ঘদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ ছিল তিমিরাচ্ছন্ন। দেশ পরিচালনার নেতৃত্ব গ্রহণ করে অনির্বাচিত সরকার। তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে আশ্রয়-প্রশ্রয় পায় বঙ্গবন্ধুর খুনিরা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দেওয়া হয়। এমনকি বঙ্গবন্ধু যাদের নাগরিকত্ব বাতিল করেছিলেন তাদেরও নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ‘৭২-এর সংবিধান সংশোধন করে চার মূলনীতি পরিবর্তন ও ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড চালাতে সহায়তা করে। পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার সপরিবার হত্যা সব ভয়াবহতাকে ছাড়িয়ে গেছে। সেদিন দুগ্ধপোষ্য শিশু, অন্তঃস্বত্ত্বা স্ত্রী, প্রতিবন্ধী কেউই রেহাই পায়নি। হত্যাকান্ডে খুনিদের শাস্তি নিশ্চিত না করে বরং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের আড়াল করার অপচেষ্টা হয়েছে। এমনকি খুনিরা পুরস্কৃতও হয়েছে নানাভাবে। হত্যার বিচার ঠেকাতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাক সরকার। ঘাতকরা যেন নিরাপদে হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে সেজন্য সকল ব্যবস্থা ওই চক্র করেছিল। ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময় এই ঘটনায় খুনিরা অত্যন্ত প্রতাপ নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। দীর্ঘদিন জাতিকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে এ খুনের কলঙ্ক।
একটি রাষ্ট্রের স্থপতিকে সপরিবার খুনের ঘটনার পর অপরাধীদের দাম্ভিকতা প্রদর্শন পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। দীর্ঘ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে তাদের পরিবারের সব সদস্য হারানোর মর্মান্তিক বেদনা বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়েছে। শুধু তাই নয়, জাতির কাছে পিতা, মাতা ও স্বজন হারানোর বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের কেউ তাদের মর্মবেদনায় কর্ণপাত করেনি।
সময়ের পালাবদলে ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর এ হত্যাকান্ডের বিচারের পথ উন্মুক্ত করে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার অপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়। অনেক জটিলতায় বিচার সম্পন্ন হলেও রায় কার্যকরী করতে সময় লেগে যায় আরো ১০ বছর। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বহু প্রতীক্ষিত বিচারের রায় কার্যকর করে। ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি ৫ খুনির ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়। জাতিও মুক্তিলাভ করে সেই কলঙ্ক থেকে। পলাতক ঘাতকদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। পলাতক খুনিরা বিদেশে থেকে তাদের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এরপর সরকার নানা কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ষড়যন্ত্রকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দ জানান, বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। আর দেশে পলাতকদের স্থাবর-অস্থাবর কিছু সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ব্যাপারে সিআইডিসহ টাস্কফোর্স তৎপর রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ঘটনার ২১ বছর পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর বিভিন্ন সরকারের আমলে অনেক আলামত নষ্ট করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও দীর্ঘ সময় পর অক্লান্ত পরিশ্রম করে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ১০০ দিনের মধ্যে মামলা তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করা হয়েছিল। এই মামলা তদন্ত করতে গিয়ে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছিল। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসামি বজলুল হুদাকে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সিআইডি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পুলিশের ওপর যে দায়িত্ব আছে পুলিশ তা পালনে তৎপর রয়েছে।

 

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

যেখানে ৭১ কথা বলে

যেখানে ৭১ কথা বলে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২৬

একাত্তরের খুলনা বিজয়

একাত্তরের খুলনা বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২২



পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

পারুলিয়ায় গণহত্যা- ১৯৭১

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:২১



যুদ্ধকালীন স্মৃতি

যুদ্ধকালীন স্মৃতি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৭

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

ছবি আঁকায় পরাণ জুড়ায়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

বিজয়ের অর্জন প্রশ্ন পাশাপাশি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৪

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

শহীদ পরিবার থেকে বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:১৫



ব্রেকিং নিউজ






ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

ভাষা আন্দোলনের দিনগুলি

১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:৫০